শঙ্খ ঘোষের কবি প্রতিভা

Spread the love

শঙ্খ ঘোষ কবি হিসেবে বিরাট; অন্তত অনেকেই তাই বলেন। সেই বিতর্কে আমি ঢুকলাম না।

কিন্তু আনন্দবাজার পত্রিকায় কবি, শ্রী কাকা ছী ছী, জয় গোঁসাই এর কলমে গোটা একটি পাতা জুড়ে জন্মদিনে শঙ্খ-বন্দনা পড়ে কিছু কথা মনে পড়ে গেল। সুরেশ মজুমদার, চপলাকান্ত ভট্টাচার্য, সন্তোষ ঘোষ এমুন কী প্রফুল্ল সরকার সম্পর্কেও এক দশকে এক-দুই বার ছোট্ট কয়েক ইঞ্চির কিছু খবর ছাড়া কখনই আপনি কিছু আনন্দবাজারে দেখছেন?? দেখবেনই বা কেন!! জাতীয়তাবাদী এই মহান সাংবাদিকরা যে রক্তজল করা পরিশ্রম দিয়ে আনন্দবাজার কে তৈরি করেছিলেন !!!

 

কিন্তু যে শঙ্খ ঘোষ আনন্দবাজারের বিরুদ্ধে 1984 তে দুই মাস ব্যাপী আন্দোলনের বৌদ্ধিক নেতা ছিলেন (যে আন্দোলনের ফলে ABP এর ধর্মঘটী শ্রমিকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন পর্যন্ত নেমে এসেছিল), তার বন্দনা আনন্দবাজার ছাপে!!!

 

মনে করুন, সেই সময় ধর্মঘটী কর্মীদের জন্য ওনার উদ্বেগ, চিন্তা, চেতনা overflow করতো;মহাকবির emotional outburst ফেটে প‍ড়ত আনন্দবাজারের বিরুদ্ধে প্রতি ছত্রে! সেই সময় আনন্দবাজারে কাজে যোগদানে ইচ্ছুক কর্মীদের যারা কাশ্মীরি কায়দায় ঢিল মারতেন, তাদের পরোক্ষ বৌদ্ধিক অনুপ্রেরণা যে মহাকবি ঘোষই ছিলেন, এটা বললে কী খুব ভুল হবে?

 

অনেকদিন তারপর আনন্দবাজারের সঙ্গে কোনো যোগযোগ ছিল না এই মানবদরদী মহাকবির। থাকবেই বা কী করে!! একটা fascist , capitalist পত্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন বাংলার বিবেক!!
ছী:!!!

তারপর হঠাৎ পাশা পাল্টালো। মহাকবির মেয়ে আনন্দবাজারের চাকরি পেলেন এবং ক্রমশ দায়িত্ব পেলেন সম্পাদকীয় পাতার। এরপর বিশ্ব সংসারের অভূতপূর্ব কীর্তিটি তার কন্যাটি সম্পাদন করলেন সম্পাদকীয় পাতায় নিজের পিতার পৃষ্ঠাজোড়া বন্দনা ছেপে!! এ দেখলে বোধহয় ইন্দিরা নেহেরু গান্ধী, এমন কী রাহুলবাবুও লজ্জা পেতে পারেন ! কিন্তু লজ্জার এখনো আছে কী: বিগত কয়েক বছর ধরে শঙ্খকবির মেয়ে-জামাই-ভাইপো, এবং চারপাশের চক্কর কাটা, সদা বন্দনারত লোকজনদের লেখা ঐ উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় ঘনঘন প্রকাশ পাচ্ছে!

 

In addition, নব্য সিপিএম-কংগ্রেস জোটের মতনই বর্তমানে তার ভাইও হয়েছেন “পরিচয়” পত্রিকার সম্পাদক: অর্থাৎ একই পরিবারের হাতে Communist ও Capitalist, দুটি পত্রিকাই; ইতিহাসে এমুন নিদর্শন আছে কী??

 

ভাবলে অবাক লাগে কী ? তাহলে বিস্ময় বোধ আরো বিস্মিত করে স্মৃতিতে আনুন, যে “মহাবিবেক” শঙ্খ, সব অন্যায়ের প্রতিবাদে সরব, কেবল মাত্র পূর্ব বাংলা, যেখান থেকে উনি পলায়ন করেছেন, সেখানকার সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছাড়া, সেই শঙ্খ কিন্তু আনন্দবাজারের বর্তমান শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে রহস্যজনক ভাবে নীরব !!!! কিছুদিন আগেই, 2018/19-এ টেলিগ্রাফ ও আনন্দবাজারের প্রায় অর্ধশত ছাঁটাই হওয়া অভুক্ত শ্রমিক আন্দোলন করছিলেন; তারা হারিয়ে গেলেন বা তাদের ভাগ্যে শেষমেশ কী ঘটল, কেউ জানি না।

শ্রমিক ধর্মঘট ভালো না খারাপ সেটা অন্য প্রশ্ন; এমন কী আনন্দবাজারের শ্রমিকদের ধর্মঘট ঠিক না বেঠিক, সেটাও ভিন্ন বিষয়। আসল প্রশ্ন অন্য: যে শঙ্খ কবিবরের কাছে 1984 তে আনন্দবাজারে আগুন লাগতে চাওয়া শ্রমিকরা দেবদূত ছিলেন, সেই মহাকবির কাছেই 2018-19 এর ধর্মঘটী শ্রমিকরা ব্রাত্য হয়ে গেলেন কী ভাবে!!!

 

কারণটা আমরা অনেকেই জানি, কিন্তু ঝেড়ে কাশি না। আসলে 1984 তে যুদ্ধটা ছিল আনন্দবাজারের বিরুদ্ধে নয় , সুনিল ও শক্তিকে বেশী গুরুত্ব দেবার বিরুদ্ধে। আজ ওনার হাঁচি-কাশি-পেট খারাপ হলে ডাক্তার কাছে গেলেও সেই খবর আনন্দবাজার ছাপে। ফলে,বিস্মিত হবার কিছু নেই, রাতারাতি আনন্দবাজার একটি fascist-capitalist institution থেকে পরিণত হবে একটি জনকল্যাণে ব্রতী, গণতান্ত্রিক, left liberal প্রতিষ্ঠানে, যার নেতৃত্বে , কী অদ্ভুত, জহরকন্যা ইন্দিরা, থুড়ি, শঙ্খকন্যা সেমন্তী জ্বলজল করছেন !!

 

জয় পরিবারের জয়: গান্ধী হোক, কিংবা ঘোষ, ইয়ে ইন্ডিয়া ফাদার কা !!!

 

যতদিন তুমি “আমার” বন্দনা করবে, ততদিন তুমি গণতান্ত্রিক ও মানবদরদী; যেদিন থেকে তুমি “আমার” বিরোধিতা করবে, সেই দিন থেকে তুমি fascist, কিংবা আরো খারাপ গালাগাল, হিন্দুত্ববাদী !


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *