বাঙ্গুর, চিত্তরঞ্জনের পরিকাঠামো নিয়ে রাজ্যকে প্রশ্ন কেন্দ্রের কমিটির

Spread the love

বাঙ্গুর, চিত্তরঞ্জনের পরিকাঠামো নিয়ে রাজ্যকে চোখা প্রশ্ন কেন্দ্রের কমিটির ! টেস্ট রেজাল্টে দেরি কেন, মৃতদেহ কেনই বা পড়ে থাকছে ওয়ার্ডে ! তারিখ:- এপ্রিল ২৪, ২০২০

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর একাধিক খামতির ব্যাপারে সরাসরি প্রশ্ন তুলল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গঠিত আন্তঃমন্ত্রক টিম।

গতকাল, বৃহস্পতিবার তাঁরা পরিদর্শন করেছিলেন রাজারহাটের চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও বাঙ্গুর হাসপাতাল। তার পর আজ শুক্রবার তাঁরা তাঁদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ জানিয়ে লম্বা একটি চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে এক,দুই করে তাঁরা পরিকাঠামো খামতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চেয়েছেন। তেমনই কিছু প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন মুখ্য সচিব রাজীব সিনহার কাছে।

এদিন মুখ্যসচিবকে জোড়া চিঠি পাঠিয়েছেন কলকাতায় আসা আন্তঃমন্ত্রক টিমের প্রধান তথা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অপূর্ব চন্দ্র। একটি চিঠিতে কোভিডে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ নিয়ে রাজ্য সরকারের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। অন্য চিঠিকে বাঙ্গুর ও রাজারহাটের হাসপাতালের পরিকাঠামোর খামতি কথা বলেছেন।

তাঁদের প্রথম পর্যবেক্ষণ হল- রাজারহাট এবং বাঙুর হাসপাতালে বহু রোগীর টেস্ট রেজাল্ট আসতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। উদাহরণ দিয়ে অপূর্ব চন্দ্র লিখেছেন, ১৬, ১৭ বা ১৮ এপ্রিল নমুনা পাঠানো রোগীদের রিপোর্ট ২৩ তারিখ পর্যন্ত আসেনি। এই বিলম্ব কেন তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে নবান্নের কাছে। তাঁদের কথায়, “এভাবে যদি দেরি হয়, তা হলে একজন কোভিড নেগেটিভ রোগী তো হাসপাতালে থেকেই আক্রান্ত হয়ে পড়বেন।”

আন্তঃমন্ত্রক টিমের দ্বিতীয় পর্যবেক্ষণ হল- বাঙ্গুর হাসপাতালে রোগী ভর্তির প্রক্রিয়া খুবই বিশৃঙ্খল। দু’জন রোগীকে তাঁরা খুবই খারাপ অবস্থায় দেখেছেন, তাঁদের কোনও মেডিকেল সাপোর্ট তখনও দেওয়া হয়নি। সেখানে সোশাল ডিস্টেন্সিংও মানা হচ্ছে না।

তৃতীয়ত- বহু রোগীকে অন্য হাসপাতাল থেকে বাঙ্গুরে রেফার করা হচ্ছে। কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে, রোগীদের নিজেদেরই বাইরে গিয়ে রিপোর্ট করতে হচ্ছে। ফলে এই ঝুঁকি রয়েছে যে অনেক রোগী দেরি করে বাঙ্গুরে পৌঁছচ্ছেন বা কেউ কেউ আর বাঙ্গুরে হয়তো যাচ্ছেনই না।

চার- বাঙ্গুরে মাত্র ১২টি ভেন্টিলেটর বেড রয়েছে। অথচ সেখানে গুরুতর রোগীর সংখ্যা ৩৫৪। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে হাসপাতালের তরফে বলা হয়, কোনও রোগীর ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দরকার হলে তাঁদের অন্য চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনও রেকর্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেননি।

প্রসঙ্গত, দু’দিন আগেই হাসপাতালের বেড সংখ্যা, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যসচিব দাবি করেছিলেন, পরিকাঠামোর দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রেখেছে। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, বাংলায় সেরা চিকিৎসা হচ্ছে।

সম্প্রতি বাঙ্গুর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। তাতে দেখা যায়, মৃত্যুর পরেও তিন জন রোগীর দেহ ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে রয়েছে। ভিডিওটি যিনি রেকর্ড করেছেন, তাঁকে বলতে শোনা যায়, কয়েক ঘণ্টা ধরে মৃতদেহ ওয়ার্ডে পড়ে রয়েছে। এ ব্যাপারে বাঙুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করেছে আন্তঃমন্ত্রক টিম। কিন্তু হাসপাতাল তাঁদের জানিয়েছে যে ডেথ সার্টিফিকেট দিতে অন্তত চার ঘণ্টা লাগে, তাই মৃতদেহ পড়ে ছিল। তবে কেন্দ্রীয় টিমের প্রশ্ন, ডেথ সার্টিফিকেট দিতে চার ঘন্টা সময় লাগে তা বোঝা গেল, কিন্তু মৃতদেহ রাখতে তো মর্গ রয়েছে।

কেন্দ্রের এই টিমের সামনে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়। সে ব্যাপারে রাজ্য সরকারের থেকে আরও কিছু ব্যাখ্যা এদিন চেয়েছেন তাঁরা।

যেমন- কলকাতায় প্রথম কোভিড পজিটিভ কেস ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ। দেশে প্রথম কোভিড টেস্টিং প্রটোকল শুরু হওয়া থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত বিদেশ থেকে যাঁরা কলকাতায় এসেছেন তাঁদের কি পরীক্ষা করা হয়েছিল। যাঁদের টেস্ট করা দরকার মনে হয়েছিল, তাঁদের সবার কি রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল ?

দ্বিতীয়ত- কেন্দ্রীয় টিমকে বলা হয়েছে, বাংলায় টেস্টের সংখ্যা গত তিন দিনে বেড়ে গড়ে প্রতিদিন ৯০০ হয়েছে। এই ৯০০ জনের মধ্যে কতগুলি রিপিট টেস্ট এবং কত জনের প্রথম বার টেস্ট হচ্ছে?

তৃতীয়ত- কেন্দ্রীয় টিমের কাছে রাজ্য সরকার যে প্রেজেন্টেশন দিয়েছে তা দেখে বোঝা যাচ্ছে প্রতিদিন যত সংখ্যায় টেস্ট করা এখানে সম্ভব তা এখন করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলায় যদি টেস্টের সংখ্যা আরও বাড়াতে হয়, অর্থাৎ দিনে আড়াই থেকে পাঁচ হাজার টেস্ট করাতে হয়, সেই পরিকাঠামো তৈরি জন্য রাজ্য সরকার কী করেছে ?

এ ছাড়াও আরও কয়েকটি প্রশ্ন তোলা হয়েছে চিঠিতে।

তবে মূল কৌতূহলের বিষয় হল, কেন্দ্রীয় টিমের এ সব প্রশ্নের জবাব কি রাজ্য দেবে ? কারণ, গতকালই মুখ্য সচিব বলেছিলেন, আমাদের যা বলার বলে দিয়েছি। আর কোনও তথ্য দিতে পারব না। এর পর যদি বাংলায় ছুটি কাটাতে চান, তা হলে থাকতেই পারেন।


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *