হাওড়া ব্রিজের অজানা ইতিহাস

Spread the love

asogalpokari.in

২০১৮ সালের ৩ রা ফেব্রুয়ারি হাওড়া ব্রিজ অতিক্রম করে ৭৫ তম জন্মদিন। তাই বাংলাও বাঙালির গর্ব হাওড়ার এই ঐতিহাসিক ব্রিজ টিকে নিয়ে আজকে আমাদের আলোচনা !

 

কলকাতার কথা উঠলেই প্রথমেই যে চিত্র গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠে-তাদের মধ্যে অন্যতম হলো হাওড়ার ব্রিজ। হুগলি নদীর উপরে অবস্থিত প্রকাণ্ড এই সেতুটি কলকাতা ও তার সংলগ্ন শহরগুলির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে।

এই ব্রিজ টি নির্মাণ করেন তিনজন ব্রিটিশ আর্কেটিক। সেই তিনজন ব্রিটিশ আর্কেটিক হলো রেনডেল, পালমার ও ট্রিটঅন। ১৯৩৬ সালে শুরু হয় এই ব্রিজ নির্মাণের কাজ । প্রায় সাত বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর ১৯৪৩ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি হাওড়া ব্রিজ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এই ব্রিজে প্রথম যেই যানটি চালানো হয় সেটি ছিল একটি সলিটারি ট্রাম।

হাওড়া ব্রিজ বর্তমানে পৃথিবীর শষ্ঠ বৃহত্তম ঝুলন্ত ব্রিজ। নির্মাণের সময় এটি ছিল পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম ব্রিজ। এই ব্রীজের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ব্যাপারটি হল ব্রিজ টি তৈরি করার সময় একটিও নাট-বল্টু ব্যবহার করা হয়নি। ব্রিজ টি নির্মাণ করতে লেগেছিল ২৬৫০০ টন ইস্পাত। টাটা স্টিলের উৎপাদিত ইস্পাতে তৈরি হয় এই ব্রিজ। হাওড়া ব্রিজ লম্বায় ৭০৫ মিটার ও চাওরায়২১.৬ মিটার।

সাধারণ মানুষ চলাফেরার জন্য এই ব্রিজের দুই দিকে দুটি বড় বড় ফুটপাত রয়েছে। কিন্তু হাওড়া ব্রিজের খ্যাতি অন্য কারণে, এটিকে বলা হয় পৃথিবীর ব্যস্ততম সেতু । প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষেরও বেশি যানবাহন পারাপার করে এই ব্রিজ দিয়ে। এবং প্রতিদিন ৫ লক্ষেরও বেশী লোক হেঁটে এই সেতু পারাপার করে।

কলকাতায় বেড়াতে আসা পর্যটক এর কাছে এটি একটি দেখার মত টুরিস্ট স্পট । সুতরাং পর্যটকদের ভিড় সব সময় লেগেই থাকে এই ব্রিজে। বর্তমানকালে হাওড়া ব্রিজ এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে কলকাতা পর্ট ট্রাস্ট। এই ঐতিহাসিক ব্রিজ টি কে রং করতে গড়ে ৬৫ লাখ টাকা খরচ হয় ও ২৬৫০০ লিটার রং লাগে।

Howrah Bridge

১৯৬৫ সালে ব্রিজ টির আরেকটি নামকরণ করা হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে সম্মান জানিয়ে নাম দেয়া হয় রবীন্দ্র সেতু। কিন্তু আজ ও এই ব্রিজ হাওড়া ব্রিজ নামেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

বহু বাংলা হিন্দি সহ বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে হাওড়া ব্রিজ কে তুলে ধরা হয়েছে। এমনিতে কলকাতা ভূমিকম্প এলাকা না হলেও হাওড়া ব্রিজকে এমন প্রযুক্তিতে বানানো হয়েছে যে-যে কোন ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প এটি সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

Howrah Bridge

কিন্তু বৈজ্ঞানিকরা বলছেন বর্তমানে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে একটি বিশেষ কারণে। আর সেই কারণ শুনলে আপনি চমকে উঠবেন। তারা বলছেন প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এই সেতু পারাপার করে আর তাদের ফেরানো পান ও গুড কার পিচ এই সেতুর প্রধান উপকরণ ইস্পাতের ক্ষতি করছে। যা হয়তো ভবিষ্যতে এই সেতুর ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

হাওড়ার ব্রিজ বাংলার গর্ব, বাঙালির গর্ব আসুন আমরা সবাই মিলে এই ঐতিহাসিক ব্রিজ এর রক্ষা করি।


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *