ARTICLE-370 and ARTICLE-35A

Spread the love

পুলওয়ামা ঘটনার পর থেকে সবাই বলছে কাশ্মীরে আর্টিকেল ৩৭০ এবং আর্টিকেল ৩৫A কে তুলে দেওয়া হোক। আজ এই এই পোস্টে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব আর্টিকেল 370 এবং আর্টিকেল 35A এর ব্যাপারে, আলোচনা করব জহরলাল নেহেরুর একটা ভুল কী ভাবে দেশকে ৭০ বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ফেলে দিয়েছে।

কাশ্মীরের আজ যে এই অবস্থা তার জন্য প্রধান কারন আর্টিকেল 370 এবং আর্টিকেল 35A. কাশ্মীরকে এই বিশেষ রাজ্যের তকমা দিয়েছে আমাদের সংবিধান। ১৪ ই মে ১৯৫৪ তে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ আর্টিকেল 35A কে যুক্ত করে সংবিধানে।
আর্টিকেল 35A আর্টিকেল 370 এর একটি অংশ। সংবিধানে কোন অনুচ্ছেদ যুক্ত করতে হলে সংসদ দের দ্বারা সংশোধনের মাধ্যমে যুক্ত করতে হয় কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর সরকার এই প্রস্তাব সংসদের সামনে রাখেই নি, সোজা রাষ্ট্রপতি ভবনে পাঠিয়ে দেয়। রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার এর মাধ্যমে একে সংবিধানে যুক্ত করে।

অর্থাৎ লুকিয়ে কার্যসিদ্ধি করেছিল নেহেরুচাচা

ARTICLE 35A

 

আর্টিকেল ৩৫ অনুযায়ী ভারতের কোন নাগরিক জম্মু কাশ্মীরে সম্পত্তি কিনতে পারবে না, বাড়ি তৈরি করতে পারবে না কিন্তু কাশ্মীরের নাগরিকরা ভারতের যে কোন রাজ্যে জায়গা কিনতে পারবে। আর্টিকেল 35A অনুযায়ী জম্মু কাশ্মীরে জন্ম হলে তবেই কাশ্মীরের স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে। তবে তার জন্য নিয়ম আছে। ১৯৫৪ সালে ১৪ ই মে এর ১০ বছর আগে থেকে সেই রাজ্যে বাস করছে এমন লোকই কাশ্মীরের স্থায়ী নাগরিক।

১৯৪৭ সালে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এসে প্রায় ৫৭৬৪ পরিবার এখানে আশ্রয় নেয় যার ৮৫% হিন্দু ও শিখ। কিন্তু আর্টিকেল 35A অনুযায়ী তাদের সন্তানরা আজও কাশ্মীরে সরকারি চাকরি করতে পারে না। কারন আর্টিকেল 35A অনুযায়ী তারা কাশ্মীরের বাসিন্দাই নয়। কোন সরকারি সুবিধা তারা পায় না। তারা লোকসভা ভোটে ভোট দিতে পারে কিন্তু পঞ্চায়েত ভোটে অংশ নিতে পারে না।

 

কী বুঝছেন – আপনার আমার মাতৃভূমিকে আপনার আমার অজান্তেই বেচে দিয়ছিল একটা পরিবার – slogan কী ছিল জানেন না ???? হাহাহাহা ~ Secularism

 

আর্টিকেল 35A অনুযায়ী জম্মু কাশ্মীরের কোন মেয়ে যদি ভারতের অন্য রাজ্যের কোন ছেলে কে বিয়ে করে তাহলে তার কাশ্মীরের নাগরিক হিসাবে সমস্ত বিশেষ অধিকার থাকবে না।

কী রক্ত গরম হয়ে গেছে তো সত্যিটা শুনে ~ But please আমরা হিন্দুরা তো মানবতার ঠেকা নিয়ে বসে আছি তাই চিৎকার করে বলুন – “মোরা এক ডিমের দুটি কুসুম …………”

ARTICLE 370

 

আর্টিকেল 370 অনুযায়ী ভারতের রাষ্ট্রপতির ও ক্ষমতা নেই কাশ্মীরের সংবিধান কে বরখাস্ত করার। আর্টিকেল 370 অনুযায়ী জম্মু কাশ্মীরের জাতীয় পতাকা ভারতের জাতীয় পতাকার থেকে আলাদা এবং এখানে আর্টিকেল 370 অনুযায়ী ভারতের জাতীয় পতাকা কে অপমান করা কোন অপরাধ নয়।

হাহাহাহাহাহাহাহা কী হল বলুন ~ “জয় Secularism এর জয়”

আর্টিকেল 370 অনুযায়ী জম্মু কাশ্মীরে IPC( Indian pinal code) কাজ করে না, এখানে RPC( Ranbir pinal code) অনুযায়ী সমস্ত কাজ হয়। ভারতের সমস্ত রাজ্যে বিধানসভার মেয়াদ পাঁচ বছর কিন্তু কাশ্মীরের বিধানসভার মেয়াদ ছয় বছর। আর্টিকেল 370 অনুযায়ী কাশ্মীরের লোকেদের দ্বিনাগরিকত্ব রয়েছে একটি ভারতের এবং আরেকটি কাশ্মীরের। আর্টিকেল 370 অনুযায়ী এখানে হিন্দু ও শিখরা সংখ্যালঘু হওয়া সত্ত্বেও কোন সংরক্ষণ ও সুবিধা পায় না।

ওয়াও-just ফাটাফাটি concept boss

জহরলাল নেহেরু ও শেখ আবদুল্লার এই আর্টিকেল 370 ও আর্টিকেল 35A প্রবর্তন এর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং জোর করে কাশ্মীরে প্রবেশ করেছিলেন ~ মুখে আসমূদ্রহিমাচল ভারতের জন্য সেই অমর দাবী “এক নিশান, এক বিধান, এক প্রধান”।

তখন নিয়ম ছিল ভারত সরকারের পারমিট ছাড়া কাশ্মীরে প্রবেশ করা যাবে না। ২০ জুন ১৯৫৩ তে শ্রীনগরের রহস্যময় ভাবে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে আর্টিকেল 35A বন্ধ করার বিষয় টি সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে। আর্টিকেল 35A কে বন্ধ করলেই ধারা 370 এর ক্ষমতা ৭০% কমে যাবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই বলছে আর্টিকেল 370 কে উঠিয়ে দেওয়া হোক কিন্তু সবাই জানেন না এর পদ্ধতি কি…. সংবিধানের ধারা 368 এর 20 তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যসভা বা লোকসভার যে কোন জায়গায় এই প্রস্তাব রাখা যেতে পারে সেক্ষেত্রে মোট সংসদের তিনভাগের দুই ভাগের সমর্থন লাগবে ~ কিন্তু সেটা যেমন সহজ নয় তেমনই অসম্ভবও নয়

জহরলাল নেহেরুর এই ভুলের খেসারত আজও ভারত কে দিতে হচ্ছে।

 

পুনশ্চ : নিশ্চিতভাবেই আপনার আমার মাতৃভূমিকে আপনার আমার অজান্তেই বেচে দিয়ছিল একটা পরিবার।


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *