এন আর সি টানাপোড়েন

Spread the love

এন আর সি নিয়ে বেশ টানাপোড়েন চলছে।আমার বুদ্ধি অনুসারে পোস্ট দিলাম।বন্ধুগণের প্রতি অনুরোধ রইল প্রতিক্রিয়া জানানোর ও ভাল লাগলে শেয়ার করার:-

এন আরসি ও ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে কিছু প্রশ্ন
——————————————————————–

অসম রাজ্যে এন আর সি প্রক্রিয়া চলছে।আর
কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের নাগরিকত্ব সম্পর্কিত একটি বিল সংসদে পাশ করিয়ে রাজ্য সভায় পাশ করানোর জন্য অপেক্ষা করে আছে।এই সময়ে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল,যারা আবার ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশধারী,তারা এক বিকৃত ব্যাখ্যা শুরু করেছে জনমানসে।মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিকত্ব বিল পাশ করানোর পর সারা ভারতে এন আর সি প্রক্রিয়া চালাতে বাঁধার সৃষ্টি করা বা যাতে করে কেন্দ্রীয় সরকার এটা করতে না পারে তার ব্যবস্থা করা।আর এই বিষয়ে সংঘ পরিবার ও বিজেপি’র দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হচ্ছে যখন তখন সামান্য কোনও অজুহাতের ওপর ভিত্তি করে।অথচ এই সংঘ পরিবারই সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে হিন্দুদের নাগরিকত্বের ইস্যুতে জোর সওয়াল করেন ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।


এবার প্রশ্ন হলো আমাদের দেশে আগত অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থী কারা ? এই বিষয়ে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া ব্যাখ্যায় গমণ করব না।কারণ রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের দলীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা রচনা করে নিজেদের মতো করে। শরণার্থীর সংজ্ঞায় প্রথম রাষ্ট্রসংঘ কথা বলে ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রসংঘের এক কনভেনশনে।১৯৬৭ সালে এই বিষয়টা সংশোধিত হয় প্রোটোকলের মাধ্যমে সেখানে শরণার্থীর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এই বলে- ‘যে ব্যক্তি জাতি,ধর্ম, নাগরিকত্ব বা কোনও সামাজিক বা ধর্মীয় সংস্থার সভ্য হওয়ার কারণে নিপীড়িত হওয়ার উপযুক্ত আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁর নাগরিকত্ব যে দেশের সেই দেশের বাইরে রয়েছেন,অথবা এই ভীতির জন্য তাঁর দেশের নিরাপত্তা নিতে আগ্রহী নন,অথবা এইসব কারণে নিজের দেশের বাইরে রয়েছেন এবং ফিরতে পারছেন না বা এই ভীতির জন্য ফিরতে ইচ্ছুক নন, এইমত ব্যক্তিগণ’ই শরণার্থী উপাধি পেতে পারে।’ দুঃখের বিষয় হলো এই যে বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দুজনগণ উপরোক্ত যে কোন ধারার অবিচারের শিকার হয়ে ভারতে চলে এলেও এইসব শরণার্থীদের সেকুলার বাদীরা স্বীকৃতি দিতে চায়না। উল্টে এই পশ্চিমবঙ্গে উদ্বাস্তু পূণর্বাসন দফতর বন্ধ করে দেয় জ্যোতি বসু সরকার।


এন আর সি প্রক্রিয়াকরণ চলা অসমের সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের করা অসম চুক্তিতে বলা হয়েছে ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর যারা ভারতে এসেছেন তাদের তাড়াতে হবে।এই সময়সীমার পর ভারতে আগত সবাইকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলে গণ্য করতে হবে,যেটা অসম চুক্তির ৬(এ) ধারায় লিখিত আছে।২০০৩ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ী এই চুক্তি থেকে রাজস্থান ও গুজরাতকে ছাড় দেন পাকিস্তান থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য রাজীব গান্ধী অসম চুক্তি করলেন বটে,তবে অন্যান্য আইনের দিকে কিন্তু খেয়াল রাখলেন না ১৯৫০ সালের ইমিগ্রান্টস অ্যাক্ট’এর সেকশন ২’তে বিশেষ ভাবে উদ্বাস্তুদের রক্ষাকবচ আছে (এক্সপালসন ফ্রম অসম)।এখানে বলা হয়েছে, ‘সামাজিক অস্থিরতা বা এধরণের অস্থিরতার ভয়ে বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে যাঁরা পাকিস্তানের কোনও এলাকা ছেড়ে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন,তাঁদের তাড়ানো যাবেনা।’ অর্থাৎ রাজীব গান্ধীর অসম চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।


2012 সালের 4 থেকে 9 এপ্রিল কেরালার কোঝিকোড়িতে সি পি এম’এর কুড়িতম কংগ্রেসে বাঙালি উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দিতে হবে বলে প্রস্তাব উঠেছিল ‘বাঙালি উদ্বাস্তুদের অধিকার’ শীর্ষক প্রস্তাবে।সি পি এম বাংলাদেশের সংখ্যালঘু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান আইনের ক্লজ ২(আই)(৮)’এ উপযুক্ত সংশোধনীর দাবি জানায়। অথচ এই সি পি এম’এর বৃন্দাকারাত এখন বলছেন তিনি বা তাঁর দল কেন্দ্রীয় সরকারের নাগরিকত্ব আইন মানেন না।তারা চাইছে শুধু শরণার্থী নয়,বাংলাদেশ থেকে চলে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদেরও নাগরিকত্ব দিতে হবে।বি জে পি প্রথমবার ক্ষমতায় এসে উদ্বাস্তু নাগরিকদের জন্য এক গেজেট নোটিফিকেশন জারি করে ২০১৫ সালের ৭’ই সেপ্টেম্বর।সেই নোটীফিকেশনেরও তীব্র বিরোধিতা করে সি পি এম দল।সবিরোধীতার চুড়ান্ত নমূনা দেখা গেল।


২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল কিরেণ রিজিজু বললেন ২০১৪ সালের ৩১ডিসেম্বরের আগে আগত সমস্ত বাংলাদেশি হিন্দুই ভারতে থাকতে পারবেন। ১১ আগস্ট,২০১৮’তে মেয়ো রোডের জন সমুদ্রে দাঁড়িয়ে বি জে পি’র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বললেন,বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী দের তাড়াতেই এন আর সি।একজন শরণার্থীকেও ফেরত পাঠান হবে না।শরণার্থীদের জন্য নাগরিকত্ব বিল আনা হবে।আগে অনুপ্রবেশকারীদের বিপক্ষে ছিলেন মমতা,ভোটের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষ নিয়েছেন।’ বি জে পির হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সদিচ্ছার প্রমাণ রেখেছে, সেটা ২২.০৬.২০১৮ তারিখে সংবাদ সংস্থার পাঠান একটি খবরে জানা যায়।আমেদাবাদ জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতিতে রীতিমত অনুষ্ঠান করে ৯০ জন পাকিস্তানি হিন্দুকে নাগরিকত্বের শংসাপত্র প্রদান করেন।এই কাজ করেন আমেদাবাদ জেলা প্রশাসনের জেলা শাসক বিক্রান্ত পান্ডে।তখনকার খবরানুযায়ী জানা যায়, অত্যাচারিত হয়ে এদেশে আশ্রয় গ্রহণকরা বা সন্ধানে আসা হিন্দু এবং শিখদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছিল কেন্দ্র। শুক্রবার অর্থাৎ ২২.০৬.২০১৮ তারিখে নাগরিকত্ব প্রদান করা ব্যক্তিদের বেশিরভাগকেই জোর করে পাকিস্তান থেকে বাস্তু হারা করা হয়েছে বলে জানা যায়।


ইংরেজি ০১.১১.২০১৬ তারিখে অসমের হিমন্ত বিশ্বশর্মা বললেন যে ‘কাকে সঙ্গে নিলে ধর্ম সংস্কৃতি বাঁচবে,ভাবতে হবে অসমিয়াকে’।এইদিন শ্রী বিশ্বশর্মা সর্বজন শ্রদ্ধেয় বামপন্থী নেতা হীরেন গোঁহাই,অ গ প নেতা প্রফুল্ল মহন্ত, কংগ্রেসি তরুণ গগৈ’কেও সমালোচনা করেন।কারণ হলো এই আঁতেলগুলো শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বেআইনী অনুপ্রবেশকারীদের ভাগ করায় বি জে পি দলকে সমালোচনায় ভরিয়ে দিচ্ছিল এবং এখনও দেয়।হীরেন গোঁহাই’এর মতো লোকেরা এক শ্রেণীর মানুষকে আড়াল করতে চান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এবার দেশ বিভাগের পরবর্তীতে তখনকার বরেণ্য নেতাদের শরণার্থী তথা আটকে পড়া হিন্দু সম্পর্কে কিছু কথা বলতে হয়।সর্ব প্রথমেই মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর কথাই বলতে হয়।উনি বললেন,’হিন্দু এবং শিখ,যাঁরা ওখানে আটকে গেছেন,তাঁরা যদি আর পাকিস্তানে থাকতে না পারেন বা না চান,তাহলে সম্ভাব্য যে কোনও ভাবে এখানে চলে আসতে পারেন।’ নেহরু বললেন,’রাজ নৈতিক সীমারেখা আমাদের কাছ থেকে যাঁদের বিচ্ছিন্ন করল,যাঁরা আমাদের সাথে সদ্য পাওয়া স্বাধীনতা ভোগ করতে পারছেন না,আমরা তাঁদের কথাও মনে রেখেছি।ঘটনা যেটাই ঘটুক,তাঁরা আমাদের আছেন ও থাকবেন।আমরা অবশ্যই তাঁদের সুখ দুঃখের অংশীদার হব।’ প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ বললেন, ‘ যে সব বাস্তুচ্যুত আর্থিক অনটনের মধ্যে অবর্ণনীয় কষ্টক্লেশ ভোগ করেছেন এবং এখনও করছেন,আমরা তাঁদের সকলকে পূণর্বাসন দেবার জন্য এবং পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য উৎকন্ঠা বোধ করছি।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল বললেন,’ যাঁদের সঙ্গে আমাদের রক্ত মাংসের সম্পর্ক,যাঁরা একত্রে আমাদের সাথে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন,যেহেতু তাঁরা এখন একটা সীমারেখার ওপারে,সেজন্য হঠাৎ তারা আমাদের কাছে বিদেশী হয়ে যেতে পারেন না।আফ্রিকার ভারতীয়দের যদি আমাদের ওপর দাবি করার অধিকার থাকে,তাহলে বাংলার অপর অংশে যাঁরা আটকে আছেন,তাঁদেরও সুনিশ্চিতভাবে আমাদের কাছে দাবি করার অধিকার আছে।’ ১৫.১১.২০১৯ তারিখে এ আই সি সি বলল,’ যাঁরা এখনও তাঁদের বাড়িঘর ত্যাগ করে চলে আসেননি,তাদের সেখানে থাকার জন্য উৎসাহিত করা উচিত,যদি না তাঁরা সেখান থেকে নিজেরাই চলে আসতে চান।কিন্তু যখনই তাঁরা সেখান থেকে চলে আসতে চাইবেন,তখনই তাঁদের চলে আসার জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে হবে। তাঁদেরকে অন্যের জায়গায় প্রবেশকারী বলে এবং অন্যের দয়ার ওপর নির্ভর শীল বলে গণ্য করা যাবেনা।তারা অন্য যে কোনও নাগরিকের মতোই অধিকার ভোগ করবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন।’


এবার হাল আমলের কিছু ব্যাক্তিত্বের কথায় আসতে হয়।২৩.০৪.২০১৮ তারিখে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের প্রথম সারির নেতা শিলচর গিয়ে বললেন ”আ সু’ও জানে বিপদ হিন্দু বাঙালি নয়, বিপদ মুসলিমদের নিয়ে।নাগরিকত্ব কেন্দ্রের বিষয়, রাজ্যের নয়।” আরও বলেন,’অসমে এসে থিতু হওয়া বাঙালি হিন্দুদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে বিল পাশের মাধ্যমে।যে সব বাঙালি হিন্দুর কাছে কোনও নথি নেই,তাঁদের বিদেশে যেতে হবেনা।তবে প্রথম কয়েক বছর সামান্য ঝামেলা পোহাতে হবে।এরপর তাঁদের সব ঝামেলা মিটে যাবে।’ উপরোক্ত তারিখে একথা গৌরীশঙ্কর চক্রবর্তী বলেন অসম বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে। ইংরেজি ১১.০৯.২০১৮ তারিখে জয়পুরে দাঁড়িয়ে বি জে পি’র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ্ বলেন,’বেছে বেছে অনুপ্রবেশকারী তাড়াব’। ইংরেজি ১৪.০২.২.১৯ তারিখের নয়াদিল্লির খবরে জানা যায় বিগত দিনের এন ডি এ সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের স্বপক্ষে অর্ডিন্যান্স জারি করার কথা ভেবেছিল।ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্যসভা সদস্য রূপা গাঙ্গুলী ২২.০৮.২০১৯ তারিখে কলকাতায় বলেন,’ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়েছিল,তাই অনুপ্রবেশকারী দের নিয়ে প্রশ্নই ওঠেনা।’


এই ‘এন আর সি’ ইস্যু নিয়ে এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নাটক নিয়ে কিছু বলতে হয়।গত বছর আগস্ট মাসের দু’তারিখে শিলচরে নামতেই ‘টিম মমতা’কে নজরবন্দি করা হয়।এরপর অসমের জল ও কোনও খাবার খাব না বলা,রাতে ভাল গদি ও বালিশের জন্য বায়না-ভাল রকম চর্ব,চোষ্য,পেয় প্রভৃতি গ্রহণ করে নাটক মঞ্চস্থ করার পর ফিরে এসে দেখান হলো,অনুপ্রবেশকারীদের জন্য বিশাল এক আন্দোলন করে ফিরে এসেছেন।অথচ অসম তথা বাকি ভারতবর্ষের মানুষ হেঁসে লুটোপুটি খেল। এই তৃণমূলের সমর্থন চেয়ে নমঃশূদ্র সমাজের প্রয়াত শ্রদ্ধেয় বড়’মা ১১.০২.২০১৯ তারিখে নাগরিকত্ব বিলে সমর্থন চেয়ে একটি চিঠি লেখেন। বলা হয় নাগরিকত্ব বিলটি পাশ করাতে তৃণমূল দল যেন সমর্থন করে। আজ সেই বড়’মা আমাদের মধ্যে আর নেই। আমাদের মধ্যে না থাকলেও তাঁর প্রয়াসটি কিন্তু ইতিহাস বহন করে চলবে।
আমাদের বহু বরেণ্য নেতার বহু বক্তব্যের মধ্যে কিছু বক্তব্য তুলে ধরে দেখাতে পারলাম যে এই এন আর সি প্রক্রিয়া কখনোই পূর্ববঙ্গীয় হিন্দুদের বিতাড়নের জন্য নয়।এই নাগরিক সনাক্তকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন।সবাই অসমের দিকে আঙুল তুলছেন যে সেখানে হিন্দু বিতাড়ন শুরুহয়ে গিয়েছে।আমার প্রশ্ন হলো সেখানে নিম্ন অসমে প্রচুর বাঙালি থাকা সত্ত্বেও কোনও আন্দোলন দানা বাঁধছে না কেন?কিছু হিন্দু যে এইমত প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েনি একথা বলছি না।এক্ষেত্রে গৌরী শঙ্করের কথা খুবই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।তিনি বলেছিলেন কিছু মানুষকে সামান্য দিনের জন্য কষ্ট ভোগ করতে হবে।তবে অল্প দিনের মধ্যেই সেটা আর থাকবেনা। সেই সূত্রে এই সময়ে ভোগান্তির শিকার বাঙালি হিন্দুদের কষ্ট অল্প দিনেই শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করা যেতে পারে। আশ্চর্য হতে হয় বামপন্থী সেকুলার দলের প্রতিক্রিয়া দেখে।কোন্ হিসেবে তাঁরা অবৈধভাবে দেশে আগ্রাসনে চলে আসা মুসলমানদের নাগরিকত্ব দাবি করে?ধর্মের নিরিখে দেশভাগ হয়েছে,সেটা কি মিথ্যে? মুসলমানরা তাঁদের পাওয়া পবিত্র ভূমি ত্যাগ করে পূণরায় যদি হিন্দুস্তানে চলে আসে,সেক্ষেত্রে দেশভাগের যৌক্তিকতা থাকে কোথায়?
বহু মহল্লায়,বিশেষ করে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় বলে বেড়ান হচ্ছে যে এন আর সি হলে শুধু বাংলাদেশি হিন্দু নয়,এদেশেরও বেশ কিছু হিন্দু নাগরিকত্ব হারিয়ে বাংলাদেশে চলে যেতে বাধ্য হবে।কোন্ যুক্তিতে কথা গুলো বলা হচ্ছে?যদি ধরে নেওয়া হয় সব পূর্ব বাংলার সব বাঙালিকে তাড়িয়ে দেওয়া হল,এরা যাবে কোথায়? বাংলাদেশের সরকার কি এদের দায়িত্ব নেবে,না সেই দেশে ঢুকতে দেবে?তাহলে কি করা হবে এদের নিয়ে? গুলি করে হত্যা করা হবে?সেটা সম্ভব কি? এই অপপ্রচার চালাচ্ছে মূলত মুসলিম ও তাদের তাবেদার কিছু হিন্দু।এর মূল কারণ হলো মুসলিম অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত হলে ও নাগরিকত্ব বাতিল হলে ভবিষ্যতের মুসলিম বাংলা হাসিল করা যাবেনা।তাই এই অপপ্রচার করে চলেছে হিন্দুদের মধ্যে তাদের সাথে যোগদান করার জন্য।
দেশ স্বাধীনের প্রক্কালে গান্ধী,নেহরু এবং সর্দার প্যাটেল সব সময় হিন্দুদের আশ্রয়ের সমর্থনে কথা বলে গিয়েছেন।সবচাইতে বড় কথা বলেছে তখন কার এ আই সি সি।তারা বলেছে,যাঁরা আসবে তাঁদের জন্য পূণর্বাসনের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।এখানে কিন্তু কোনও সময় নির্দিষ্ট করা হয়নি।বিগত বি জে পি’র নেতৃত্বাধীন সরকার যদিও ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে,তা সত্ত্বেও বলতে হচ্ছে তখন কার অর্থাৎ দেশ বিভাগের সময়কার নেতৃবৃন্দ ও এ আই সি সি’র বক্তব্য খণ্ডন করেনি।এরপরও বলা হয়েছে কোনও শরণার্থী এদেশে একনাগাড়ে সাত বছর বসবাস করেছেন,সেই প্রমাণ দেখাতে পারলে বৈধ ভাবে সে এদেশের নাগরিক হবে।৩১ ডিসেম্বর ২০১৪,এই সময় সীমা দেখানোর অর্থ হলো এই সময়সীমার মধ্যে যে বাংলাদেশি, পাকিস্তানী ও আফগানিস্তানী হিন্দু,বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান এদেশে এসেছেন,তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।লক্ষণীয় হলো এখানেও কিন্তু সাম্প্রদায়িকতাকে আশ্রয় দেওয়া হয়নি।


দেশ বিভাগের আগে লন্ডনে গোল টেবিল বৈঠকে আম্বেদকর-যোগেন মন্ডলরা পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর নেতৃত্ব দিয়ে যখন বৈঠকটি বিফল করে তুললেন,দেশে ফিরে গান্ধীজি আবারও একটা অনশনে বসেছিলেন।তিনি বলেছিলেন,’তোমরা আর যা’ই করো,হিন্দু সমাজটাকে আমি আর ভাগ করতে দেবনা।’ অদ্যকার দিনে এই এন আর সি ইস্যু নিয়ে যাঁরা হিন্দু সমাজকে ভাগ করতে চাইছে, গান্ধীর কথার মূল্য দিয়ে তাঁদেরকে এখনই চিহ্নিত করা শুরু করা হোক।এরপর এই বিভেদকামী শক্তির বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *