আম্ফান ঘূর্ণিঝড়

Spread the love

Hurricane Amphan

আয়লা হতে আম্ফান –

বঙ্গোপসাগরে দানা বেঁধেছে ঘূর্ণিঝড়। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে আম্ফান। ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে আম্ফান এবং ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফিরতে পারে ১১ বছর আগের আয়লার ভয়াবহ স্মৃতি।

 

আম্ফান ঘুর্ণিঝড়ের সময়কাল

ভারত মহাসাগরীয় ঘুর্নিঝড় পূর্বাভাষ কেন্দ্র IMD -র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যেভাবে সাইক্লোনের গতি এগোচ্ছে তাতে সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় ১৯ শে মে থেকে ২০ শে মে ২০২০ পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের যা আবহাওয়া, তাতে প্রবল ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার জন্য অনুকূল। যার ফলে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে আম্ফান।

Hurricane Amphan

ঘুর্ণিঝড়ের উপকূল স্পর্শ –

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাষে জানানো হয়েছে, ১৯ শে মে থেকে ২০ মে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে ঘূর্ণিঝড়টা আঘাত হানতে পারে। তবে সম্ভাবনা বেশি ২০ শে মে তারিখ সন্ধ্যার পর স্থলভাগে প্রবেশ করার। আনুমানিক রাত্রি ৯.০০ থেকে ১০.০০ টার সময় স্থলভাগে প্রবেশ করবে আম্ফান ঘুর্ণিঝড়।

 

ঘুর্ণিঝড়ের প্রবেশ স্থান –

পূর্বাভাস অনুযায়ী যা জানা যাচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূলে প্রবেশ করেছে ঘুর্ণিঝড় আম্ফান। সুবর্ণরেখা নদীর মোহনা হতে মন্দারমনির মাঝে ভূমিভাগ স্পর্শ করতে পারে। আবার ভাগীরথী নদীর মোহনা ও সাগরদ্বীপ হয়েও ঢুকতে পারে শেষ মুহুর্তের জন্য।
প্রায় দিন দশেকের বেশি সময় ধরে বঙ্গোপসাগরে থিতু হয়ে শক্তি সঞ্চয় করেই চলেছে এই ঝড়। এই ঝড়ের অভিমুখ এখনও ধন্ধে রেখেছে আবহাওয়াবিদদের।

Hurricane Amphan

ঘুর্ণিঝড়ের গতিপথ —–

স্থলভাগে প্রবেশের পর দীঘা, কাঁথি, রামনগর, মন্দারমণি, হলদিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন, মোহনপুর, নারায়নগড়, সবং ওপর এর প্রভাব প্রচণ্ড শক্তিশালী হবে৷ স্থলভাগে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময় তার গতি বৃদ্ধি হয়ে উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে হাওড়া, হুগলী, কলকাতা, দঃ ২৪ পরগনা, উঃ ২৪ পরগনার দিকে। যদি ভাগীরথী নদীর মোহনা ও সাগরদ্বীপ হয়ে প্রবেশ করে শেষ মুহুর্তে তাহলে কলকাতা সহ দুই ২৪ পরগনা জেলায় প্রভাব প্রচন্ড হবে খোলা নদীর মোহনার জন্য। সেক্ষেত্রে দুই মেদিনীপুরে প্রভাব তুলনায় কম হবে কিছুটা। তারপর বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।
পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সঙ্গে ওড়িষ্যার উপকূল এলাকায়ও সতর্কতা জারী হয়েছে।

 

ঘূর্নিঝড়ের গতিবেগ –

আম্ফান এখনও পারাদ্বীপ বন্দর থেকে দক্ষিণ পূর্ব দিকে ১০৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে ৷ সমুদ্রের উপর যার গতিবেগ ঘন্টায় ২০ – ৩০ কিলোমিটার রয়েছে৷ উপকূলের যত কাছে আসবে গতিবেগ তত বৃদ্ধি হবে। স্থলভাগে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময় তার গতি বৃদ্ধি হয়ে ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার গতি হবে।
আম্ফানের গতিপথ ও গতিবেগ কেমন হবে সেই সন্দেহ আস্তে আস্তে দূরীভূত হয়েছে ৷ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই অতি বিধ্বংসী সাইক্লোনিক স্টর্মের গতিবেগ ঘন্টায় ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

১৭ ই মে ২০২০ থেকে উত্তর পূর্ব মুখে এগোচ্ছে এই বিধ্বংসী সাইক্লোনিক স্টর্ম ৷ ১৮ ই মে তারিখ থেকেই এই ঝড় উত্তর ও উত্তর পূর্ব অভিমুখে ক্রমশ অগ্রসর হবে। ২০ শে মে তারিখের মধ্যে স্থলভাগে আছড়ে পড়বে। তাই ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে এই সাইক্লোনের ব্যাপক প্রভাব পড়া শুরু হবে ৷

Hurricane Amphan

বৃষ্টিপাত ও প্রভাব –

আম্ফান ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে প্রবল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকবে। প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টিপাত হবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার থেকে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবার ওই এলাকা গুলিতে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে।উপকূলীয় অংশে প্রবল ঝড় ও বৃষ্টির সঙ্গে বাড়িঘর, গাছপালা ভেঙে পড়তে পারে। তাই চরম সতর্কতা জারী হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ এবং ঊড়িষ্যা দুই রাজ্যে ইতিমধ্যেই সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুই রাজ্যে ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

 

পদক্ষেপ গ্রহণ –

NDRF ডিরেক্টর জেনারেল এস.এন. প্রধান জানিয়েছেন, দুই রাজ্যে মোট ১৭টি টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এক একটি টিমে থাকছেন বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত ৪৫ জন সদস্য।পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মূলত এই ঝড় বইবে উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিন ২৪ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া ও হুগলীর ওপর দিয়ে তাই রাজ্যের এই ৬ টি জেলায় ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের ৭টি টিম মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঊড়িষ্যার ক্ষেত্রে পুরী, বালাসোর, ময়ূরভঞ্জ, ভদ্রক এবং জগৎসিংহপুরে মোতায়েন করা হয়েছে আরও ১০টি টিম।

 

সতর্কতা অবলম্বন –

ঘূর্ণিঝড় নিয়ে কিছু সতর্কতা নিজেদের নিতে হবে। যেহেতু এই লকডাউন চলছে এই সময়। তাই খুব ধীরস্থির হয়ে যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন আছে…..

Hurricane Amphan

ঘূর্ণিঝড়ের আগে –

১) যথাসম্ভব নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।
২) জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী কাছে রাখুন।
৩) প্রয়োজন মত পানীয়জল ও খাদ্য সংগ্রহ করে রাখুন।
৪) সরকারি ঘুর্ণিঝড় বার্তায় নজর রাখুন।
৫) বিদ্যুৎ থাকবে না বেশ কয়েকদিন এটা বিবেচনা করে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা রাখুন। যেমন – হ্যারিকেন, লন্ঠন, টর্চ, এমারজেন্সি লাইট। সঙ্গে টর্চ ও ব্যাটারী অবশ্য রাখবেন সাথে।
৬) মোবাইল ফোন আগেই সম্পূর্ণ চার্জ দিয়ে রাখুন। বিপদের সময় যে কোনও মুহূর্তে মোবাইলের দরকার হতে পারে। প্রয়োজনে পাওয়ার ব্যাঙ্ক রাখবেন।
৭) নিজের পরিবার এবং গবাদিপশু সহ পোষ্যদেরও বাড়ির ভিতর নিরাপদ স্থানে রেখে দিন।

 

ঘূর্ণিঝড়ের সময় –

১) ঝড় শুরু হলে প্রথমেই বাড়ির ভিতরের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিন। তা নাহলে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
২) ঘরের দরজা-জানলা ভাল করে বন্ধ রাখুন।
৩) ঝড়ের সময় যদি রাস্তায় থাকেন, তা হলে যত দ্রুত সম্ভব কোনও সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নিন।
৪) গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নীচে দাঁড়াবেন না।
৫) রেডিও/ট্রানজিস্টারে ঘূর্নিঝড়ের খবর শুনুন। কিম্বা ইন্টারনেট থাকলে মোবাইল ফোনে অাপডেট দেখুন।
৬) সমস্যা হলে নিকটতম সাইক্লোন রেসকিউ সেন্টারে যোগাযোগ করুন।

Hurricane Amphan

ঘূর্ণিঝড়ের পর –

১) ঝড়ে ক্ষতি হয়েছে এমন কোনও বাড়িতে আশ্রয় নেবেন না।
২) ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে হাত দেবেন না।
৩) সাপ নিয়ে সতর্ক থাকবেন এই সময়।
৪) রাত্রে আলো ছাড়া চলাচল করবেন না।
৫) পানীয় জল না পেলে জল ফুটিয়ে খান।
৬) নিজেকে শান্ত ও সংযত রাখুন, নিজে সতর্ক রাখুন এবং অপরকে সতর্ক করুন।

 


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *