অতি প্রয়োজনীয় আবেদন

Spread the love

ইতালির অবস্থা খুব খারাপ ! কবর দেওয়ার লোক পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না ! ইতালিতে এক একদিনে পাঁচশোর কাছাকাছি লোক মারা যাচ্ছেন ! ইরানে গণকবর খোঁড়া হচ্ছে ! যতদিন চীনে এরকম হয়েছিল ,খবর পাচ্ছিলাম উহান প্রদেশ উজাড় হয়ে যাচ্ছে ততদিন ইউরোপে বসে ভারতে বসে আমরা সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কিছুই করিনি ! তাই আজ ইউরোপের এই অবস্থা ! মাত্র একমাসের ব্যবধানে ! এখন আমাদের দরজার দাঁড়িয়ে আছে মারণরোগ ! জানতে না দিয়ে !

না আতঙ্ক ছাড়ানোর জন্যে লিখছি না ! ইতালি যে ভুল করেছিল ভারত সে ভুল যেন না করে ! শুধু টিভি বা খবরের দর্শক হয়ে নয় , কিছু করার আবেদন এটা ! হোয়াইটসপ বা ফেসবুকের ভুয়ো খবর নয় , বরং সচেতনতা ছাড়ান ! পরিসংখ্যান বলছে ভারতে মাত্র দুই সপ্তাহ যদি আমরা ঘরবন্দি হয়ে থাকি থাহলে আমাদের অবস্থা ইতালি বা ফ্রান্সের মতো হবে না ! ইতালি ইরান ফ্ৰান্স অনেক দেরি করেছে , ভারতীয়দের হাতে এখনো কিছুটা সময় আছে ! দুই সপ্তাহ ঘোরা- বেড়ানো বা অদরকারি কাজগুলোকে মুলতুবি রাখুন ! দু সপ্তাহ ছুটি কাটান ঘরে বসে ,অযথা দোকান বাজার ছোটাছুটি করে নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না ! এই দু সপ্তাহ খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ ! দু সপ্তাহ পর সেলফ কোয়ারেন্টাইন এর আর কোনো প্রয়জোনীয়তা থাকবে না ! প্রকোপ একেবারে কমে যেতে পারে , নইলে হয়তো ঘরে বসে বসে ও আক্রন্ত হতে পারেন !

আসুন , আমরা আগামী দু -সপ্তাহে মাত্র তিনটে কাজ করি ! বেশি না তিনটে কাজ

*এক –বাইরে বেরোনো বন্ধ করে দিই ! বন্ধ মানে বন্ধ ! পাড়ার চায়ের দোকান টুকুও নয় ! আত্মীয় বন্ধু প্রতিবেশী কারোর বাড়ি যাবেন না ! তাদের ও নিজের বাড়িতে ডাকবেন না ! যেখানে ভিড় বেশি ,দশ জনের বেশি লোক জমায়েত হয়েছে সে জায়গা এড়িয়ে চলুন ,সে শপিং মল হোক কি ধর্মীয় স্থান ! দু সপ্তাহ সেদ্ধ ভাত খেয়ে কাটিয়ে দিন ! চাল -ডাল-আলু -পিয়াজ মজুত আছে এতদিনে ! বিরিয়ানি মসলা কিনতে না বেরোনোর প্রতিজ্ঞা করুন !

 

*দুই — সাধারণ হাইজিন মেনে চলি ! খাবার আগে এবং ঘন্টায় অন্তত একবার করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন ! নাকে -মুখে হাত যথা সম্ভব কম দিন , হাত না ধুয়ে তো নয় !

 

#তিন, “আমি একা কি করব? সবাই তো মানছে না” – এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন। আপনার মাধ্যমে যদি একজনও ক্ষতিগ্রস্থ হয় সে হল আপনার প্রিয়জন। বাবা-মা-স্বামী-স্ত্রী-সন্তান। যার সঙ্গে আপনি দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছেন তাকে আপনিই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন না তো? বয়স্ক মানুষ ছাড়াও যাদের হাইপ্রেসার, সুগার, হার্টের অসুখ, কিডনি, ক্যান্সার বা অন্য কোনো সাধারণ ক্রনিক রোগ আছে, করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে এলে তাঁদেরও মৃত্যুর হার কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

 

তিনটে বিষয়, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বাইরে না বেরোনো। কতদিন না বেরিয়ে সম্ভব ? ঠিকক দু-সপ্তাহ ।আপনি হয়ত স্ট্রং, সাধারণ ফ্লুয়ের উপসর্গও নেই। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও আপনি হয়তো ঠিকক সুস্থ হয়ে যাবেন। কিন্তু চোদ্দদিনের মধ্যে আপনি যদি কোন অন্য মানুষের সংস্পর্শে আসেন তাহলে তাঁর জীবন বিপন্ন হতে পারে। এটা ভেবে শিক্ষিত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে যদি এটুকু মেনে চলেন তাহলেই আমরা অনেকটা নিরাপদ থাকব।

 

আসুন দেখিয়ে দিই, প্রথম বিশ্বও যেটা পারেনি, আমাদের গরিব দেশ সেটা করে দেখিয়েছে।

একটা জরুরি তথ্য জানাই

 

  2020  এর ফেব্রুয়ারি মাসের ২৭ তারিখ—-রোমে তখন ও পাস্তা পিৎজার ক্যাফে গুলো ভর্তি ! ফন্টানা দি ট্রেভিতে তখন ও থিকথিকে ভিড় ! চারিদিকে সোনা যাচ্ছে রোগ হচ্ছে কিছু মানুষের ,টিভিতে দেখাচ্ছে নতুন কেস ধারা পড়েছে ইত্যাদি !

কিন্তু তখন ও সাধারণ মানুষ অফিস যাচ্ছে ,কাজে যাচ্ছে –আজ ভারতের মতোই !

তখন ও মানুষ বাইরে বেরোচ্ছে ,পানশালা যাচ্ছে ,আড্ডা দিচ্ছে –আজ ভারতের মতই !

চাকরিতে ছুটি না পাওয়া মানুষ ভাবছে , না গেলে যদি চাকরি চলে যায় ? —আজ ভারতের মতই !

ভাবছে ,বাড়ির আসে পাশেই থাকবো ,কি আর হবে ? –আজ ভারতের মতোই !

ইতালিতে তখন দ্বিতীয় স্টেজ , তৃতীয় সপ্তাহ —আজ ভারতের মতোই !

এই অব্দি সব মিল আছে , এরপরের ব্যাপারটা ভবিষৎ !

ইতালির ভবিষৎ লেখা হয়ে গেছে ! এক লাফে ,তৃতীয় সপ্তাহে ১০৩৬ থেকে চতুর্থ সপ্তাহে ৬৩৬২ !
ইরানে তৃতীয় সপ্তাহে ছিল ২৪৫ ,ভারতের আপাতত তৃতীয় সপ্তাহে ২৭৬ .ইরান তৃতীয় থেকে চতুর্থ সপ্তাহে ২৪৫ থেকে এক লাফে বেড়ে ৪৭৪৭ .

মিল আরেকটা হচ্ছে ,ইতালি বা ইরানে তৃতীয় সপ্তাহে ও সবাই এটাকে বিশেষ গুরুত্ত দেননি ! অনেকেই ভেবেছেন যার হচ্ছে হোক , আমার হবে না ! ভারতেও আমরা অনেকটাই ক্যাজুলাই নিচ্ছি এভাবেই ! সবই করে যাচ্ছি , বাইরেও যাচ্ছি অফিসে যাচ্ছি কিন্তু বুকে ভয় নিয়ে !

আজ আমরা ভাবতেও পারছি না , ঠিক পরের সপ্তাহ আমাদের জন্য কি বিভীষিকা নিয়ে আসছে ! আজকের ২৭৬ সংখ্যাটি পরের সপ্তাহে ২০০০/৪০০০/৮০০০/ কিংবা ১০০০০ …….,তা কিছুই হতে পারে ! ভারতের মতো জনবহুল ও ভিড় দেশে এটা খুব স্বাভাবিক , যদি আমরা সতর্ক না হই !

*     ভাবুন ,আজ আপনি যে কারণে অফিসে বাধ্য হয়ে যাবেন ,সেই জব সিকিউরিটির কি হবে যদি আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ আক্রান্ত হয় ! বা তার থেকে ও ভয়ঙ্কর -মারা যান ! কে করবে এই চাকরি তখন ? কার জন্য করবেন ?

 

*    যে বস আজ কাজে যেতে বলছে , সেই বস সেদিন আসবে না আপনার প্রিয়জনের বা আপনার প্রাণটা ধরতে ! আগে প্রাণে বাঁচুন ভাই, তারপর চাকরির কথা ভাববেন !

 

সমস্যা হচ্ছে , এই লেখাটি যখন আপনি পড়বেন , তখন ও করোনা আপনার ধারে কাছে পৌঁছায়নি ! বা পৌঁছেছে ,আপনি জানেন না -সিম্পটম বেরিয়ে আসতে সময় তো লাগে ! কিন্তু যখন জানবেন , দেখবেন চারপাশে কেউ বাকি নেই , সেদিন যতই মাথা দেওয়ালে ঠুকে বেড়ান , এই তৃতীয় সপ্তাহ আর ফেরত পাবেন না ! তখন আপনি ঢুকে পড়েছেন আপনার চারপাশে হাজার হাজার করোনা পজিটিভ রুগী নিয়ে !

*    সেটার মানেই আপনি মরবেন এমন না ! কিন্তু সরকারের সেইসময় আর কিছু করার থাকবেনা ! তার কাছে আপনাদের রাখার জায়গা নেই , পরিকাঠামো নেই !এতো সংখক মানুষের চিকিৎসা করার উপায় নেই -সরকার তখন কি করবে ? সরকার তখন সেটাই করবে যেটা আজ বাধ্য হয়ে ইতালি করছে …পাঁচ জনরোগী এলে এবং দুটো বেড থাকলে ,ওই পাঁচজনের মধ্যে সব থেকে বেটার অবস্থার দুজনকে বেছে নিচ্ছে ,বাকিদের মরার জন্যে ছেড়ে দিচ্ছে ! সরকার তখন এটাই করবে বাধ্য হয়ে !

 

*   ইতালির মতো উন্নত দেশ এর মোকাবিলা করতে ব্যর্থ সবরকম সুযোক সুবিধে আমাদের থেকে অনেক ভালো থাকা সত্ত্বেও ! ভাবতে পারেন, ভারতের মতো জনবহুল দেশে এই বার্স্ট হলে কি অবস্থা হবে !
ইতালি তবুও জানতে পারেনি , কি আসতে চলেছে তাদের দিকে , তারা ক্যাজুয়েলি নিয়েছে , কারণ তাদের সামনে অন্য একটা ইতালির উদহারণ ছিল না ! পঞ্চম সপ্তাহে তারা হটাৎ ২৫০০০ এর কাছাকাছি !


আমাদের সামনে ইতালি, চীন সহ বিভিন্ন দেশের উদহারণ স্পষ্ট ! এর পরেও আমরা যদি সতর্ক না হই ,যদি সংযত না হই এবং নিজেদের বাড়ির মধ্যে আটকে না রাখি , সেলফ আইসোলসনে না থাকি , তাহলে পরে কেঁদে কুল পাওয়া যাবে না !
বরং বলা ভালো , আপনার জন্য কাঁদার লোক পাবে না ! তাদের বোঝান ,আমরা না জেনেই অনেক বিপদ ডেকে ফেলেছি !
বাড়িতে থাকুন ! নিজের জন্য , নিজের পরিবারের জন্য এবং নিজের দেশের জন্য ! এর একমাত্র ঔষধ এটাই ….

আসুন দেখিয়ে দেই, প্রথম বিশ্ব ও যেটা পারে নি ,আমাদের গরিব দেশ সেটা করে দেখিয়েছে !

 


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *