পৃথিবীর কিছু রহস্যময় জায়গা

Spread the love

পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ১০টি রহস্যময় জায়গা

দুনিয়ার সপ্তম ভাস্কর্যের নাম আমরা সবাই মুখে নিয়ে আস্তে পারি যেমন কি তাজমহল ,ভিটোরিয়া ! আমরা এগুলিকে দেখে চমকে যাই কিন্তু এগুলি ছাড়াও আমাদের দুনিয়াতে এমন কোনো কিছু জিনিস রয়েছে এগুলি এতোই অদ্ভুত যা সপ্তম আশ্চার্যকে ও বাদ দিয়ে দেয় আর এগুলি যে সত্যিই পৃথিবীতে রয়েছে তা বিজ্ঞান মানতে ও নারাজ্ ! রহস্য জগতের ১০টি জায়গা তুলে ধরছি যে গুলি দেখে আপনি ভাবতে বাধ্য হবেন !


১. DEVIL’S KETTLE :- (শয়তানের কেটলি ):-

ভালো করে দেখুন এই ঝর্ণাটিকে দেখে আপনি ভাববেন এটি একটি সাধারণ ঝর্ণা ! মিনিষ্টাতে একটি বইতে থাকা রুল নদী একটি জায়গা এসে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ! নদীটির একটি ধারা আগে গিয়ে তো সেই নাদির সাথে মিশে যায় ! কিন্তু দ্বিতীয়টি আজ অবধি কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নি যে এই ধারাটি কোথায় যায় ! অনেক বিজ্ঞানী মানেন যে এই ধারাটি কোথাও না কোথাও তো মিশেছে কিন্তু আসলে সেটি কোথায় তা কেউ জানে না ! আপনি হতে পারে ইটা ভাবছেন যে জলটি ভূ-গর্ভস্থ জলের সাথে মিশে যায় কিন্তু আসলে তা নয় বিজ্ঞানীরা এই জলটিতে একবার রং মিশিয়ে দেখতে চান সে জলটি কোথায় যায় ! কিন্তু সে রঙ্গিন জলটি কোথাও বের হয় নি ! তাহলে এ ধারাটি আসলে কোথায় যাচ্ছে ?


২.HESSDALEN LIGHTS :- ( হেসদালান লাইটস ):-

হেসদালান ভ্যালির নরওয়ে থাকতে থাকা মানুষেরা প্রতিদিন রাত্রিবেলা তারা আলাদা কিছু দেখতে পায় ! আকাশে প্রতিদিন রাত্রে একটা আলাদা ধরনের এল দেখতে পাওয়া যায় ! কিন্তু চমকে দেবার বিষয় হচ্ছে ইটা এই এল গুলি সারারাত আকাশে নাচতে থাকে আর এমনকি এখানে প্রায় অতীতে ৪০ বছর আগে থেকে হয়ে আসছে !বিজ্ঞানীরা এটির পেছনে অনেক রিসার্চ করেছেন কিন্তু আজ অবধি কেন হয় তার রহস্য ভেদ করতে পারে নি ! এখানকার মানুষেরা ইটা মনে করেন এখানে একটা হ্রদ রয়েছে আর ওই হ্রদটির জলটি রেডিও একটিভ সেটি তার হ্রদ থেকে এ ধরনের আলোকে রিএক্ট করে ! আর এরকম ও হতে পারে যে জলের নিচে রয়েছে অনেক সালফিউরিক এসিডের ভান্ডার যা বায়ুর সাথে মেসে স্পার্কিং সৃষ্টি করে ! অনেক পরীক্ষা করা হয়েছে আজ অবধি এটাকে নিয়ে কিন্তু সঠিক প্রমান কেউ দিতে পারে নি !

৩.MOVILE CAVE :- (জ্বলন্ত গুহা ) :-

রোমানিয়া দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই গুহাটি আপনি আপনি যদি দেখেন চমকে যাবেন ! আপনি শুনে অবাক হবেন যে গুহাটির মধ্যে আজ থেকে প্রায় ৫৫ লক্ষ বছর ধরে আলোর একটা কিরণ বন্দি রয়েছে ! এখানে একটা আলাদা ধরণের পরিবেশ সৃষ্টি করে ! পাওয়ার প্লান্ট লাগানোর জন্য যখন জায়গাটি খোদাই করা হয়েছে তখন ওয়ার্কাররা এই জিনিসটিকে প্রথম বারের জন্য দেখেছিলো !গুহাটিতে একটা বিষের ধরণের বিষাক্ত পদার্থ ভরা রয়েছে ! এখানেকের জীবগুলোকে যদি বাইরের জগতে আনা হয় তাহলে সেগুলি মুহূর্তের মধ্যে মারা যাবে ! গুহাটিতে ৩৩ রকমের পিসি রয়েছে , ভেবে দেখুন পৃথিবীতে এমনও জিনিস রয়েছে যারা সালফিউরিক এসিড এর মতো বিষাক্ত পদার্থের ওপর জীবন কাটাতে পারে ! আর গুহাটির মধ্যে এমন কিছু মাইক্রোওয়েবস রয়েছে যাদের দেহ অন্ধকারে জ্বলতে থাকে তাই গুহাটিতে যদি আপনি ঢোকেন দেখতে পাবেন যে চারিদিকে আলোকিত হয়ে আছে !

৪.LAKE KARACHAY :-(লেকের কড়চা ):-

সারা দুনিয়া জানে সোভিয়েত উনিয়নের কাছে রয়েছে সব থেকে বড়ো নিউক্লিয়ার পাওয়ার সিস্টেম ,তার যে গুলির মধ্যে বেশির ভাগই হচ্ছে মানুষের জন্য খুবই মারাত্মক এই রকমই একটা নিউক্লিয়ার পাওয়ার পয়েন্টের পাশে একটা লেক রয়েছে ! আর এই জলটি পৃথিবীর যত জল রয়েছে সব থেকে বেশি রেডিয়েক্টিভ ! এর রেডিয়েশন এতই বেশি , যদি আপনি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকেন তাহলে আপনার মৃত্যু অবধারিত ! আর এখনও পুরো সোভিয়েত উনিয়নে সবরকমের নিউক্লিয়ার ওয়েস্টকে এই জলটিতে ফেলে দেয় ১৯৫৭ তে এই লাকটিতে একটা বিস্ফোরণ করা হয়েছিল আর এটি থেকে বারবার হওয়া নিউক্লিয়ার রিএক্টিভ পদার্থগুলি ২৩ হাজার বর্গকিমি জায়গা জুড়ে মানুষদের প্রকৃত করেছিল তবে এখনতো ওই লাকটিতে মোটা একটি সিমেন্টের চাদর দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে ! কিন্তু তবুও সেখানে অনেক রেডিয়েশন এখনও পর্যন্ত রয়েছে !

৫. THE DOUBLE TREE OF CASORZO:-(ক্যাসোরজো ডাবল গাছ ):-

ইতালির ইয়ামটি এলাকায় একটা আলাদা জিনিস লক্ষ করা যায় ! এখানে রয়েছে একটি চেরি গাছ যদি সাধারণ চেরিগাছের মতো দেখতে কিন্তু আপনি দেখে অবাক হবেন যে এই গাছটি একটা আলাদা মালবেরি গাছের উপর জন্ম নিয়েছে তবে আমরা সবাই জানি এটা একটা নতুন জিনিস নয় ! যে একটি গাছের উপর অন্য গাছ হয়না তা হলেও সে গাছগুলি বেশি দিন বাঁচেনা ! তবে এই গাছটি হচ্ছে একেবারে আলাদা ,যখন উপরে চেরিগাছটিতে ফল হয় তখন মালবেরি গাছটি পুরো ফাঁকা থাকে ! আর নিচে যখন ফল হয় তখন থাকে উপরের চেরিটি পুরোফাঁকা !

৬. THE SLEEPING CITY OF KALACHI :- ( ঘুমন্ত শহর কালাচি ) :-

কাকাস্থানের কালাচি শহরে কোনো সিনেমার কাহিনী নয়, এটা সত্যি ঘটনা এখানকার মানুষরা বর্তমানে আলাদা একটা রোগের সাথে সম্মুখীন হচ্ছেন ! আর সেটি হচ্ছে স্লিপিং স্কিনেস , হাঁ এটা এখানকার মানুষেরা চলতে চলতে যেখানে খুশি ঘুমিয়ে পড়ে এমনকি কিছু কিছু মানুষতো বাইক চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে পড়ে ! আর দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় ! ঘুমথেকে উঠে তারা এটা ভুলে যায় যে তারা কোথায় ঘুমিয়ে ছিল এবং তখন সেখানে কি করছিল ! বিজ্ঞানীরা এই মানুষ গুলির ওপর অনেক পরীক্ষা করেন ! কিন্তু আজ অবধি বুঝতে পারা যায়নি এর সঠিক কারণটি কি , এখানকার মানুষদের এটা মান্যতা রয়েছে যে শহরের একদিকে অনেক রেডিওএক্টিভ মাইন্ড রয়েছে যে গুলি থেকে নিরন্তর রেডিয়েশন বের হতে থাকে ! আর সেটি হচ্ছে তাদের ঘুমের কারণ তবে সত্যিটি কি তা আজ অবধি কেউ জানে না !

৭.CIRCLES OF NAMIBIA :- ( নামিবিয়ার চেনাশোনা ) :-

নামিবিয়া মরুভূমিতে একটা অদ্ভুত জিনিস রিসার্চদের সামনে আসে ! এখানে ঘাসের ময়দান গুলি তে একটা আলাদা জিনিস লক্ষ করা যায় ! ময়দান গুলিতে এক বিশেষ ধরণের সার্কেল দেখতে পাওয়া যায় ! দেখে মনে হয় এগুলিকে যেন হাত দিয়ে বসানো হয়েছে ! সার্কেল গুলির ব্যাস হচ্ছে ১০ ফিট থেকে ৬৫ ফিটের মধ্যে সার্কেল গুলি কথা থেকে এসেছে এগুলি ভুলে যান ! বিজ্ঞানীরা আজ অবধি ভাবতে পারেনি সার্কেল গুলি হয়েছে কিভাবে এখানে , এখানে আলাদা কোনো সেপ হয়নি হয়েছে শুধুমাত্র সার্কেল ! বিজ্ঞানীরা এটা নিয়ে অনেক তথ্য দিয়েছেন কিন্তু যে দিয়ে তারা এ তথ্য দিয়ে বলেছিলেন সেই সেই মুখ দিয়ে তা অস্বীকার করতে হয় ! অনেক বিজ্ঞানী এটা বলেছিলেন যে এখানে থাকা পোকামাকড় গুলি কোথায় কিন্তু ২০১৫তে এটাকে অস্বীকার করা হয় !

৮.THE HUMM OF THE TAOS:- ( টাউসের হুম ):-

একটা আওয়াজ যদি শুনে আপনার অতৃপ্তিতে ঘুম ভেঙে যায় ! আর অতৃপ্তি তখনি বেড়ে যায় যখন এটা জানতে পারা যায় না যে সেই অন্তর্মুখী কোনা থেকে আসছে !এরকমই নিউ ইয়র্ক এর টাউন শহরে বাসকরতে থাকা মানুষ গুলি অসুবিধাটা একবার ভেবে দেখুন ১৯৯০ সাল থেকে মানুষ সরকারের কাছে একটা আলাদা ধরণের সমস্যা নিয়ে আসছে ! সমস্যা টি ছিল সবসময়ে একটা হ্যাম শব্দ শোনাযেত ! প্রায় কুড়ি বছর ধরে বিজ্ঞানীরা এর উপর রিসার্চ চালায় কিন্তু কেউই তার প্রমান দিতে পারেনি যে আওয়াজটি কথা থেকে আসছে ! আবার কিছু বিজ্ঞানী তো এমনি বলেছে যে এখানকার থাকতে থাকা মানুষ গুলি কাজ সাধারণ মানুষের থেকে একদমই আলাদা যারা এমন কিছু জিনিস শুনতে পাওয়া যায় যে অন্য জায়গার মানুষ শুনতে পায় না !

৯. NEVER EMDING LIGHTING STORM :- ( কখনও আলো ঝড় শেষ হয় না ):-

ভ্যানেকুয়েলার পশ্চিম দিকে ক্যাটাটাম নামক এক নদীর উপরে একটা মেঘ রয়েছে যদি কখনও কোনো দিন সেটি গমন করে না ! প্রতিদিন সন্ধে বেলায় সাতটার সময় বিদ্যুতের আওয়াজের সাথে এখানে ঝড় শুরু হয় ! অনেক বছরের বিশ্রামের পরেও বিজ্ঞানীরা এখনো এটির ব্যাপারে চুপ রয়েছেন ! তবে অনেকেই এটা বলেছেন যে শহরে ঠিক এই জায়গাটিতে একটা খুব বোরো উরেনিয়ামের খন্ড রয়েছে ! ২০১০ সালে এই মেঘটি একবার চলে যায় ! আর সেখানকার মানুষেরা এটাই ভেবেছিলো যে সেটি আর ফিরে কোনোদিন আসবেনা , কিন্তু মানুষের খুশি টুকু মাত্র সপ্তাহ পর্যন্ত টিকেছিল ! ৬ সপ্তাহ পরে ঝড়টি আবার ফিরে আসে !

১০.THE BOILING RIVER :- ( ফুটন্ত নদী ) :-

ঘন আমাজন জঙ্গলের মাঝে একটা চার মাইলের ছোট নদী রয়েছে ! যার নাম হচ্ছে সেনাইটিম ফেস ! আপনি জেনে অবাক হবেন যে নদীর জল এটি গরম যে কোনো প্রাণী যদি সেখানে পা ও রাখে সাথে সাথে তা জ্বলে পুড়ে শেষ হতে পারে ! নিরীহ প্রাণীরা না জেনে এখানে জল খেতে আসে তাই অনেক জীবনের হানি হয়েছে ! জলের তাপমাত্রা ১০০*সেন্টিগ্রেড থাকে সবসময় ! সাধারণত এই ধরণের জল ওই সব নদীতে পাওয়া যায় যে গুলি আগ্নেওগিরির উপর দিয়ে প্রবাহিত কিন্তু এই নদীটির সবচেয়ে কাছের আগ্নেয়গিরিটি প্রায় এখন থেকে ৭০০ মাইল দূরে অবস্থিত ! এই গরম জলের পিছনের রহস্য আজ অবধি কেউ জানে না !

 


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *