রহস্যময় পৃথিবীর

Spread the love

আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি সেই পৃথিবী আমাদের ঘর, এই অসীম ব্রহ্মাণ্ডে আমাদের একমাত্র ঠিকানা এই পৃথিবী ! আমরা মানুষেরা এই পৃথিবীর জানা অজানা রহস্য কে জানার চেষ্টা করেই যাচ্ছি । সৌরজগতের এই নীল গ্রহের নীচে অথার্ৎ গভীরে কত রহস্য যে লুকিয়ে রয়েছে সেটা আজও কেউই যানে না। বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত নতুন কিছু না কিছু বার করেছে যার কারণে আমাদের এই চেনা পৃথিবীও মাঝে মাঝে অচেনা মনে হয় ! তেমনি কিছু অজানা তথ্য আজ আপনাদের কাছে আলোচনা করছি ।


১. পৃথিবীর জন্ম:-

আমরা এই পৃথবীতে বসবাস করি আমরা জানি এই পৃথিবী কোটি কোটি বছর আগে জন্ম হয়েছিল ।বৈজ্ঞানিকদের ধারণা সূর্যের বিস্ফোরণের ফলে সৌরজগৎ এবং আমাদের পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু কিছু কিছু বৈজ্ঞানিক রিসার্চের দ্বারা জানতে পারি পৃথিবী কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিলো । এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত রিসার্চ চালিয়ে যাচ্ছেন। মোটামুটি ৪.৪৪ মিলিয়ান বছর আগে আমাদের পৃথিবী সৃষ্টি হয়।

২. ভূগর্ভস্থ মহাসাগর:-

আপনারা কি জানেন এই পৃথিবীর নিচে আছে বিশাল একটা মহাসাগর।এই পৃথিবীর শিলা স্তরে ৬০০ কিমি নিচে বিশাল এক মহাসাগর আছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন এই মহাসাগর এক নীল শিলা স্তরে নীচে লুকিয়ে আছে। এই শীলা স্তরটি ঠিক স্পঞ্জের মতো কাজ করে। এখানে অবস্থিত হাইড্রোজেন আর সেই অঞ্চলের জলকে পৃথিবীর উপরে আসতে বাধা দেয়। কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন পৃথিবী সৃষ্টির পর যখন এখানে উল্কা বৃষ্টি হয়েছিল সেই সময় এই মহাসাগর তৈরি হয়েছিল । পরে ভৌগলিক কার্য কলাপের কারণে সেই জল আর উপরিভাগে আসতে পারে নি এখানেই আটকে যায়। এবার সব থেকে মজার কথা হলো এই বিশাল মহাসাগরে পৃথিবী পৃষ্ঠে থাকা মহাসাগর গুলির তুলনায় তিনগুণ বেশি জল আছে। অর্থাৎ এই মহাসাগর জলটিকে আমাদের পৃথিবী পৃষ্ঠে মহাসাগরে তিনবার ভরা যেতে পারে।

৩. মধ্যাকর্ষণের ভেদাভেদ:-

আমরা সবাই জানি মধ্যাকর্ষন সমানভাবে এক সমান সব জায়গায় কাজ করে, কিন্তু পৃথিবীর কিছু জায়গা এমনও আছে যেখানে বাকি সব জায়গার মতো মাধ্যাকর্ষণ এক সমান কাজ করে না। এমনই একটি জায়গা হল কানাডার হাটসানওয়ে এখানে বাকি জায়গার তুলনায় মধ্যকর্ষণ অনেক টাই কম। এমনটি ঘটনার প্রধান কারণ হলো ভাসমান উপসাগরীয় অঞ্চলে খুব কম বৃষ্টিপাত হয়। এছাড়া অপসারণ যার ফলে ওখানে থাকা হিমবাহ গলতে থাকা আর ভূগর্ভস্থ ম্যাগমার কারণে উপরস্থ ভূমির ভর কমতে থাকে । ২০০৯ সালে এই প্রমাণ গ্র্যাভিটি ফিল্ড অ্যান্ড স্টাডিস টেড অশিয়ান এক্সপ্লেনেওয়ান স্যাটেলাইট দিয়েছিল এই স্যাটেলাইট কে করা হয়েছিল পৃথিবী পৃষ্ঠের গ্রভিতেশানাল কোর্সের একটা ম্যাপের জন্য। তখন সেই এই ডাটা বিজ্ঞানীদের মধ্যে তুলে দেয়।


৪. পৃথিবীর বড় দিন:-

আমরা সবাই জানি একদিন সমান ২৪ ঘণ্টা হয় কিন্তু আজ থেকে ৬২০ লক্ষ বছর আগে একদিন শুধুমাত্র ২১.৯ ঘণ্টা হত। এবার এর পেছনে একটা সাইন্টিফিক কারণ আছে, যা সূর্যের দ্বারা তৈরি মহাবিশ্বের সময়ের গতিতে ১.৭ মিলি সেকেন্ড যোগ করে প্রতি ১০০ বছরে একদিনে যুক্ত হতে থাকে। আর যদি এখন একে ক্যালকুলেশন করা হয় এখন কার হিসাবে হবে ২৪ ঘণ্টা কিন্তু এখানে ও কিছু বছর আগে একটা অবাক করা বিষয় সামনে আসে। দিনের দৈর্ঘ্য প্রাকৃতিক বিপর্জয়ের উপর প্রভাবিত হতে পারে আর এর প্রকৃত তখনই আসে ২০১১ তে জাপানে এক বিশাল ভূমিকম্প হয়ে ছিল যা পৃথিবীর প্রতি ডিগ্রীর দৈর্ঘকে কমিয়ে দিয়েছিল এই ভূমিকম্পে পৃথিবী ভরের বন্টনকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল, যার ফলে এখন আমাদের দিনের দৈর্ঘ্য ১.৮ মিলি সেকেন্ড কমে গেছে।


৫. বেগুনী রঙের পৃথিবী:-

আমরা সবাই জানি আমাদের পৃথিবী স্পেস থেকে দেখলে তাকে সবুজ দেখায়। কিন্তুু এই পৃথিবী কোনো এক সময় বেগুনী রঙের ছিল। এটা কোনো কল্পনার কথা নয় বাস্তব কথা পৃথিবী শুরুর দিকে ঠিক বেগুনী রঙের ছিল যখন পৃথিবীতে কোনো গাছপালার অস্তিত্ব ছিল না। কারণ তখন পৃথিবীতে একটা ভাইরাসের প্রভাব ছিল যার নাম রেটিনা। এই রেটিনা সূর্যের আলো শোষণ করে একটা অনুর জন্ম দিত তাকে বলা হয় মাইক্রপিস রেটিনা। এটি সূর্যের আলো পেয়ে বেগুনী রঙের দেখাত।

৬. জলের নীচে থাকা পর্বত শৃঙ্খল:-

পৃথিবীর পর্বত শৃঙ্খল গুলির মধ্যে ৯০% জলের নীচে আছে । এটাকে মিড অসিয়ান রেঞ্জ নামে জানা যায়, যা ট্যাক্তনিক ভাইব্রেশন এর ফলে তৈরী হয়ছিল। একটা সার্ভের ফলে জানা যায় এই রেঞ্জ ৮০ হাজার কিলমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পর্বত শৃঙ্খল আয়াম্বিসার থেকে ২০ গুন বড়। এর মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার অগ্নেয়োগিরি যা সময়ের ফলে সাথে সাথে বিসফলিত হয়। আর প্রায় ২০ টা অগ্নায়োগীরি থেকে লালা বেরোতে থাকে যার ফলে প্রতি বছর ২০৫ কিমি রেঞ্জ বাড়তে থাকে।


৭. বিপরতমুখী চৌম্বক ক্ষেত্র:-

এখনকার সময়ে একটা বড় সমস্যা হল যে দিন দিন পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড অস্থির হয়ে উঠেছে আমরা জানি পৃথিবীর ধ্রুব একটা ম্যাগনেটিক ফিল্ড এর মত কাজ করছে আর এটাই পরিবর্তন হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর কেন্দ্র দিন দিন তার আকার বাড়িয়ে ফেলছে আর ওপরের স্তরে ঠান্ডা সংকোচিত হচ্ছে। এখনকার পৃথিবী চৌম্বকীয় ক্ষেত্র বিপরীত দিকটা ঠিক তার বিপরীত দিকে পৌঁছে গেছে আর দক্ষিণ দিক সবসময় সব জায়গায় ১৮০° ভুল এই কারণে পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল এত অস্থির হয়ে উঠেছে।

৮. বাড়তে থাকা গরম:-

পৃথিবীতে তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকছে আর আমরা অনুভব করতে থাকি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আজ থেকে ১০০ বছর পর আমাদের থেকে বেশি উজ্জ্বল আর গরম হয়ে উঠবে। ৪০০ কোটি বছর পর এই গরম এতটাই বেরে যাবে যে সমুদ্রের জল বাষ্প হয়ে উরে যাবে। ৭৫০ কোটি বছর পর পৃথিবী মঙ্গল গ্রহের মত একটা মরুভূমিতে পরিণত হতে পারে।


৯. পেঞ্জিয়ার নির্মাণ :-

পৃথিবীতে ৭টি মহাদেশ আছে। কিন্তুু আজ থেকে ৩ কোটি বছর আগে সব মহাদিপ এক জয়গায় ছিল। যাকে আমরা পেনজিয়া নামে চিনি। যেটা পৃথিবীর তিনভাগের একভাগ ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে আজ থেকে ২.৫ কোটি বছর পর আরও একবার সব মাহাদিপ এক জায়গায় জুড়ে যাবে, আর পেনজিয়ার আরও একবার নির্মাণ হবে।

১০. পৃথিবীতে মানুষের জীবন শুরু :-

পৃথিবীতে কয়েক কোটি প্রাণী বসবাস কিন্তু তার মধ্যে বুদ্ধিমান জীব হলো মানুষ। কিন্তু এখনও আমরা খুঁজে বের করতে পারিনি, আমরা এই পৃথিবীতে কোথা থেকে এসেছি। কিছু বিজ্ঞানীরা মনে করেন পৃথিবী সমস্ত জীব মলকিউলস থেকে তৈরী হয়েছে যা সেই সময় পৃথিবীতে ছিল। এই মোলকিউলস নিজেদের রিপিট করতে পারত, যেমন DNA কিন্তুু এই মলিকিউল পৃথিবীতে তৈরি হয়েছিল না ব্রম্ভান্ডের দূরে কোথা থেকে এসেছিল এটা এখন পরিষ্কার করে জানা যায় নি। বেশির ভাগ বিজ্ঞানীরা এটাই মনে করেন , এই মলিকিউল স পৃথিবী তৈরী হওয়ার সাথে সাথেই তৈরী হয়েছে। আর এই ভাবেই মানুষের সৃষ্টি হয়।


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *