বিশ্বের সাতটি আশ্চর্য স্থাপত্য

Spread the love

2000 সালে একটি ক্যাম্পেইন তৈরি করা হয় ! 200 টি নির্বাচিত মনমিনস থেকে পৃথিবীর আশ্চর্য গুলি বেছে নেওয়ার জন্য ইন্টারনেট ভোটিং এর দ্বারা জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে পৃথিবীর সাতটি আশ্চর্য কে নির্বাচিত করা হয় এবং কানাডিয়ান সুইচ বানট বেবারে এর নেতৃত্বে নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স ফাউন্ডেশন’ 2007 সালের 7 জুলাই লিসবানে বিজয় মনুমেন্টস গুলোর নাম ঘোষণা করে ! এবার এই সপ্তম আশ্চর্য গুলির নাম এবং এদের সম্বন্ধে কিছু তথ্য তুলে ধরবো !

1.Great Wall of China :-

চীনের মহাপ্রাচীর বা গ্রেট ওয়াল অফ চায়না যা চীনের ছাং ছং নামে প্রসিদ্ধ ! ২১১৯৬ দীর্ঘ এই দেওয়াল টি মূলত ইট-পাথর-মাটি -কাঠ অন্যান্য কিছু উপাদান দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল ! চীনের উত্তর সীমান্ত বরাবর পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে এই বৃহৎ দেওয়ালি তৈরি করার উদ্দেশ্য ছিল চীনের বিভিন্ন রাজ্য তথা সাম্রাজ্যকে বিভিন্ন জাজাবর জাতির আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখা ! সপ্তম শতাব্দীতেই প্রাচীর নির্মাণ আজ শুরু হলেও বহূ বছর ধরে নানান সম্রাটদের তত্ত্বাবধানে এই প্রাচীর সম্পূর্ণতা পায় এবং এই প্রাচীরে সবথেকে উল্লেখযোগ্য অংশ তৈরি হয় 220 থেকে 206 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে জৈনিক সম্রাট কিংস সী হোয়়ং এর আমলে !বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে চীনের এই মহাপ্রাচীর হল একমাত্র বস্তু যে চাঁদ থেকে দেখা যায় !

2.Petra :-

পেট্রা যা জর্ডানে অবস্থিত যা জর্ডানের দক্ষিণাংশে অবস্থিত ! একটি ঐতিহাসিক শহর হল পেট্রা ! এই শহরটি যাবার এবং মদ বাহার পাহাড়ের ঢালে বিভিন্ন পর্বতের মধ্যস্থ একটি উপত্যকায় অবস্থিত ! যা আরাবা উপত্যকার পূর্ব সীমান্ত হিসেবে পরিচিত !  সম্ভবত এটি চতুর্থ শতকে না বেতিয়ার সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে তৈরি করা হয় ! এই শহরটি পাথর কেটে স্থাপত্য নির্মাণ করার জন্য এবং জলনির্গম প্রণালী ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত এই শহরের অপর নাম রোজ সিটি ! এখানকার পাথরের রঙ এর গোলাপের মতো ! 985 সাল থেকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এর অন্তর্গত এবং বর্তমান সময়ে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র !

3.Christ the Redeemer :-

ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা যিশুখ্রিস্টের অপূর্ব সৌন্দর্য মূর্তি হলো এটি ! এটি প্রণয়নকারী ছিলেন ফরাসি ভাস্কর পল ল্যান্ডের স্কি এবং এটির নির্মাণ করেছিলেন ব্রাজিলের ইঞ্জিনিয়ার এটেল ডিসিলভা কষ্টা ! তার সহকারি অ্যালবাম ক্যকুটার সাথে এই মুহূর্তে মূর্তির মুখমণ্ডল ডিজাইন করেন রোমান ভাস্কর গার্গী লিওনেডা ১৯২২ থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে তৈরি এই মূর্তি ! 30 মিটার লম্বা ও হাত দুটি 28 মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত 635মেট্রিক টন ওজনের এই মূর্তিটি দাঁড়িয়ে রয়েছে 700 মিটার উচ্চতা সম্পন্ন কর্ক বাডো পাহাড়ের চূড়ার অবস্থিত তিজুকা ফরেস্ট ন্যাশনাল পার্কে ! যেখান থেকে পুরো শহরটাকে দেখতে পাওয়া যায় স্ট্যাচু টি ! সমগ্র পৃথিবীর খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতীক হিসাবে অবস্থিত !

4.The Taj Mahal :-

তাজমহল ভারতের আগ্রায় অবস্থিত যা মূলত যমুনা নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত ! সাদা মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি একটি সমাধি স্থল মোগল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয় পত্নী মমতাজের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তৈরি করেছিলেন ! 1632 খ্রিস্টাব্দে সতেরো হেক্টর জায়গা জুড়ে এই স্মৃতি সৌধের মধ্যবর্তী স্থানে মমতাজের সমাধিটি অবস্থিত ! এছাড়া রয়েছে একটি মসজিদ ও একটি অতিথির আবাস বা গেস্ট হাউস ! এই স্মৃতি সৌধটির উচ্চতা 73 মিটার ! মূল সমাধিস্থলটি তৈরি করার কাজ 1643 সালে সম্পূর্ণ হয়ে গেলেও বাকি অংশ গুলি তৈরি করতে লাগে আরো দশ বছর ! এটি তৈরি করতে তখনকার সময় খরচ হয়েছিল 32 মিলিয়ন যার বর্তমান মূল্য প্রায় 53 বিলিয়ান ! সম্রাটের সভায় আরকিটেক ওস্তাদ আহমেদ লাহোর তত্ত্বাবধানে প্রায় কুড়ি হাজার আর্টিস্ট কাজে যুক্ত ছিলেন ! এটি মোঘল যুগের স্থাপত্য ও ভারতের ঐতিহ্যপূর্ণ ইতিহাসের এক অন্যতম নিদর্শন !

5.The Colosseum :-

দ্য কলোসিয়াম যাকে ফেবিয়ান এম্পিথিয়েটার বলা হয় ! ইতালির রোমে প্রায় মধ্যস্থলে অবস্থিত চুনাপাথর ইট ও কনক্রিট দ্বারা নির্মিত এত বৃহৎ এম্পিথিয়েটার ! এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর অন্য কোথাও তৈরি হয়নি 72 খ্রিস্টাব্দে সম্রাট বেস পেশিয়ানের এর আমলে এটি নির্মাণ কার্য শুরু হয় এবং তার পুত্র টাইটাস এর আমলে 80 খ্রিস্টাব্দে নির্মাণকার্য সমাপ্ত হয় ! প্রায় 65 হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই এম্পিথিয়েটার টি ব্যবহৃত হতো যোদ্ধাদের প্রতিযোগিতা ,হিংস্র পশুদের শিকার করার মত খেলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক নাটক দেখানোর জন্য ! প্রাক মধ্যযুগ থেকে এই ইমারতটিতে বিনোদনমূলক কাজ বন্ধ করে দেয়া হয় !পরবর্তীকালে কিছু ধার্মিক কাজ এর জন্য এটি ব্যবহৃত হতো ! বর্তমানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র !

6.Chichen Itza :-

মায়া সভ্যতার একটি উল্লেখযোগ্য প্রাক কলম্বিয়ানস সভ্য হলো চিচেন ইৎজাযা ! মেক্সিকোর ইউকাতান রাজ্যে অবস্থিত ! শহরের মূল স্থাপত্যটি হলো এল ক্যাসিনো এই শহরের মধ্যবর্তী অংশ অবস্থিত ! এখানকার স্থাপত্য গুলিতে পাথরের উপর করা নানান ভাস্কর্য ও নিখুঁত গঠনশৈলীর পরিচয় পাওয়া যায় ! যা অত্যন্ত পরিকল্পনার সঙ্গে তৈরি করা হয়েছিল 2010সালে 29 শে মার্চ পর্যন্ত এটি কোন ব্যক্তির নিজস্ব মালিকাধীন ছিল ! যা মেক্সিকো গভর্মেন্ট পরে নিজের অধীনস্থ করেন !

7.Machu Picchu:-

15 শতকের ইনকা সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন পেরুর কাসকো অঞ্চলে অবস্থিত সমুদ্রতল থেকে2430 মিটার উঁচু একটি পাহাড় এ অবস্থিত মাচু পিচু ! অনেক আর্কিওলজিস্ট মনে করেন ইনকা সম্রাট পাচাগুটিরা আমলে এটি তৈরি করা হয় ! যাকে অনেক সময় লস সিটি অফ দ্য ইনকাস বলা হয় ! এখানকার মূল স্থাপত্য গুলি হল য়িন্তি হয়াতানা, টেম্পেল অফ দা সান অর্থাৎ সূর্য দেবের মন্দির দা রম অফ থ্রি উইন্ডোজ অর্থাৎ তিনটি জানালা বিশিষ্ট কক্ষ ! ইনকা সভ্যতা শিল্প এখানে বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয় ! আঞ্চলিক ভাবে এটি পরিচিত হলেও আন্তর্জাতিক ভাবে এই জায়গাটার উপর আলোকপাত করেন আমেরিকার ঐতিহাসিক হিরোম বিংহাম 1911 সালে ! 1983 সালে ইউনেস্কো এটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এ সম্মান দেয় !

এগুলো ছাড়াও আর একটি স্থাপত্য যা উল্লেখের দাবি রাখে তা হলো গ্রেট পিরামিড অফ গিজা ! যাকে একটি সাম্মানিক স্থান দেয়া হয় ! কারণ প্রাচীন সময় প্রকৃত সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে এটি একমাত্র স্থাপত্য ! বর্তমান সময় পর্যন্ত রয়ে গেছে মিশরে অবস্থিত তিনটি মূল পিরামিডের সবথেকে বড় এই পিরামিড ফেরান কুহূর পিরামিড হিসাবে পরিচিত ! যা 2560 খ্রিস্টাব্দে তৈরি করা হয়েছিল 481 ফুট উঁচু এই পিরামিডটি ! এক লাখ কুড়ি হাজার পাথরের ইট দিয়ে তৈরি এবং বাইরের অংশ পালিশ করা চুনাপাথরের দ্বারা আবৃত এই পিরামিড ! এর মধ্যে মূল তিনটি কক্ষ রয়েছে যার একটি পিরামিডের নিম্নতলের সঙ্গে যুক্ত অপেক্ষাকৃত ছোট কক্ষ এর ওপরে ক্রমান্বয়ে রাজা ও রানীর কক্ষ রয়েছে রানীর কক্ষটি সর্ববৃহৎ ! পিরামিডের প্রবেশ করার প্রতিটি কক্ষে যাওয়ার নির্দিষ্ট পথ রয়েছে ! পিরামিডের ভিতরের নিপুন গঠনশৈলী সবাইকে অবাক করে !


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *