মহেঞ্জোদারোর ধ্বংস স্তূপ

Spread the love

এটি একটি পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর। এটি ৪৬০০ বছর পুরনো ও আধুনিক একটি শহর। বর্তমানে এটা একটা ধ্বংস স্তূপ এটি ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ আছে। এই শহর টি হরপ্যা সভ্যতার প্রধান শহর ছিল। এটি পাকিস্থানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় সিন্ধু নদীর তীরে অবস্থিত। এই মহেঞ্জোদারো শব্দের অর্থ হলো মৃতের স্তূপ।

আবিষ্কার:-
১৮৫৬ সালে একজন ইংরেজ ইঞ্জিনিয়ার পাকিস্থানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় সিন্ধু নদীর তীরে রেল লাইন তৈরী করেছিলেন , কাজ করার সময় মাটির তলায় অনেক পুরনো ইট পায় যে গুলো আজকের মতোই ছিল। এবং তিনি প্রথম এটির সন্ধান পেয়ে ছিলেন । ১৯২২ সালে রাখাল দাস বন্দোপাধ্যায় মহেঞ্জোদারো পুনঃ আবিষ্কার করেন।

জীবন শৈলী:-
মহেঞ্জোদারো বসবাস করা মানুষদের থাকার পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি অবাক করে দেয়। এটি তখনকার সময়ে আমেরিকা ও ইউরোপের থেকে বেশি উন্নত ছিল। মনে করা হয় পৃথিবীতে প্রথম পাতকুয়া ব্যাবহার করে এই হরপ্পা সভ্যতার মানুষেরা।

রাস্তা ঘাট :-
সিন্ধু নদীর তীরে অবস্থিত সবচেয়ে পুরানো শহর ছিল এই মহেঞ্জোদারো। এখানকার রাস্তা গুলো এলোপাথাড়ি তৈরি হয়নি। প্রত্যেকটি রাস্তারই একটি নির্দিষ্ট ধারা ছিল। এবং এ কার্যকলাপ থেকে মনে করা হয় এখানকার মানুষ গণিত শাস্ত্রে যথেষ্ট জ্ঞান ছিল।

প্রয়: প্রণালী :-
মহেঞ্জোদারো কোনো সাধারণ শহর ছিল না, এই শহরে বড় বড় ঘর , রাস্তা ও কুয়া থাকার প্রমাণ মিলেছে। এখানে নোংরা জল বের হও য়ার জন্য ড্রেনের ব্যবস্থা ছিল। এখানকার মানুষেরা এতটাই সজাগ ছিল যা হয় তো এখনকার মানুষের মধ্যে নেই।

শস্য ভান্ডার:-
এখানকার মানুষরা চাষবাস করত। খাদ্য শস্য মজুত করে রাখার জন্যে বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। শস্যউৎপাদনের আদান প্রদান করার জন্য উপযোগী রাস্তা ছিল। এমনকি খাদ্য শস্য অনেক দিন ভালো যাতে থাকে তার ব্যবস্থা ছিল।

চিকিৎসাশাস্ত্র:-
এখানে খনন করার সময় পাওয়া কঙ্কাল গুলোর দাঁত যখন পর্যবেক্ষণ করা হয় তখন দেখা যায় ওই সময় কার মানুষেরা আজকের মতো নকল দাঁত ব্যবহার করত। এ থেকে বোঝা যায় হরপ্পা সভ্যতার মানুষেরা চিকিৎসাশাস্ত্র তে বেশ উন্নত ছিল।

শিল্প ও সংস্কৃতি:-
শিল্প কলায় এখানকার মানুষের যে আগ্রহ ছিল সে নজির পাওয়া যায়। পোড়া মাটির তৈরি নানা নিদর্শন পাওয়া যায় ও আদিবাসীদের মধ্যে অলঙ্কার ব্যবহারের প্রচলন ছিল। পুরাতাত্ম বিদদের মতে এই সভ্যতার মানুষেরা গানবাজনা ও খেলাধুলা চর্চা করত। গবেষকরা কিছু মিউজিক ইনস্ট্রুমেন্ট ও খেলনা পয়েছেন। এছাড়া শিল্প কলা ও বিভিন্ন মূর্তি পাওয়া গেছে।

নগরের পতন:-
কখন, কিভাবে মহেঞ্জোদারো ধ্বংস হয়ে গেল তা আজও প্রত্নতত্তবিদদের কাছে অজানা। বিজ্ঞানীরা এখানে কয়েকটা জিনিসের কর্বডেটিং করার পর কয়েকটা বিষয় তুলে ধরেছেন ! তারা মনে করেন জলবায়ু বিরাট পরিবর্তন এই শহর ধ্বংস হওয়ার প্রধান কারণ হতে পারে। ধীরে ধীরে সিন্ধু নদীর গতিপথ পরিবর্তন এর ফলে এখানে জলের অভাব দেখা দেয়, সেই সাথে আবহাওয়া কোনো বিপদ ডেকে এনেছিল। যার ফলে হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংস হয়ে যায়। তবে ধ্বংসের আসল কারণ কি তা এখনও পর্যন্ত সবার অজানা।


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *