ভাইরাসের জন্য আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করুন

Spread the love

করোনা ভাইরাস ধীরে ধীরে পৃথিবীর সব প্রান্তে ছড়াচ্ছে। বর্তমানে এর কোন ঔষধ নেই।শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করাই এর থেকে নিরাময়ের একমাত্র উপায়।

ক) কি কি করবেন না :

১) ময়লা ,অপরিষ্কার হাতে খাবার তৈরি করবেন না , খাবার পরিবেশন করবেন না , খাবার খাবেন না।
২) বাসি খাবার, অল্প সেদ্ধ খাবার ,ঠান্ডা খাবার ,বাজারের আঢাকা খাবার, কাটা ফল খাবেন না।
৩) বাড়ির আশেপাশে ,দোকানের আশেপাশে নোংরা জমিয়ে রাখবেন না ,নোংরা ফেলবেন না ।
৪) বাইরের থেকে কেউ এলে সঙ্গে সঙ্গে করমর্দন ,কোলাকুলি করবেন না।
৫) প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ( fast food, junc food ) সম্ভব হলে এড়িয়ে চলুন।
৬) সর্দি, কফকাশি ,জ্বর ও শ্বাসকষ্ট আছে এমন ব‍্যাক্তির খুব কাছাকাছি বা ঘনিষ্ঠ হবেন না।
৭) অযথা কাউকে ভয় বা আতঙ্কিত করবেন না।
৮) খুব প্রয়োজন না হলে ভিড় জায়গায় যাবেন না ,অযথা ভিড় করবেন না ।
৯) সর্দি, কফকাশি , জ্বর হলে ডাক্তার, হাসপাতালে যাওয়ার সময় মাস্ক না পরে যাবেন না।
১০) শরীরে ঠান্ডা লাগাবেন না।
১০) অপরিষ্কার হাতে মুখ, নাক, চোখ স্পর্শ করবেন না।
১১) অসুস্থ হলে যা কিছু এন্টিবায়োটিক খাবেন না, ডাক্তার বাবুর পরামর্শ না নিয়ে ঔষধ খাবেন না।
১২) অপ্রয়োজনে বাড়িতে , দোকানে , অতিরিক্ত ঔষধ, মাস্ক,Hand Wash , সাবান , খাওয়ার ও অত‍্যবশ‍্যকীয় পন্য জমাবেন না।


খ‍) কি কি করবেন :

১) বাড়ির গরম তৈরী করা খাবার খাবেন।
২) খাবারে আদা ও হলুদ দিয়ে খাবেন ।
৩) সকালে তুলসী পাতার রস খাবেন। যাদের ডায়াবেটিস নেই তারা মধু দিয়ে খাবেন। ত্রিফলা( আমলকী, বহেড়া, হরিতকী সমপরিমাণ ) চূর্ন তৈরী করে মধু বা গুড়ের সঙ্গে খেতে পারেন ।
৪) খাবারে ,তরকারি তে কুলেখাড়া দিয়ে খাবেন।
৫)যেসব খাবারে আয়রন, প্রোটিন ,ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও ভিটামিন সি আছে সেগুলো খাদ‍্য তালিকায় রাখবেন।
কাচকলা, বীজকলা, সবরকমের পাকা ও কাঁচাকলা, কলামোচা, বীট ,গাজর,টমেটো, ডুমুর , কুলেখাড়া, নটেশাক,মেথিশাক,ধনেপাতা সজনে শাক প্রভৃতি শাকসবজি।
কমলালেবু ,বেদানা, ডালিম ,পাতিলেবু ,গো‍ঁড়ালেবু প্রভৃতি ।
সোয়াবিন, বীন ,ছোলা,মুগ,অড়হর, মুসুর ডাল প্রভৃতি।
৬) ভেষজ ঔষধ যেমন ,তুলসী, আদা, হলুদ, গুলঞ্চ, আমলকী, অর্জুন , অশ্বগন্ধা ,নিম প্রভৃতি ঔষধ হিসাবে খেতে পারেন। এগুলি বিভিন্ন রোগ সারায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৭) যেসব শাক সবজি ফলমূল, ডালশস‍্য ভেষজ ঔষধের গাছ আমাদের কাজে লাগবে সেগুলো সংরক্ষণ করুন ,বাড়তি চাষ করুন , টবে ও জমিতে লাগান, বীজ সংগ্রহ করে নার্শারিতে দিন যাতে বেশি চারাগাছ তৈরী করে বহু জনকে লাগানোর জন‍্য দিতে পারে।
৮) নিম ,তুলসী, কর্পূর ,ফটকিরি জলে মিশিয়ে হ‍্যান্ড ওয়াস তৈরী করতে পারেন।
৯) রান্নার আগে ,খাবার পরিবেশনের আগে ও পরে ,খাবার আগে ও পরে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধোবেন ।
১০) হাঁচি বা কাশির সময় রুমাল ব‍্যবহার করুন। রোগাক্রান্ত ব‍্যাক্তির থেকে বেশ কিছু টা(১-২ মিটার) দূরত্ব বজায় রাখুন।
১১) খুব প্রয়োজন না হলে পাবলিক পরিবহন ,বাজার ,শপিং মল,সিনেমা হল এড়িয়ে চলুন।
১২) মাংস ও ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন। সবকিছু খুব ভালো করে ফুটিয়ে সিদ্ধ করে খাবেন।
১৩) বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখুন। নোংরা ও জমা জল রাখবেন না । ফিনাইল, Dettol , savlon, ফটকিরি, কর্পূর ,সাবান প্রভৃতি পরিষ্কারের কাজে ব‍্যবহার করুন।
১৪) তুলসী, নিম,গুলঞ্চ, অর্জুন, বেল,আমলকী,কুলেখাড়া, থানকুনি, গিমে , বহেড়া ,হরিতকী, অশ্বগন্ধা প্রভৃতি গাছ বাড়ির জমিতে ও টবে লাগান ।
১৫) আদা, হলুদ ,বীট, গাজর, সোয়াবিন, বীন , মুগ,মুসুর ,অড়হর ডাল ,সূর্যমুখীর চাষ করুন ।উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করুন।
১৬) মদ না খেয়ে ১০০% ইথাইল অ্যালকোহল জীবানু নাশক ও জ্বালানি র কাজে ব‍্যবহার করুন।শরীর ভালো থাকবে ,লিভার সুস্থ থাকবে মদ না খেলে। Rectified spirit বা 100% Ethyl alcohol
ডাক্তারিতে রোগীর ক্ষতস্থান পরিষ্কার করতে ,জীবাণু নাশক Hand sterilizer তৈরি তে কাজে লাগবে।
১৭) বিড়ি, সিগারেট, গুটকা,তামাক,খইনি খাবেন না এতে ফুসফুস ও মুখের নানা রোগ হয় । তার উপর করোনা আক্রান্ত হল কথাই নেই, নিজে ভুগবেন ও অন‍্যকে ভোগাবেন। তাই সমস্ত ধরনের নেশা থেকে বিরত থাকুন।
১৮) সংক্রামক রোগ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায় ,তাই বিভিন্ন উৎসব ,অনুষ্ঠান কম করুন, তারিখ পিছিয়ে দিন। কম সংখ্যক লোক নিয়ে দূরত্ব বজায় রেখে করুন। সামাজিক যোগাযোগের জায়গাগুলি ,বাস,ট্রেন,নৌকা ব‍্যাঙ্ক,এটিএম, মেট্রো রেল, স্টেশন , শৌচাগার, হাসপাতাল, টিকিট কাউন্টার ,মোবাইল ফোন , চা দোকান, Xerox center, computer centre, cyber cafe ,ঔষধ দোকান , ডাক্তারখানা সেলুন দোকান,বিউটি পার্লার, হোটেল, বাসস্ট্যান্ড , ফেরিঘাট প্রভৃতি নিরন্তর পরিষ্কার রাখুন।
২০) খুচরো লেনদেনের ক্ষেত্রে কাগজের টাকার নোটের পরিবর্তে ধাতুর কয়েন ব‍্যবহার করুন। ধাতুর কয়েন সাবান দিয়ে ধুয়ে ঘরে রাখুন ও অন‍্যকে দিন।
২১) হেলমেট, চশমা, মোবাইল ফোন, ব‍্যাগ,জলের বোতল, মানি ব‍্যাগ, যানবাহনের বসার জায়গা নিরন্তর পরিষ্কার রাখুন।
২৩) যারা দর্জির কাজ জানেন তারা স্হানীয় ভাবে কাপড়ের মাস্ক তৈরিতে উদ্যোগ নিন। মাস্ক বাতাসের ধূলোবালি ,রোগজীবাণু থেকে যেমন রক্ষা করবে তেমনি কোন সংক্রামক রোগ ছড়াতে বাধা দেবে। বহু শ্রমিক ভাইয়ের ফুসফুসকে রক্ষা করবে ,বিশেষত যারা কাঠের কাজ ,পরিবহনের কাজ ও সিমেন্ট ও পাথর কাটা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
২৩) মনে রাখবেন আপনার সততা, সচেতনতা, সৎচেষ্টা আপনাকে ,আপনার পরিবার তথা দেশ ও জাতিকে সুরক্ষিত রাখবে।

মোবাইল ফোন নয় , গাছ লাগান,ফসল ফলান ,খেলার ময়দানে ঘাম ঝরান তবেই সবাই সুস্থ থাকবো।

 


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *