বামৈস্লামিক হতে গেলে কীভাবে নিজের প্রোফাইল সাজাতে হয়

Spread the love

শাহবাগ থেকে শুরু করে গত ছ বছরের রিসার্চে যা যা বুঝলাম, বামৈস্লামিক হতে গেলে কীভাবে নিজের প্রোফাইল সাজাতে হয়:

প্রোফাইল:

১. প্রোফাইল পিকচারে গোটা তিনেক ইস্যুতে আই ওয়ান্ট জাস্টিস, একটা নভেম্বর বিপ্লবের একশো বছরের ফ্রেম থাকতেই হবে। একটা কালো ডিপি, একটা ভোট ফর লেফট। লোকসভা বা ভোটের রেজাল্টের দিন অবধারিতভাবে নতুন অরাজনৈতিক ডিপি, তারিখ মিলিয়ে দেখবেন। চে গেভারা মাস্ট, মার্ক্সের ওই দাড়িওলা ছবিটারও বাজার ভাল। তবে স্তালিন বা মাও বিশেষ পাত্তা পান না, হয়তো ইনফোটেক জমানায় জেনোসাইডগুলোর খবর এখন ক্লাস সেভেনের বাচ্চারাও জানে, তাই।

২. কভারে মহারাষ্ট্রে দু কোটি মানুষের মিছিল, সাড়ে তিনকোটি লাল পতাকা, খুব জুম করা ফাটা পায়ের সর্বহারা ছবি যার ব্লার এফেক্ট দেখলেই বোঝা যায় দামী লেন্সে তোলা। বেদোলীনা হেমব্রম পিঁপড়ের চচ্চড়ি দিয়ে শালপাতায় খিচুড়ি খাচ্ছেন। এবং হুট করে গোটা তিন চার ছেলেমেয়ের গ্রুপছবি, সঙ্গে গণসংগীত বা সুমন। ট্যাগড লিস্ট দেখে চেক করলে দেখা যাবে, গ্রুপের অন্তত একজন বাকিদের কারো না কারো নামে কখনো না কখনো মিটু-র অভিযোগ এনেছে।

 

৩. ফ্রেণ্ডলিস্টের ম্যাট্রিক্সের ছখানার দুটোর পদবী আজাদ, একটার ভেমুলা, একটার পদবিহীন বা বহিরাগত। একজন অবশ্যই থাকবে ড্যানিয়েল অতনু শেখ বা ক্রিস্টোফার বদরুদ্দিন চ্যাটার্জি। একটি উটকো নামের ফেক: ভাসিলি জাইৎসেভ, হেলেন ডেমুথ, ধ্বজো সেন অথবা অচল আধুলি।

পোস্ট:

১. পুঁজিবাদী উন্নয়নের চাপে ঘরছাড়া অসহায় কৃষিজীবি, হাইটেনশন তারের প্রভাবে পাগল হয়ে যাচ্ছে মূলবাসী ছাগল। আদানিকে আমেরিকা থেকে সাম্রাজ্যবাদী ছাগল আমদানির সুযোগ করে দেবার জন্যেই এই চক্রান্ত? অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আসুন অমুক দিন বেলা চারটেয় আমাদের কনভেনশনে। স্থান: আকাদেমির বাওবাবতলা, কলেজ স্কোয়ারের ঈশানকোণ, বাজেশিবপুর রূপচাঁদ পক্ষী লেন, এইটবি।

২. মানুষের সাথে লেফট ফ্রন্ট বা সিপিয়েম ডেইলির একের পর এক পোস্ট শেয়ার। পাঁচপোতা আরশোলা ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় বাম প্রার্থীদের। তেলেনাপোতা জ্ঞানেন্দ্রনাথ মিত্র প্রাথমিক হাইস্কুলের কমিটি দখল করল বামফ্রন্ট। পশ্চিম লিথুয়ানিয়ায় দক্ষিণপন্থী শক্তিকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয় কমিউনিস্টদের। নিকারাগুয়ার পঞ্চায়েত ভোটে গণরায়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরে এল বামপন্থীরা, ইউরোপ জুড়ে লাল ঝড়। বিশিষ্ট জাপানি চিন্তাবিদ বিচিটাকে উঠেগেল বলেছেন, সমাজতন্ত্রই ভবিষ্যৎ। প্রতিটি পোস্টে ট্যাগ হরিপদ ভেমুলা, পদ্মলোচন আজাদ অ্যাণ্ড সিক্সটি নাইন আদার্স। গড় লাইক আট, কমেন্ট দুই।

৩. ফলিত জ্যোতিষ সেকশন। প্রতিটি ভোটের আগের দুমাস এবং ভোট চলাকালীন দেখা যায়।
ভোটের আগে: বিপুল ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বামফ্রন্ট। কমরেড তূর্যদন্ত মিশ্রের জনসভায় বেহালা চৌরাস্তায় পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ। ব্রিগেড ভরিয়ে দিলেন এক কোটি বামপন্থী।
ভোট চলাকালীন: তৃতীয় দফার ভোটের শেষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেছে বামফ্রন্ট, এরপর শুধু ব্যবধান বাড়ানোর পালা। বাকি সব কেন্দ্রে যদি হেরেও যাই, যবতক সূরয-চাঁদ রহেগা যাদপ্পুর জিতছিই।
ভোটের দিন: ১৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে মানুষের তাড়া খেয়ে পালিয়ে গেল ফ্যাসিবাদী লুম্পেনরা। ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাট দিয়ে গ্রেনেড আটকালেন কমরেড হুঁকোমুখো। ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচশো ভোটের লিড দিচ্ছি আমরা।
রেজাল্টের দিন: (বেলা বারোটা অব্দি) দশ কিলো লাল আবিরের অর্ডার চলে গেছে নুরুলদার দোকানে। খেলা ঘুরছে, দম রাখুন কমরেড।
(বেলা চারটে) শ্মশানের স্তব্ধতা।
রেজাল্টের পরদিন: (অভিমানী মোড) শুয়োরের বাচ্চা জনগণ, রইল তোদের নির্বাচন। মানুষ ভুল করেছে, এরা লুম্পেনদেরই ডিজার্ভ করে। এ দেশের আর কিছু হবে না। চলুন কমরেড, কিউবা চলে যাই।

 

৪. প্রিমিয়াম কনটেন্ট। ইসলামিক মৌলবাদীদের করা প্রতিটি অপরাধের সুললিত জাস্টিফিকেশন। সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে? আহা, কল অফ ডিউটি খেলে হিংস্র হয়ে গিয়েছিল। মুক্তচিন্তককে কুপিয়ে মেরেছে? মানুষের ভাবাবেগে আঘাত দিতে নেই। নিরস্ত্র জনতার উপর গাড়িবোমা হামলা? জানেন সত্তর বছর আগে ইথিওপিয়া আর আলজিরিয়ায় কী হয়েছিল! রেপ করেছে? এ কী, রেপিস্টের ধর্ম কেন দেখছেন! রেললাইন উপড়ে ফেলেছে, ট্রেন জ্বালাচ্ছে, স্টেশন জ্বালাচ্ছে? বেশ করেছে, নিপীড়িত মানুষ কী সংসদীয় পথে প্রতিবাদ করবে নাকি? সব জ্বালিয়ে দিন ভাই। আমরা সাথে আছি। নারায়ে তকবির, ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

 

৫. প্রিমিয়াম কনটেন্ট। হিন্দুব্যাশিং। ওরা সবাই ব্রাহ্মণ্যবাদী মনুবাদী ধর্ষকামী। ধর্ষকের ধর্ম দেখছেন কেন বললেই ব্লক। সংখ্যাগুরুরা সব জায়গায় দাঙ্গা শুরু করে জানেন? নোয়াখালি-বরিশাল তুললে আনফ্রেণ্ড, অত আগের কথা কেন! ইতিহাসের কথা টেনে বিদ্বেষ বাড়াতে লজ্জা করে না? কালিয়াচক-ধূলাগড় তুললেও প্রথমে খিস্তি, প্রমাণ কই রে শুয়োরের বাচ্চা আইটিসেল? গার্ডিয়ান বা টাইমসের লিঙ্ক দেবার পরে আনফ্রেণ্ড বা ব্লক, কমেন্ট ডিলিট। অযোধ্যা আর গুজরাত লুপে আসে প্রতি বছর, তখন ওই ইতিহাসের কথা টেনে আনার প্রশ্ন তুললেও আনফ্রেণ্ড। মকবুল ফিদা হুসেনের উপর অসহিষ্ণু আক্রমণের কথা তুলে দেড়পাতার পোস্ট, কমেন্টে তসলিমার কথা তুললে ব্লক। সাধ্বী প্রজ্ঞার মত মানুষ কেন সংসদে যাবে তাই নিয়ে প্রতিবাদী পোস্ট, ইমরান-নুরুল-ইদ্রিশের কথা কখনোই আসে না কেন জিজ্ঞেস করলেই আনফ্রেণ্ড, কমেন্ট ডিলিট।

 

৬. বাম ন্যারেটিভে গলা না মেলানো সকলেই ইনিশিয়াল হুজুগ তোলার কাজ মিটে যাবার পরে শুয়োরের বাচ্চা। অভিজিৎ বিনায়ক কেন মোদীর সাথে দেখা করল? ধান্দাবাজ। রঘুরাম রাজন আইএমএফ-এ ছিল না? পুঁজিবাদের পুতুল। নন্দন নিলেকানি আধারের পুরো ব্যাপারটা ছক করেছিল? রাষ্ট্রের দালাল।

 

৭. পুরুষ হলে একটা সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের অভিযোগের সাফাই। খোঁয়াড়ে কীরকম কানেকশন আছে এবং অভিযোগের কীরকম তথ্যপ্রমাণ আছে তার উপর নির্ভর করে এই পোস্টের সুর চড়ায় বা খাদে থাকবে। তথ্যপ্রমাণ কম থাকলে: সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ, আন্দোলনের স্পিরিট ভাঙতে কুৎসা, আমি যে কোনো রকম তদন্তের সম্মুখীন হতে রাজি আছি (কমেন্টে: পাশে আছি ভাই, ও এরকম করতেই পারে না জানি)। তথ্যপ্রমাণ বেশি থাকলে: আমি পাপী, আমার পার্কিনসন আছে তাই হাত কেঁপে চড় মেরে দিয়েছিলাম, আমার মধ্যে পুরুষতান্ত্রিক প্রবণতা আছে, এগুলো কাটিয়ে উঠতে চাই, নিজেকে সংশোধন করতে চাই। খুব বেশি তথ্যপ্রমাণ থাকলে: ছমাসের জন্য প্রোফাইল বন্ধ।

 

৮. প্রতিটি ভারতীয় ধর্ম, উৎসব ও দেবদেবীকে নিয়ে খিল্লি। জাতীয়তাবাদী আইকনদের নিয়ে বাজারি। দুর্গা, কালী, সরস্বতী নিয়ে উসকানি দিয়ে সেক্সুয়াল আণ্ডারটোন সমেত খিস্তিখামারি দিয়ে পোস্ট। গণেশ, কৃষ্ণ বা রাম নিয়ে খিস্তি বা খিল্লি। রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ নিয়ে পর্নোগ্রাফি লেখা। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, সরস্বতীপুজো, হোলি, দোল, রামনবমী, গণেশ চতুর্থী প্রতিটি উৎসবে হিন্দু ফ্যাসিবাদ, মূলনিবাসীর প্রতি অত্যাচার, পুরুষতন্ত্র ইত্যাদি খুঁজে পাওয়া। আরব উৎসব নিয়ে টোটাল নীরবতা। আজকাল অবশ্য দিনকাল আগের মত ভালো নয় বলে এসব পোস্ট পাবলিকলি আর হয় না, নিজেদের খোঁয়াড়ে চলে।

 

৯. মর্মস্পর্শী সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী লেখাপত্র। কীভাবে ট্রেনে সতেরোজন মাসকুলার চাড্ডির হাত থেকে এক অসহায় সংখ্যালঘুর প্রাণ বাঁচাতে রুখে দাঁড়ালেন রোগা বৃদ্ধ, কেমন করে ছোটবেলায় মেটিয়াবুরুজের ফজলুচাচা রোজ সকালে বিরিয়ানি দিয়ে যেত বাড়িতে আর রাতে জেলুসিল, সেসব প্রাণঢালা ভালোবাসার কথা। পূর্ববঙ্গকোটা এখানে ৮০%। রহিমচাচার ছেলে করিম লীগের লোকজন নিয়ে এসে দাদুকে কোপানোর সময় রহিমচাচা কীভাবে বাবা ও জেঠুকে বুকে আগলে গরুর গাড়িতে তুলে পেট্রাপোল বর্ডারে পৌঁছে দিলেন, দিদিমা আর বড়পিসিকে ভালোবেসে দেশের বাড়িতেই রেখে দিলেন তার চোখে জল আনা কাহিনী। শেষ লাইনে বাধ্যতামূলক: এর পরেও আমি কোনোদিন কাউকে ঘৃণা করতে শিখিনি। কমেন্টে বড়পিসি কেমন আছেন জিজ্ঞেস করা বা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অথেন্টিক তথ্য দেওয়া খুব রিস্কি।

 

কমেন্ট: (এটাই সবথেকে বড় বিনোদন)

কমেন্টের কিছু স্পেশাল ভাষা আছে। কমেন্টদাতারা মোটামুটি দুই ভাগের: জারগনে যায় বিভাবরী (পালিশমারা) বাম এবং শালগ্রাম (জম্বি) বাম। পরের দল যেহেতু আগের দলের পোস্ট লাইক, কপিপেস্ট, শেয়ার, শেয়ারের শেয়ার, কপিপেস্টের শেয়ার ইত্যাদি করে, কাজেই একবার দেখে চট করে আলাদা করতে পারা মুশকিল। কিন্তু একটু কথা চালালেই বোঝা যায়। প্রতিটি কমেন্টের কিছু নির্দিষ্ট রিপ্লাই দিলেই নিশ্চিতভাবে আনফ্রেণ্ড বা ব্লক খাবেন।

 

১. কিছু পেটেন্ট শব্দ মুখস্ত করে ফেলা এবং প্রতি লাইনে সেগুলোর অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার। হিন্দু ফ্যাসিবাদ, বাকস্বাধীনতা, টোটালিটারিয়ান স্টেট, নট ইন মাই নেম, প্রিভিলেজড সিসহেট সাভার্না, হ্যাভ নটস, মার্ক্স, লেনিন, রোজা লুক্সেমবুর্গ, সংখ্যাগুরুর আগ্রাসন, নিপীড়িত সংখ্যালঘু, সাচার কমিটি, সাভারকর, গোমাতা, চাড্ডিচোদ। ট্রিগার পয়েন্ট: কমিকুত্তা, বামৈস্লামিক বা আরবচাটা লিবারবাল বলে পাল্টা খিস্তি।

২. হিন্দুধর্ম আসলে ভালো। হিন্দুত্ব খুব খারাপ একটা ব্যাপার। হিন্দুরা সেকুলার হয়, সবাইকে আপন করে নেয়। এই হিন্দুত্ববাদীরা হিন্দুদের সবথেকে বড় শত্রু। ট্রিগার পয়েন্ট: হিন্দু টেক্সট থেকে সরাসরি প্রশ্ন করা।
২. সমস্ত ধর্মই খারাপ। ধর্মের সমস্ত কিছু বাতিল করে আমাদের মানুষ হয়ে উঠতে হবে। টিকি তিলক তাগা তাবিজ সিঁদুর শাঁখা পলা ঘোমটা সব ছুঁড়ে ফেলার আহ্বান। মনুসংহিতা পোড়াবার দাবি করা। ট্রিগার পয়েন্ট: বোরখা হিজাব টুপি দাড়ির প্রসঙ্গ তোলা বা আশমানি কিতাব কবে পোড়ানো হবে জিজ্ঞেস করা।
২. মূলত বড় কোন ইসলামিক মৌলবাদী হামলার পরে পরে এসব বক্তব্য বেশি আসে। কোনো ধর্মই খারাপ নয়। সব ধর্মই মানুষের কথা বলে, মানুষকে ভালোবাসার কথা বলে। কিছু খারাপ লোক আমাদের ভুল বোঝাতে চায়। ট্রিগার পয়েন্ট: আয়াত বা হাদিস তুলে প্রশ্ন করা। আনফ্রেণ্ড না, সোজা ব্লক।

৩. অশিক্ষিত দাঙ্গাবাজ কোথাকার। আগে অমুক কলেজ বা তমুক য়ুনিভার্সিটিতে চান্স পেয়ে দেখা। আপনি কী মানুষ, এত ঘৃণা নিয়ে কী করে বাঁচেন? অমুক অমুক এবং তমুক হলে আমার লিস্ট থেকে বেরিয়ে যান। ট্রিগার পয়েন্ট: পাল্টা খিল্লি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন।

৪. বড় রকম কোনো ফ্যাসাদে পড়লেই, এটা হোয়াটস্যাপ য়ুনিভার্সিটির ফেক নিউজ অথবা পেইড মিডিয়ার বানোয়াট গল্প, ডক্টরড তথ্য ইত্যাদি বলে কেটে পড়া। ট্রিগার পয়েন্ট: লাগে না। আগেই আনফ্রেণ্ড বা ব্লক হবে।

৫. কোথাও দাঙ্গাহাঙ্গামা হলেই জ্যোতিবাবু বা বুদ্ধবাবুর একটা ছবি। সাথে লেখা: মাথা ভেঙে দিন এবং/অথবা সরকার না চাইলে দাঙ্গা হয় না। ট্রিগার পয়েন্ট: দেগঙ্গা, পার্কসার্কাস বা ক্যানিংয়ের কথা জিজ্ঞেস করা।

৬. সমাজতন্ত্রই কেন একমাত্র ভবিষ্যৎ সেই মর্মে পোস্ট। আম্বানি কীভাবে আপনার বাগান থেকে গাঁদাফুল চুরি করে নিচ্ছে সে ব্যাপারে জ্ঞানদান। দারিদ্র্যের খতিয়ান। গত এক বছরে দেশের জিডিপি ৩৫% পড়ে গেছে, বিস্কুট কারখানায় ৪০ লক্ষ ছাঁটাই হয়েছে, মূল্যবৃদ্ধি ২৩০%, এমন নানারকম জটিল স্ট্যাট দিয়ে দাবি, আগামী এক বছর তিন মাসের মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতি ধ্বসে পড়বে, কারো বাড়িতে হাঁড়ি চড়বে না, পোষা কুকুরের লোম পড়ে যাবে। এই টেমপ্লেটটিই মোটামুটি ১৯৯১ সাল থেকে চলছে। অর্থনৈতিক সঙ্কটের সমাধান কী জিজ্ঞেস করলে উত্তর আসবে, বামেদের ভোট দিন। ট্রিগার পয়েন্ট: পাল্টা অর্থনৈতিক তথ্যপ্রমাণ দিয়ে কমেন্ট করা, বা প্রশ্ন করা বাম আমলেও এত দারিদ্র্য কমেনি কেন।

৭. এই হিংসা, এই অসহিষ্ণুতা, এই অনাচার, এই ফ্যাসিবাদ মর্মে বিভিন্ন কনটেম্পোরারি ঘটনার আধাসত্য, সিকিসত্য ও ডাহা মিথ্যা ছবি ও ভিডিও দিয়ে পোস্ট। যথা, জামিয়া মিলিয়ায় গুলিতে দশ হাজার ছাত্রছাত্রী নিহত, উলুবেড়িয়াতে রেললাইন আসলে সিআইএ উপড়েছে ইত্যাদি। ট্রিগার পয়েন্ট: লুপহোলগুলি নিয়ে প্রশ্ন করে নিউজ সোর্স জানতে চাইলেই ব্লকড।

 

আজকের জন্য এইটুকুই গবেষণা, বা খিল্লি (যেহেতু বাম মাত্রেই খিল্লি) রইল। পরে সময়সুযোগ করে আবার হবে।

কনক্লুশন: যাদের বাড়িতে তেলের কুয়ো আছে, তাদের পায়ের জুতোয় মধুও আছে। চাটতে ভালো লাগে।


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *