মহান রাশিয়ান লেখক “লিও তলস্তয়” এর একটা গল্প

Spread the love

মহান রাশিয়ান লেখক “লিও তলস্তয়” এর একটা গল্প মনে পড়ে গেল।

 

।। শর্ত ।।

ওই গল্পে দুই বন্ধু নিজেদের মধ্যে একটা বাজি ধরে।
শর্ত একটাই যদি কেউ এক মাস ধরে একা, কারও সাথে কথা না বলে, একটা ঘরে থেকে, বাইরে না বেরিয়ে কাটাতে পারে তবে অন্য জন তাকে দশ লক্ষ টাকা দেবে
কিন্তু এর মধ্যে সে যদি শর্ত ভঙ্গ করে তবে সে হেরে যাবে এবং কোন টাকা পাবে না।

প্রথম বন্ধু শর্ত স্বীকার করে নিলে, দ্বিতীয় বন্ধু তাকে দুরে একটা ফাঁকা বাড়িতে একটা ঘরে বন্দি করে রেখে আসে।
দুবেলা খাবার জল ইত্যাদি পৌঁছানোর ব্যবস্থা ও কিছু বইও সঙ্গে দিয়ে আসে।

প্রথম বন্ধু সেখানে থাকতে শুরু করে।
প্রথম দু এক দিন বই পড়ে সময় কেটে যায়।
কিন্তু তারপর আর সময় কাটতে চায় না।
যদিও ওকে বলা ছিল যে, যদি খুব অসুবিধা হয়, বরদাস্ত না করতে পারে, তবে একটা ঘন্টা আছে যেটা বাজালেই তাকে বের করে নেওয়া হবে।

যত দিন কাটতে থাকলো, তার যেন এক একটা ঘন্টা এক একটা যুগ মনে হতে লাগলো।
সে চিৎকার করতে শুরু করলো, চেঁচিয়ে গলা ফাটিয়ে ফেললো।
কিন্তু শর্তের কথা মাথায় রেখে ঘন্টা বাজালো না।কাউকে ডাকলো না। নিজের চুল ছিঁড়তে লাগলো।
গালাগালি করতে থাকলো।
মানে একাকীত্বের জ্বালা ভয়ঙ্করভাবে তাকে শেষ করে ফেলতে লাগলো।

তবু সে শর্তের কথা মনে করে তা সহ্য করতে থাকলো।
আরও কিছুদিন এইভাবে কাটার পর ওর ভিতরে এক অদ্ভুত শান্তি বাসা বাঁধতে শুরু করলো।
ও আস্তে আস্তে শান্ত হতে থাকলো।
আর ওর কাছে কোনও কিছুই চাহিদা বলে মনে হলো না।
ও একদম শান্ত হয়ে চুপ করে বসে থাকলো।
যেন মৌনব্রত নিয়েছে।
ওর সব চেঁচামেচি বন্ধ হয়ে গেল।

ওদিকে দ্বিতীয় বন্ধু চিন্তায় পরে গেছে দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছে অথচ প্রথম বন্ধু বেরোবার নামও করছে না।

মাস শেষ হতে যখন আর দুদিন বাকি, তখন দ্বিতীয় বন্ধু ব্যবসায় ভরাডুবি হয়ে দেউলিয়া প্রায়।
সে ভাবতে লাগলো যদি তার বন্ধু শর্ত জিতে তার কাছে টাকা চায় তাহলে সে কি করবে?

কোনও উপায় না পেয়ে সে বন্ধুকে গুলি করে হত্যা করার পরিকল্পনা করে, একমাস শেষ হওয়ার ঠিক একদিন আগে সেই বাড়িতে গেল।

সেখানে গিয়ে সে আশ্চর্য হয়ে গেল।
তার বন্ধু একমাস শেষ হওয়ার ঠিক একদিন আগেই, সব শর্ত ভেঙে, তার নামে একটা চিঠি লিখে রেখে চলে গেছে।

চিঠিতে লিখে গেছে –
প্রিয় বন্ধু এই এক মাসে আমি যা পেয়েছি, কোনও টাকা দিয়ে তার মূল্যায়ন করা যায় না।
আমি একা থেকে অসীম শান্তি ও সুখ পেয়েছি।
আর আমি এও জেনে গেছি যে আমাদের চাহিদা যতই কমতে থাকবে ততই আমাদের অসীম আনন্দ আর শান্তি বাড়তেই থাকবে।
এই ক’দিনে পরমাত্মার অশেষ ভালোবাসা কাকে বলে তা আমি জেনে গেছি।
সেইজন্য আমি আমার তরফ থেকে তোমার এই শর্ত ভেঙে দিলাম।
কারন তোমার ঐ টাকার আর আমার কোনও প্রয়োজন নেই।

এই উদাহরণ থেকে এইটা ভেবে দেখুন যে লকডাউন এর সময়ে আমাদের পরমাত্মা হয়তো পরীক্ষা নিচ্ছেন।

নিজে দুঃস্চিন্তাগ্রস্ত, ভীত না হয়ে, বরং সেই পরমাত্মার কাছে পৌছানোর চেষ্টা করবো।

জীবনটাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করবো।

এতেও নিশ্চয়ই কিছু ভালো দিক আছে ভেবে সেই ভগবানের কাছে সমর্পণ করে দিই।

বিশ্বাস করুন ভালোই হবে।

লকডাউন মেনে চলুন।

নিজে সুস্থ থাকুন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখুন।

লকডাউনের পর জীবনপণ পরিশ্রম করুন নিজের, পরিবারের, এবং রাষ্ট্রের জন্য।
দেশের পতনশীল অর্থব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য।

 


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *