নিঃশর্ত ক্ষমা চান মমতা বাংলার কয়েক কোটি মানুষের কাছে

Spread the love

বিধান সভায় নিজেই স্বীকার করলেন সিঙ্গুরের জমিতে কেউ চাষ করতে চাইছে না । এই স্বীকারোক্তিতে প্রশান্ত কিশোরের টিপস আছে নি না জানিনা । তবে একটা কথা সত্যি যে অনেক দিন বাদে মমতা একটা সত্য কথা বললেন । না বলে উপায়ও ছিল না । তাঁর আদরের সিঙ্গুর ১৬ হাজার ভোটে হারিয়েছে তৃণমূলকে । কান মোলা নয়, কান ধরে ওঠ বোস করানো যাকে বলে । সেটাই করেছে সিঙ্গুর, অনেক ব্যথা বুকে নিয়ে ।

সিঙ্গুর ভাঙিয়ে তাঁর মসনদে যাওয়া । আর ২০২১এ তাঁর final exit এর আগে এই স্বীকারোক্তি মনে করায় অনেক নির্মম সত্যি । তাপসী মালিকের বাবা আজ তৃণমূল বিদ্বেষী । কেন ? তৃণমূলের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য আজ মমতার নাম শুনলেই চটে যান । কেন ? সিঙ্গুর আন্দোলনের লড়াই করা চাষীরা আজ দোকানে বাজারে প্রকাশ্যে গাল পাড়েন তাঁকে । কেন ? এই এত কেনর উত্তর খুঁজেছে সিঙ্গুর । লোকসভায় ১৬ হাজারের deficit তারই output । দু টাকা কেজি চাল দিয়ে manage করতে গিয়েছিলেন ক্ষোভ । হয়নি । সিঙ্গুর বুঝতে শিখেছে নিজের ভালটা । খেয়াল করে দেখুন যে সিঙ্গুর তাঁকে মসনদে চাপিয়েছে সেই সিঙ্গুরের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন এখন মমতা । নবান্নে ডেকে ছোট মাঝারি নেতাদের চমকাচ্ছেন । ধমকাচ্ছেন । তাতে আগুন কিন্তু নিবছে না । গনগনে রাগের আগুনে ফুটছে সিঙ্গুর প্রতিনিয়ত । প্রতারিত তারা – বলছেন প্রকাশ্যে ।

এবারের লোকসভা নির্বাচনে গুজরাটের টাটার কারখানায় কাজ করা বাঙালি তরুণ ছুটে এসেছিলেন সিঙ্গুরে শুধু ভোটটা দিতে । পরের দিন ফিরতি ট্রেনে ফিরে যাওয়ার আগে পড়শিদের বলে গিয়েছিলেন – আমার ভোট বৃথা যাবেনা । লিখে রাখিস । অনেক ব্যথা বুকে নিয়ে সিঙ্গুর থেকে গুজরাটে গিয়ে পড়ে আছি ।

গুজরাটে আস্তানা বাধা এই তরুণের মত অনেক তরুণের স্বপ্ন শেষ করেছেন মমতা । রতন টাটা দুঃখ করে একদিন বলেছিলেন – কি হারালো বাংলা বূঝলনা । যেদিন মুম্বাই থেকে রতন টাটা প্রেস স্টেটমেন্ট করলেন – thank u miss Banerjee. We are withdrawing । তার তিন ঘণ্টার মধ্যে রতন টাটার ফোনে ঢুকেছিল গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর sms । তারপরটা ইতিহাস ।

তথ্য বলছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা খারচ করে কলকাতা কর্পোরেশন সিঙ্গুরে গিয়ে টাটার আস্ত একটা শেড উড়িয়েছিল । সারা কলকাতা জুড়ে কলকাতা পুরসভা ৬ হাজার, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর রাজ্য জুড়ে ৩৫ হাজার hoarding দিয়ে সিঙ্গুরের বিজয় বার্তা বংলা জুড়ে ঘোষণা করেছিল । সে বছরই কলকাতায় ৬ হাজার পদের জন্য সরকারের group D পরীক্ষায় বসেছিল ২৪ লক্ষ আবেদনকারী ।

শুধু সিঙ্গুর থেকে TATA নয়, ২০১০ সালে রাজারহাত থেকে Infosys তাড়ানোর ইতিহাস কম কিছু ?? চাষের জমিতে SEZ করতে দেব না বলে ২০১০ সালে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেছিলেন মমতা । তার আগে বুদ্ধদেব INFOSYS কে রাজী করিয়ে ফেলেছিলেন – ৫০ একর জমি নেবে তারা । সংস্থাটি ৭৫ শতাংশ জমি অর্থাৎ ৩৭.৫ একর জমিতে আই টি শিল্প করবে । বাকি ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ১২.৫ একর জমি ব্যবসায়িক কাজে লাগাবে । ধাপে ধাপে তারা দেড় হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করবে । যাতে প্রায় বিভিন্ন পর্যায়ে দশ হাজার কর্মসংস্থান হবে । সব চূড়ান্ত হওয়ার পর মমতার SEZ বিরোধী তীব্র আন্দোলনে ফিরে গিয়েছিল INFOSYS ।

২০১৮ তে সেই INFOSYS কে প্রায় হাতে পায় ধরে ফেরাচ্ছে সরকার । কীভাবে ? শুনুন । SEZ থেকে দ্বিগুণ সুবিধে দিয়ে । বুদ্ধদেব INFOSYS কে ৭৫ শতাংশ জমি অর্থাৎ ৩৭.৫ একর জমিতে আই টি শিল্প করাতে রাজী করিয়েছিলেন । তৃণমূল সরকার ৫০ একর জমিতে ৫১ শতাংশ অর্থাৎ ২৫.৫ একর জমিতে আই টি শিল্পর প্রস্তাবে রাজী হয়ে গেল । বুদ্ধদেব রাজী করিয়েছিলেন দেড় হাজার কোটির বিনিয়োগে । তৃণমূল সরকার ১০০ কোটির বিনিয়োগেই রাজী হতে বাধ্য হল । বুদ্ধদেব দশ হাজার কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি আদায় করেছিলেন । INFOSYS তৃণমূল সরকারকে জানিয়েছে ৬ বছরে ১০০০ জনের চাকরি হবে । INFOSYS বুদ্ধদেবকে কথা দিয়েছিল রপ্তানির ব্যবসা করবে । এখন শুধুই support service এর ব্যবসা হবে এখান থেকে ।

 

ফল – সেদিন infosys থাকলে বাংলায় এতদিনে দশ হাজার শিক্ষিত তরুণের চাকরি হত । যা হল না ।

কি বুঝলেন ??

 

সিঙ্গুর ফুঁসবেনা কেন আজ ? এই প্রতারণা তো তাঁদের সঙ্গেও করা হয়েছে ? মানুষের জীবিকার বিনিময়ে তিনি মসনদ পেয়েছেন । হাজার হাজার ছেলে মেয়ের জীবন জীবিকাকে বন্ধক রেখে তিনি নবান্নের ১৪ তলার lift ধরেছেন । একটা সিঙ্গুর, একটা Infosys কেড়ে কেড়ে নিয়ে গেছে বহু জীবনের স্বপ্নগুলোকে । তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছেপুরনের, স্বপ্ন পূরণের হাওয়াই জাহাজে ওঠার তাড়নায় ।

আজ বিদায়কালে স্বীকারোক্তি করছেন ? সিঙ্গুরের জমিতে আর চাষ হবেনা, করতে চাইছে না চাষিরা ।
বিধান সভায় শেষ কবে এমন সত্য বলেছেন মনে পড়ে আপনার ?

যদি সামান্য লজ্জাবোধ থাকে চলে যাওয়ার আগে এই সীমাহীন অপরাধের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে যান বাংলার কয়েক কোটি মানুষের কাছে । ক্ষমা তাঁরা করবেন না কারণ ক্ষমা হয়না এই সীমাহীন অপরাধের ।

তবু, তবুও ক্ষমা চান । নতজানু হয়ে । অন্তত একবার ।

 

২০২১ এ আপনার চলে যাওয়ার পর সেটাই একমাত্র সান্ত্বনা হয়ে থাকবে প্রতারিত বাঙালির ভাঁড়ারে ।

 


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *