চায়না কে কেন পৃথিবীর কারখানা বলা হয় ?

Spread the love

Why is China called the factory of the world?

আমাদের প্রতিনিয়ত দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অসংখ্য জিনিসের গায়ে যে লেখাটা সবচেয়ে বেশি লেখা থাকে সেটি হল মেড ইন চায়না। পৃথিবীর বেশিরভাগ পণ্য কেন চায়নায় উৎপাদিত হয় এবং চায়না কিভাবে পৃথিবীর কারখানা হয়ে উঠল তা আলোচনা করব ।

চায়না হলো পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ এ জনসংখ্যা প্রায় ১৩৮ কোটি। এত বিপুল সংখ্যক জনসংখ্যা এ দেশের অর্থনীতিকে গত ৩৮ বছরে আকাশ পাতালের পার্থক্য এনে দিয়েছে। ১৯৭৮ সালে চায়না জিডিপি ছিল ২০০ বিলিয়ন ডলারের। যা বিশ্বের মোট জিডিপির মাত্র ৪ শতাংশ। আর বর্তমানে জিডিপি হয়েছে ১১ তিলিয়ন ডলারের যা বিশ্বের মোট জিডিপির ৫০ শতাংশ। এত বিপুল অর্থ অর্থনৈতিক উন্নতির কারণ হল চায়না এখন পৃথিবীর কারখানা ঠিক এই মূহুর্তেও আপনি চায়না উৎপাদিত পণ্য ব্যবহার করছেন। স্মার্ট ফোন, কম্পিউটার বা টেবলেট যে ডিভাইস থেকেই হোক না কেন আপনি এই লেখাটি পড়ছেন নিশ্চিতভাবে বলা যায় সেটিও সম্পূর্ণ অথবা আংশিক ভাবে চায়না উৎপাদিত একটি বস্তু।

Why is China called the factory of the world?

চায়নায় অর্থনীতি উৎপাদনের যাত্রা শুরু করে ১৯৭৮ সালে। মাও সেতুং এর মৃত্যুর পরে চায়নায় কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে আসে বেং জিও পিন । তিনি ক্ষমতায় আসার পরই ব্যাংকক সিঙ্গাপুর সহ এশিয়ার উন্নত শহর গুলিকে পরিদর্শন করে চায়নার জন্য এক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকেন। বিপুল সংখ্যক জনসংখ্যার জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তিনি চারটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলেন। চায়না সমাজতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও কিছু কিছু খাতকে তিনি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং সেই সাথে বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

Why is China called the factory of the world?

আশির দশকের শুরুর দিকে সমগ্র চায়না থেকে দরিদ্র লোকজন কাজের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গুলোতে এসে ভিড় করে। কাজের তুলনায় শ্রমিক বেশি হয়ার কারণে মজুরি কমে যায় ব্যাপক হারে। তৎকালীন সময়ে চায়না শিশু শ্রমিক এবং সর্বনিম্ন মজুরি ব্যাপারে কোনো আইন ছিলনা। আর তাই বিনিয়োগকারীরা নামমাত্র পারিশ্রমিকের বিনিয়োগে পেয়ে যায় প্রচুর শ্রমিক। আমেরিকায় একজন শ্রমিক এক ঘন্টা কাজ করে যে পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে সেই পরিমাণ অর্থ চায়নার একজন শ্রমিক উপার্জন করতে সময় যায় এক সপ্তাহ।

Why is China called the factory of the world?

শুধু সস্তা শ্রমিকই নয় চায়না পৃথিবীর কারখানা হয়ে ওঠার জন্য আরেকটি অন্যতম কারণ হল এর উৎপাদন ব্যবস্থা। শিল্পোউৎপাদন কোন বিচ্ছিন্ন পরিবেশে বিকশিত হতে পারে না। আর তাই সরকার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রয়োজনীয় কাঁচামাল উৎপাদন, সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণ এর এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে চায়নায়। উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে জড়িত প্রতিটি ধাপের প্রয়োজনীয় সকল জিনিস পাওয়া যায় খুব সহজে এবং কম মূল্যে। এক কথায় বলা যায় চায়নার অর্থনীতি ব্যবসায়িক বাস্তু নীতি স্থান অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।

Why is China called the factory of the world?

শিল্প উৎপাদন এর শুরুর দিকে চায়নার প্রতিটি অঞ্চল নিজেদের পণ্য নিজেরাই উৎপাদন করত। কিন্তু চায়নার এই নামমাত্র মজুরি শ্রমিক ও সস্তা পরিবহন ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী বৃহৎ উৎপাদনকারী কে চায়নায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী করে তোলে। চায়নায় উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে এর উৎপাদিত প্রযুক্তি পণ্যের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে বিশ্বব্যাপী। চীনের গুয়াংডং প্রদেশ সেন জেং কে বিশ্বের প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনের রাজধানী বলা যায়। বিশ্বে উৎপাদিত সকল ইলেকট্রিক পণ্যের ৯০ শতাংশ পণ্য ও এর যন্ত্রাংশ এখানে উৎপাদিত হয়। সনি, স্যামসাং, মাইক্রোসফট, অ্যাপল ও করম্নন এর মত প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের পণ্য এখানে উৎপাদন করে থাকেন।


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *