মহামারী ইবোলা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারক -সারা গিলবার্ট

Spread the love

সারা গিলবার্ট অনেকের কাছেই পরিচিত নাম। এর আগে উনিই আবিষ্কার করেছিলেন মহামারী ইবোলা ভাইরাসের ভ্যাকসিন। প্রবল মহামারীর হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন পৃথিবীকে। ৫৮ বছরের সারার জন্ম ১৯৬২ সালে ইংল্যাণ্ডে। ডেট্রয়েটের কেটেরিং হাইস্কুলে পড়াশোনা। তারপর ইস্ট এনগেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োলজিতে স্নাতক এবং হুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রি নিয়ে পি এইচ ডি। তারপর আবার ১৯৯৪ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর আদ্রিয়ান হিলের তত্ত্বাবধানে জেনেটিক্স নিয়ে পোস্ট ডক্টরেট। এর পর বিয়ে এবং ১৯৯৮ সালে এক সাথে তিন সন্তানের জন্ম দেন সারা। তারপর ১৯৯৯ সালে শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সাথে সাথে ভ্যাকসিন নিয়ে প্রথম কাজ করার সুযোগ আসে ২০০৭ সালে। একটি ফ্লু বা সর্দি জনিত ভাইরাসের ওপর কাজ করার সুযোগ পান প্রফেসর সারা। সেই ভ্যাকসিন পশুর শরীরে এবং মানব শরীরে সাফল্যের সাথে কাজ করে। তবে সারা তার সাফল্যের সমস্ত কৃতিত্ব দিতে চান তার স্বামীকে।

সারার কথায় – আমি তিন সন্তানের জননী। সন্তানদের বয়স যখন মাত্র এক বছর, যখন ওরা ঠিকভাবে দাঁড়াতেও শেখেনি তখন আমার অধ্যাপনার সুযোগ আসে। কিন্তু তিনটি ছোট্ট দুধের শিশুদের জন্য সময় দেবার পর আমার হাতে চাকরি করার মতো সময় ছিল না। তবে আমার স্বামী আমায় সংসারের এই সব কাজের মধ্যে আমাকে আটকে রাখতে মোটেও আগ্রহী ছিলেন না। আমার স্বামী সন্তানদের লালনপালন করার সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। আমি ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে উনাকে ইন্সট্রাকশন দিতাম কি কি করতে হবে। আমি যেদিন প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর হিসেবে যোগ দিলাম সেদিন উনি নিজের চাকরি ছেড়ে দিলেন সন্তানদের মানুষ করার জন্য। এতোটা উদার হয়তো সব স্বামী হতে পারেন না।

এর মধ্যেই গড়ে তোলেন নিজস্ব গবেষণাগার। এর পরে ২০০৮ সালে তার আবিষ্কার Influenza A virus Subtype H3N2, তারপর ইবোলা ভাইরাসের ভ্যাকসিন এবং এখন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ ভাবে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের কাজ।

করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন হিসেবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সারা গিলবার্টে তৈরী Chadoox1, মানব শরীরে প্রয়োগ করা হবে ১ থেকে ৯০ বছর বয়সের করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর শরীরে। সবাই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন এই Chadoox1 ভ্যাকসিন যেনো সফল হয়। এর আগে আফ্রিকার ইবোলা রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে জগৎ বিখ্যাত হয়েছিলেন সারা গিলবার্ট। আগামীকাল গোটা পৃথিবী তাকিয়ে থাকবে সারা গিলবার্টের করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার সফল প্রয়োগের জন্য। এই মহান নারীর প্রতি দুই হাত তুলে আর্শীবাদ করুন সকলে, আর মানব জাতির জন্য প্রার্থনা করুন ।।

এই ভ্যাকসিন প্রথম পর্যায়ে পশুদের ওপর প্রয়োগ করে ১০০% সাফল্য পেয়েছেন সারা। উনি জানিয়েছেন, এই ভ্যাকসিন মানব শরীরে সাফল্য পেলে আগামী সেপ্টেম্বর – অক্টবরের মধ্যে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে তিনি এই ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে পারবেন।


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *