কৈলাস মন্দির পৃথিবীর আশ্চর্য

Spread the love

কৈলাস রহস্য পৃথিবীর আশ্চর্য এক মন্দির

পৃথিবীতে আজও এমন কিছু রহস্য লুকিয়ে রয়েছে যার উত্তর এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞান দিতে পারেনি ! ভারতবর্ষে এমন একটি মন্দির রয়েছে ,যার মধ্যে বহু বছর ধরে সৌন্দর্যের আড়ালে রহস্য লুকিয়ে রয়েছে ! মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ এর কৈলাস মন্দির হলো এমনই এক মন্দির যে মন্দির বৃষ্টি পড়লে ভিজে না ! ঔরঙ্গাবাদ এর কৈলাস মন্দির মহারাষ্ট্রের প্রসিদ্ধ ইলোরা গুহার মধ্যে অবস্থিত যে গুহাটি কে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন গুহা বলে মনে করা হয় ! এটি একটি রহস্যময় শিব মন্দির এই মন্দিরের নির্মাণ শৈলী দেখে বিজ্ঞানীরা এতটাই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন !  যে তারা আজ পর্যন্ত মন্দিরের সঠিক নির্মাণকাল সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেনি !

কিছু বিজ্ঞানী এই মন্দিরকে ১৯০০ বছরের পুরনো ! কেউ কেউ একে ৬০০০বছর পুরনো মনে করে ! আশ্চর্যের বিষয় হলো এই অপরূপ নিদর্শন ইট পাথরের তৈরী নয় ! আবার অন্যান্য মন্দিরে মত পাথরের টুকরো জুড়ে তৈরি করা হয়নি ! এটি বাড়ানো হয়েছে একটি মাত্র পাথর কেটে ! যে কারণে এটির সঠিক নির্মাল কাল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া একেবারেই অসম্ভব !পৃথিবীর সমস্ত মন্দির পাথর অথবা ইট দিয়ে বানানো কিন্তু আস্ত একটা পাহাড় কেটে মাত্র 17 বছরে কিভাবে এটা বানানো হয়েছিল তা সঠিক ব্যাখ্যা আধুনিক বিজ্ঞানও দিতে পারে না তবে কি এই মন্দির নির্মাণের পেছনে ছিল কোন অত্যাধুনিক টেকনোলজি অথবা ভিনগ্রহের প্রাণী অথবা ঈশ্বর।

এই মন্দিরে কারণ অর রহস্য

(১). প্রথম কারণ কৈলাস মন্দির টি কবে তৈরি হয়েছিল তা এখনো অজানা লিপি থেকে জানা যায় এই মন্দিরটি 756 থেকে 773 খ্রিস্টাব্দে রাজা প্রথম কৃষ্ণ এটি বানিয়েছিলেন যিনি একজন রাষ্টপশি‌‌‌ শাসক ছিলেন বেশিরভাগ আর্কিওলজিস্ট সরাসরি মন্দিরেরসাথে লিপির কোন যোগাযোগ খুঁজে পাননি তবে এটি কি আরও প্রায় দুই থেকে তিন হাজার বছর আগের মন্দির এবং যেটি কী পিরামিডের ও সমসাময়িক ?

(২). দ্বিতীয় কারণটি হলো অন্যান্য যে সমস্ত মন্দির সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে আছে সেগুলি খোদাই করা হয়েছিল পাথরকে নিচ থেকে উপরের দিকে কিন্তু এক্ষেত্রে খোদাই করা হয়েছে উপর থেকে নিচের দিকে কেন এমন হলো ? এরকমভাবে কোনো মন্দির তৈরি করতে গেলে এর সম্পূর্ণ পরিকল্পনা আগে থেকে করে নিতে হয় এবং সেই মতো যন্ত্রাংশ থাকতে হয় প্রাচীন মানুষের কাছে এরকম যন্ত্রাংশ কোথায় পেলো যেটা আধুনিক বিজ্ঞানের কাছেও নেই ?

(৩). তৃতীয় কারণটি হলো খুবই রহস্যজনক যেটা এতগুলো পাথরকে যখন সরানো হলো বা এই বড় পাটাকে যখন কেটে মন্দির টাকে যখন বার করা হলো তাহলেই অবশিষ্ট পাথর গুলো কোথায় গেলো ? মন্দিরে আশেপাশে তো দেখা যায় না আর অবশিষ্ট অংশ দিয়ে কোন স্থাপত্যের হদিস পাওয়া যায়নি প্রায় 4 লক্ষ টন পাথর কোথায় গেল ?

(৪). চতুর্থকারণটি হলো সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের মতে এত কম সময় আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করে বর্তমানে মাত্র 17 বছরে এটি তৈরি করা সম্ভব নয়তবে প্রাচীন মানুষ কেবলমাত্র ছেনি, হাতুড়ি, গাইতি, এগুলোর মাধ্যমে বানিয়ে ফেলল এত নিপুন সৌন্দর্যময় মন্দির

(৫). পঞ্চম কারণ হল – বহু শতাব্দী প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৈদেশিক আক্রমণ কিভাবে প্রায় একই রকম রেখে দিয়েছে মন্দিরটিকে – যেমনটি মোগল সম্রাট ওরঙ্গজেব এই মন্দির টিকে ধ্বংস করার জন্য প্রায় এক হাজার সৈন্য পাঠিয়েছিলেন এবং তারা দিনরাত এক করে প্রায় তিন বছরে কেবলমাত্র মন্দিরে মূর্তি ছাড়া আর কিছু নষ্ট করতে পারেনি ! এরকমভাবে যেরকম পিরামিড ধ্বংস করতে গিয়েছিল বৈদেশিক শক্তি তারাও কিন্তু পারেনি !  ব্যাপারটা কাকতালীয় হলেও সত্যি প্রাচীন স্থাপত্য যেগুলো হয়তো মানুষের তৈরি সেগুলো কিন্তু এখনো প্রায় অক্ষত ! যদি আমরা খুব সহজ একটা অংক করি দেখতে পাবো – প্রায় 4 লক্ষ টন পাথর, আর 18 বছরে সরাতে গেলে প্রত্যেক বছর দু লক্ষ টনেরও বেশি পাথর সরাতে হবে এবং দিনে প্রায় 600 টন পাথর সরাতে হবে ! এরপর যে মূর্তি আর অপরূপ ভাস্কর্য করা হয়েছে সেগুলো আরো অনেক বেশি সময় এবং উপর থেকে নিচে দিকে খোদাইয়ের  জন্য আগে থেকে পুরো পরিকল্পনা করা হয়েছিল ! কোথায় কোন পাথর জোড়া হয়নি যেমনটি  দুটি মন্দিরে মাঝে একটি কানেক্টিং ব্রিজ ! এখানে আগে ব্রিজ তারপর পিলার বানানো হয়েছে ! সাধারণত প্রথমে স্তম্ভ এবং পরে ব্রিজের মাঝের অংশ বানাতে হলে দুটি পাথরকে জোড়া হয় কিন্তু এখানে  কোন পাথরের জোড় খুঁজে পাওয়া যায়নি ! এছাড়া এই মন্দিরটি একমাত্র মন্দির যেখানে আকাশ থেকে দেখলে একটি এক্স মার্ক দেখা যায় ! তবে প্রাচীন মানুষ কি কোন সংকেত দেখাতে চেয়েছিলেন যেমনটি পেরুর নাচকা লাইন এর সংকেত রহস্য আজও ভিনগ্রহের মানুষ অথবা জীবের অস্তিত্ব জানান দিয়ে যায় ! ঠিক সেরকমই প্রাচীন স্থাপত্য যেটি বহু পূর্বে  তৈরি হয়েছিল এবং হিন্দু দেবতার মহাদেবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছিল এ বিষয়ে কিন্তু এখনো আশ্চর্য রয়ে গেছে।


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *