মৃত সাগর বা ডেড সি কি ?

Spread the love

What is the Dead Sea or the Dead Sea?
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মৃত সাগর প্রকৃতপক্ষে এটি কোন সাগর নয় এটি হলো একটি হ্রদ। অন্য যে কোন সাগরের চেয়ে এই সাগরের জল ১০ গুণ বেশি লবণাক্ত হওয়ার কারণে এই জলে কোন উদ্ভিদ বা প্রাণী বাঁচতে পারে না। আর এর জন্যই এর নাম দেয়া হয়েছে মৃত সাগর বা ডেড সি। এখানে অত্যাধিক লবণের কারণে এই সাগরের জলে আপনি অনায়াসে হাত-পা ছড়িয়ে ভেসে থাকতে পারবেন। কেউ যদি এখানে সাঁতার কাটতে ও না জানে সেও কিছুতেই এখানে ঢুকবে না। মৃত সাগরের পৃষ্ঠ ভাগ যেকোনো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ মিটার নিচে অবস্থিত। তাই একে ভূপৃষ্ঠের সবথেকে নিম্নভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আজকে আমরা আলোচনা করব এই মৃত সাগর কি? এবং একে মৃত সাগর বলা হয় কেন?
What is the Dead Sea or the Dead Sea?
মৃত সাগরের পূর্ব সীমান্তে রয়েছে জর্ডান এবং পশ্চিম সীমান্ত রয়েছে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন। প্রায় ৩০ লক্ষ বছর আগে বর্তমান জর্ডান নদী মৃত সাগর এবং ওয়াদি আলাবা অঞল এর সাগরের জলে একাধিকবার প্লাবিত হওয়ার ফলে একটি সরু ধরনের উপসাগর এর সৃষ্টি হয়, উপসাগর টি জেজ রিল উপত্যকায় একটি সরু সংযোগের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে প্রায় কুড়ি লক্ষ বছর আগে জেজ রিল উপত্যকা এবং ভূমধ্যসাগরে মধ্যবর্তী স্থল ভাগ ধীরে ধীরে উঁচু হতে থাকে। একপর্যায়ে উপসাগর টি চারিদিকে ভূমি দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে এক বিশাল হ্রদে পরিণত হয়েছে।What is the Dead Sea or the Dead Sea?
বর্তমানে এই হ্রদ এর সর্বোচ্চ গভীরতা ১২৪০ ফুট, এবং এর দৈর্ঘ্য ৬৭ কিলোমিটার প্রস্থ সর্বোচ্চ ১৮কিলোমিটার। মৃত সাগরের জলে ভেসে থাকার জন্য আপনাকে কোন রকম সাঁতার না জানলেও চলবে। আপনি এখানে নিশ্চিন্তে ভেশে থাকতে পারবেন। এমনকি আপনি চাইলেও ডুবে যেতে পারবেন না। অত্যন্ত লবণাক্ত হওয়ার কারণেই জল এর প্লবতা অনেক বেশি। প্লবতা হল জলের ভাসমান কোনো বস্তুর উপর জলের ঊর্ধ্বমুখী বল। কোন বস্তুকে জলে ছেড়ে দেয়া হলে বস্তুর ওজন নিচের দিকে একটা বল প্রয়োগ করে সেই সাথে জল বস্তুকে উপরের দিকে ঠেলে দেয়। যদি বস্তুর ওজন বেশি হয় তবে বস্তু ডুবে যায় ,আর যদি জলের ঊর্ধ্বমুখী বল বেশি হয় তবে বস্তুর জলে ভেসে থাকে। অর্থাৎ জলে ভাসমান কোন বস্তুর উপর প্রযুক্ত জলের ঊর্ধ্বমুখী বলই হলো ঊর্ধ্বমুখী প্লবতা।
What is the Dead Sea or the Dead Sea?
মৃত সাগরের জলের অধিক প্লবতার কারণে এখানে অনায়াসে ভেসে থাকা যায়। মৃত সাগরের জলের প্লবতা এত বেশি হওয়ার কারণ হল এই জলের অধিক লবণাক্ততা। এই জলে লবণের পরিমাণ ৩৪.২ শতাংশ। অর্থাৎ এই সাগরে ১০০ ভাগ জলেতে প্রায় ৩৪ গ্রামে ই লবণ। যা সাধারণ সমুদ্রের চেয়ে ১০ গুণ বেশি লবণাক্ত। অন্যান্য সাগরের জল মৃত সাগরের জলে মিশে থাকা খনিজ উপাদান গুলির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মৃত সাগরের জলে লবনের রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড ৫০ শতাংশ, সোডিয়াম ক্লোরাইড ৩০ শতাংশ, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ১৪ শতাংশ, এবং পটাশিয়াম ক্লোরাইড ৪ শতাংশ। এই অত্যাধিক লবনের কারনে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিবেশে মাছ বা অন্য কোন জলজ প্রাণী বসবাস করতে পারে না এ জলাভূমিতে কোন প্রাণী বাঁচে না বলেই একে মৃত সাগর বলে নামকরণ করা হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি এখানে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জাতীয় অনুজীবের সন্ধান পাওয়া গেছে। মৃতসাগর অঞ্চলটি দিনদিন চিকিৎসাশাস্ত্রের গবেষণার জন্য তীর্থস্থানে পরিণত হয়ে উঠছে। প্রাকৃতিকভাবে হ্রদ এর জলে খনিজ দ্রব্যের বিপুল উপস্থিতি বাতাসে অ্যালার্জি উৎপাদক ও পরাগরেণুর স্বল্পতা ও উচ্চতার বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ও সৌর বিকিরণের অতিবেগুনি রশ্মির কম উপস্থিতি ইত্যাদি কারণে মৃত সাগরের অঞ্জল টি মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক নিচুতে অবস্থিত হওয়ার কারণে পৃথিবীর অন্য যেকোন স্থানের তুলনায় এখানে অক্সিজেনের মাত্রা প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। এখানকার বায়ু প্রাকৃতিকভাবেই প্রফুল্ল কারক।বিশেষ করে শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য এখানকার পরিবেশ এবং উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় চাপ বেশ উপকারী।
What is the Dead Sea or the Dead Sea?
এছাড়া এই সাগরের লবণাক্ত কাদা ঔষধি ও প্রসাধনী গুণের কারণে প্রসিদ্ধ। নানা ধরনের চর্ম রোগের চিকিৎসায় এর কাদা ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও পর্যটকেরা প্রাকৃতিক প্রসাধনী হিসাবেও এই কাদা গায়ে মেখে সূর্যের স্নান করেন। এই অঞ্চলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি স্বল্পতা সূর্যের উষ্ণায়নের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। বিগত কয়েক শতাব্দীতে মৃত সাগর আয়তন পরিবর্তন হয়েছে আশঙ্কাজনক হারে। বর্তমানে এ সাগরের গভীরতা সবচেয়ে কম। অতীতে বহুবার মৃত সাগরের গভীরতা কমে গেলেও পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সাগরের বৃদ্ধির আর কোনো সুযোগ নেই।
What is the Dead Sea or the Dead Sea?
কারণ ১৯৬০ দশকে ইজরাইল মৃত সাগরে জর্ডান নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়। এরপর জর্ডান ও তাদের ইয়ারমুক নদীর মুখ পরিবর্তন করে দেয় ফলে কার্যত মৃত সাগর আবদ্ধ হয়ে পড়ে। এরপর বাইরের কোনো প্রাকৃতিক জলের উৎস গিয়ে পথিত হয়নি। বিগত ৫০বছরে মৃত সাগর প্রায় ৪০০ মিটারের বেশি কমে গেছে। সাগরের জল কমে যাওয়ার সাথে সাথে কমে গেছে এ জলে লবণের পরিমাণও। মৃত সাগরের কোন প্রাকৃতিক শাখা-প্রশাখা না থাকার কারণে শুধুমাত্র সূর্যের তাপে এর জল বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে। জল বাষ্প হয়ে উড়ে গেলেও এর বিবৃতি লবণ তলানীতে পড়ে থাকে। এর ফলে দিন দিন এটি পৃথিবীর সবচেয়ে লবণাক্ত জলে পরিণত হচ্ছে। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫ মিটার করে এ সাগরের জলের স্তর নেমে যায়। পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু স্থান দিনদিন নিচু থেকে নিচু তর হয়ে যাচ্ছে।
What is the Dead Sea or the Dead Sea?
নিজে উপাদানে ভরপুর ভৌগলিক ভাবে অনুপম মৃতসাগর নিজেই বর্তমানে মৃতপ্রায়। সাগর কে কেন্দ্র করে পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নেই। যেখানে যেভাবে খুশি গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেল। ইসরাইল এবং জর্ডান মৃত সাগরের সংরক্ষণে এখনো পর্যন্ত একত্রিত হয়ে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। বরং মৃত সাগরের পাড়ে কে কার আগে বেশি বেশি অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে তানিয়ে ইসরাইল এবং জর্ডান এরমধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। এখানকার খনিজ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে মৃত সাগর পাড়ের দুই দেশ। মৃত সাগরের জলে মিশে থাকা পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং লবণ আরোহের জন্য জর

Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *