হিন্দু সংহতি

Spread the love

রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের(RSS) পূর্ণকালীন প্রচারক শ্রী তপন ঘোষ দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে প্রচারক হিসাবে সংঘের বিবিধ ক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবার পর,সংঘের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে, সমমনস্ক কিছু ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ২০০৮ সালে ”হিন্দু সংহতি” নামক এক সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হিন্দু সংগঠনের সূচনা করেন। গত ১০ বছর ধরে অনেক পরিশ্রম, অনেক লড়াই, ত্যাগ তিতিক্ষা এবং অনেকের আত্ম বলিদানের বিনিময়ে হিন্দু সংহতি আজকে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।


তপন ঘোষের অতি বড়ো সমালোচক রাও ব্যাক্তিগত আলাপচারিতায় স্বীকার করে নেয়, তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতার কথা।
কিন্তু কেন তিনি তাঁর সন্তান সম প্রতিষ্ঠান কে বন্ধ করে দিলেন ? পশ্চিম বঙ্গের আপামর হিন্দু জনসাধারণের পাশাপাশি সংহতি কর্মী দের মনেও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে আসছে, সবাই প্রচলিত ভাবনাচিন্তা থেকে নিজের মতো করে তপন দার এই সিদ্ধান্ত বোঝার চেষ্টা করছে, কিন্তু তাঁদের সেই প্রচেষ্টা ব্যার্থ হচ্ছে।আমি আমার অনুসন্ধিৎসু মন দিয়ে আপাতদৃষ্টিতে তপন দার এই দুর্বোধ্য সিদ্ধান্তের পেছনে ঠিক কি ভাবনাচিন্তা কাজ করেছে সেটা অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছি।
এটা অনস্বীকার্য যে তপন দার মাইন্ড রীড করবার মতো ক্ষমতা আমার নেই, কিন্তু সেই কঠিন কাজটা আমি আমার মতো করে করার চেষ্টা করেছি,দয়া করে আমার এই প্রচেষ্টা কে কেউ ধৃষ্টতা বলে মনে করবেন না।

আমার ভাবনাচিন্তা…..

 

আজ থেকে আনুমানিক ১৪৫০ বছর আগে আরবের মরুভূমি থেকে হযরত মুহাম্মদের নেতূত্বে ”ইসলাম” এর নামে এক ধংসাত্মক শক্তির (destructive force) উত্থান ঘটেছিল।সেই শক্তি অগ্নির উপাসক মহান পার্সি সম্প্রদায়কে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে, এই শক্তি আঘাত করেছে ইহুদি(JEWS) সম্প্রদায় কেও।
ভারতীয় সনাতন সভ্যতা ও সংস্কৃতি (হিন্দু ধর্ম),৭০০ বছরের ইসলামিক আগ্রাসনে অবলুপ্ত না হয়ে গিয়ে আজকেও যে টিকে আছে তার প্রধান তিনটি কারন হল….

(১) ছত্রপতি শিবাজীর নেতৃত্বে মহারাষ্ট্রে মারাঠা শক্তির উত্থান।

এটা ঠিক যে শিবাজী একজন দক্ষ সংগঠক এবং সাহসী যোদ্ধা ছিলেন, কিন্তু শিবাজীর সাফল্যের মূল কারণ হল তাঁর সময়োচিত সঠিক রণকৌশল। এই রণকৌশলের অভাবের জন্যেই মোগলের বিরুদ্ধে লড়াই তে সাফল্য পায় নি রাজপুত শক্তি।

(২) গুরু নানক, গুরু তেগবাহাদুর ও গুরু গোবিন্দ সিং এর নেতৃত্বে শিখ সম্প্রদায়ের উত্থান।

 

ইসলামিক আগ্রাসনকে শিখ শক্তি অনেকটা আটকিয়ে দিয়েছিল।

(৩) পলাশীর যুদ্ধে সিরাজদৌল্লার পতনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূচনা।

টিশ আগ্রাসন হিন্দু দের বিশেষ করে বাঙালি হিন্দু দের কে ইসলামের হাত থেকে সম্পূর্ণ ধংস হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল।ব্রিটিশ শাসনকালেই বাঙালি হিন্দু ইউরোপীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠে এবং সেই সময় বাঙালি হিন্দুর রেনেসাঁসের(renaissance) সূচনা হয়েছিল।এক কথায় বলতে গেলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ছিল বাঙালি হিন্দুর কাছে আশীর্বাদ স্বরুপ।

আত্মবিস্মৃত ভারতীয় তথা বাঙালি হিন্দুরা ভুলে গিয়েছিল যে পৃত্থীরাজ চৌহানের পতনের সঙ্গে-সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা সূর্য অনেক আগেই অস্তমিত হয়ে গেছিল।
পরবর্তী কালে বাঙালি হিন্দু ব্রিটিশ দের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।
অবিভক্ত ভারতে দুই বাঙলা মিলে মুসলমান ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ (৫৫ শতাংশ) এবং হিন্দুরা ছিল সংখ্যালঘু(৪৫ শতাংশ)।
কিন্তু ব্রিটিশ দের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতার লড়াইতে প্রাণ দিয়েছিল শুধু মাত্র বাঙালি হিন্দু।বাঙালি হিন্দু ব্রিটিশ পুলিশের গুলি তে মরল, ফাঁসিকাঠে প্রাণ দিল, আন্দামান সেলুলার জেলে পচে মরল।

মুসলমান সম্প্রদায় কিন্তু নিজেদেরকে এই রক্তক্ষয়ী লড়াই থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল।
একজন বাঙালি মুসলমান কিন্তু ব্রিটিশ দের গুলিতে মরে নি বা তাঁদের কেউ ফাঁসি কাঠে প্রাণ দেয় নি।
ভারতীয় মুসলমান মাত্র দুই বার ব্রিটিশ দের সঙ্গে সরাসরি লড়াই করেছিল।


(১) ১৮৫৭ সালে “সিপাহী বিদ্রোহ”।

দ্বিতীয় বাহাদুর শা জাফর কে দিল্লীর মসনদে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করবার জন্য।


(২)১৯১৫ সালে ”খিলাফৎ আন্দোলন”।

তুরস্কের খালিফা কে ব্রিটিশ রা পদচ্যুত করেছিল। তুরস্কের খালিফাকে সারা বিশ্বের মুসলমানরা নিজেদের ধর্ম গুরু বলে মনে করত,সেই কারণে ভারতের মুসলমান ব্রিটিশ দের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিল। এর সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতার লড়াই এর কোনো সম্পর্ক নেই।
অর্থাৎ এটা পরিষ্কার যে ভারতের মুসলমান শুধুমাত্র নিজেদের সম্প্রদায়ের সার্থ রক্ষা করতেই সদা সচেষ্ট ছিল।

ব্রিটিশ দের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় দের মধ্যে সব থেকে বেশি লড়াই করেছিল বাঙালি হিন্দু এবং পাঞ্জাবী হিন্দু-শিখ।
কিন্তু দেশ যখন হিন্দু দের রক্তের বিনিমেয় স্বাধীন হল কি পেল বাঙালি হিন্দু এবং পাঞ্জাবের হিন্দু-শিখ ? তাদের জমি কেটে নিয়ে জন্ম নিল মুসলমান দের দেশ পাকিস্তান।


সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তান এখন স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশ নামে পরিচিত।

স্বাধীনতার জন্যে মুসলমান রা রক্ত দিল না, কিন্তু যখন স্বাধীনতা আসন্ন তখন মুসলমান রা ঝাঁপিয়ে পরল হিন্দু নিধন যুদ্ধে, ”গ্রেট ক্যালক্যাটা কীলিং”, ”নোয়াখালি গণহত্যা” করে তারা তাদের হিস্যা আদায় করে নিল।

ব্রিটিশ সিংহের বিরুদ্ধে লড়াই করা বাঙালি হিন্দু কিন্তু তখন মুসলমান দের মোকাবিলা করতে সক্ষম হল না,কারন তারা অলরেডি তাদের সমস্ত ক্ষাত্র তেজ নষ্ট করে ফেলেছে, ব্রিটিশ রাজ শক্তির বিরুদ্ধে অসম লড়াইতে অংশগ্রহন করে। মুসলমান তাদের শক্তি বাঁচিয়ে রেখেছিল,সঠিক সময়ে ব্যবহার করার জন্যে।

দেশভাগের ফলস্বরূপ পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাঙলাদেশ) থেকে বিপুল পরিমাণ হিন্দু নিজের জমি জায়গা হারিয়ে,পরিবারের মহিলা দের সম্মান এবং নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে পশ্চিমবঙ্গে এসে আশ্রয় নিল।


পশ্চিমবঙ্গের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হল।

১৯৪৮ সালে গান্ধী হত্যার সঙ্গে ”হিন্দু মহাসভা” পুরোপুরি জড়িত হয়ে পড়ে এবং হিন্দু মহাসভা কে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।
১৯৫১ সালে হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন সভাপতি ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি জনসংঘের প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির অকাল মৃত্যুর ফলে সেই সময় বাঙলা তে গ্রহণযোগ্য হিন্দুত্ববাদী কোনো বিকল্প নেতা ছিল না।

এই সুযোগ টা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছিল কমিউনিস্ট রা, উদ্বাস্তু বাঙালি হিন্দু গিয়ে পড়ল কমিউনিস্ট দের খপ্পরে। দীর্ঘ ৩৪ বছরের (১৯৭৭ থেকে ২০১১) কমিউনিস্ট শাসন বাঙালির DNA কে প্রভাবিত করে ফেলেছে।


কমিউনিস্ট শাসনকালে বাঙলাদেশ থেকে যেভাবে ব্যাপক মুসলিম অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তার ফলে বর্ডার এরিয়াতে জনবিন্যাস (demographi) এর ব্যপক পরিবর্তন ঘটে গেছে। মালদা, মূর্শিদাবাদ এবং উত্তর দীনাজপুর এই মুহূর্তে মুসলিম জন বহুল জেলা।

২০১১ সালে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস এর ক্ষমতায়ন বাঙালি হিন্দু কে কিছুটা হলেও জাগ্রত করতে পেরেছে।
মমতা ব্যানার্জীর সময়ে হিন্দু দের উপর ঘটে যাওয়া অত্যাচারের ঘটনা গুলো সচেতন ভাবেই সামনে আনা হচ্ছে,বামফ্রন্টের শাসনকালে সাধারণ মানুষ কিছুই জানতে পারত না।
বামফ্রন্টের শাসন কালে মুসলিম রা ছিল তৎকালীন শাসক দলের ক্যাডার, মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতা দখলের সঙ্গে-সঙ্গে মুসলমান জার্সি চেঞ্জ করে হয়ে গেলো তূণমূল।
মার্কসবাদী রেজ্জাক মোল্লা এখন তৃণমূলের মন্ত্রী। মুসলমান এতদিন ধরে শাসক দল কে ব্যবহার করেছে, বর্তমানেও করছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বিজেপি কেও নিজেদের সম্প্রদায়ের স্বার্থে ব্যবহার করবে।

তপন ঘোষ মুসলমান দের এই খেলা টা অনেক দিন আগেই খুব ভালো করে ধরে ফেলে ছিলেন। মুসলমান কারো নয়, তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের স্বার্থে রাজনৈতিক দল কে ব্যবহার করছে। মুর্খ হিন্দু আশা করে বসে আছে যে বিজেপি এসে বাঙালি হিন্দু কে বাঁচাবে!
তারা ভুলে যাচ্ছে যে বঙ্গ বিজেপি তে কোনো মোদী বা যোগী নেই, এখানে সবাই ভোগী।

মোদী জী এবং যোগী জী হল হিন্দু দের সম্পদ, আর এরা হল বিপদ।
বিজেপি এবং তাদের নিয়ন্ত্রক ব্র্যান্ডেড হিন্দু সংগঠনের ক্যাডার রা কিছুই করতে পারবে না, কারণ তারা নপুংসক,তাদের মধ্য ক্ষাত্র তেজ নেই,খালি মাঠে দন্ড ঘোরাতে ঘোরাতে, বিপদের সময় আর তাদের দন্ড খাড়া হয় না।

বাঙলার সাধারণ হিন্দু সমাজের সংখ্যা গরিষ্ঠ অংশ মনে করছে যে বিজেপি ক্ষমতা তে আসলে বুঝি হিন্দু দের মৌলিক সমস্যা গুলির সমধান করে ফেলবে।
১০ বছর আগে তপন ঘোষ যে অরাজনৈতিক হিন্দু সংগঠন ”হিন্দু সংহতি” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন,বর্তমান সময়ে সেই সংগঠনের লড়াই এর অভিমুখ ঘুরে গেছে।
হিন্দু সংহতির লড়াকু কর্মী দের একাংশকে খুব সুচতুর ভাবে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল বিজেপির রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্যে ব্যবহার করবার চেষ্টা করা হচ্ছে।সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত্ নির্বাচনে বেশ কিছু জায়গায় এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।


এই রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের লড়াইতে মুসলিম রা শাসক দলের ছত্র ছায়ায় থেকে প্রশাসন কে ব্যবহার করে লড়বে। এই অসম লড়াইতে হিন্দুর লড়াকু শক্তি ধ্বংস হয়ে যাবে।
রাজনৈতিক পালা বদলের সন্ধিক্ষণে মুসলিম শক্তি আবার জার্সি চেঞ্জ করে গেরুয়া হয়ে যাবে। সাধারণ হিন্দু দের আবার মোহ ভঙ্গ হবে। কিন্তু তখন ইসলামীক জেহাদী শক্তির সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

 

আগামী ৮ বছরের মধ্যে ইসলামিক জেহাদী শক্তির সঙ্গে সম্মুখ লড়াই শুরু হয়ে যাবে।
তখন কে বাঁচাবে বাঙালি হিন্দু দের কে ? বাঙালি হিন্দু কি আবার উদ্বাস্তু হবে ?
বাঁচাবে, একমাত্র তপন ঘোষের শিক্ষা। কি সেই শিক্ষা ? তপন দা তাঁর শিষ্য দের শিখিয়েছেন যে ”মাটি কারো বাপের হয় না, মাটি দাপের হয়”। বীরভোগ্যা বসুন্ধরা।
এই মুহূর্ত শুধু মাত্র তপন ঘোষের কাছেই আছে লড়াকু বলিদানী হিন্দু শক্তি।


প্রখর বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তির চিন্তা ভাবনা যেখানে শেষ হয়ে যায়, তপন ঘোষ সেখান থেকে শুরু করেন। তপন দা দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ।
তপন দা সমাজের গতি, প্রকৃতি আগাম বুঝতে পারেন। তাই তপন দা চাইছেন তাঁর সন্তান সম লড়াকু কর্মী রা যেন রাজনৈতিক পালা বদলের যুপকাষ্ঠে অযথা বলি না হয়ে যায়। সঠিক সময়ে উপযুক্ত লড়াই দেবার যন্যে যেন এই শক্তি টিকে থাকে।

 

তাই আমার মনে হয়, তপন ঘোষ বাঙলার হিন্দু সমাজের এই অবাস্তব চিন্তার স্রোতে গা না ভাসিয়ে ”হিন্দু সংহতি” কে dissolve করে দেবার সিদ্ধান্ত নিলেন।

 


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *