16 ই আগস্ট এই দিনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা

Spread the love

16’ই আগস্ট: এই দিনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধামাচাপা কাহিনী…
কলকাতার ডাইরেক্ট একশান ডে :
গোপাল পাঁঠা এই নামটা শুনেছেন ?
না শুনলে আপনার দোষ নয়,
দোষ আমাদের স্কুলের ইতিহাস বইয়ের….

ভারত মাতার এই সুসন্তানের নাম গোপাল মুখার্জী।
যার ডাক নাম গোপাল পাঁঠা,
এই নামের কারন মেডিকেল কলেজের উল্টোদিকে কলেজস্ট্রীটের গলিতে তার একটি পাঁঠা কাটার দোকান ছিল।
পরে সেটি গোপালের মিষ্টির দোকান হয়ে যায় এবং এখন সেটি একটি খাবারের দোকান হিসেবে বেঁচে আছে।

এই গোপাল মুখার্জী ছিলেন বলে আপনি আছেন, আমি আছি, হাওড়া ব্রিজ আছে, টালার ট্যাঙ্কি আছে, শিয়ালদা স্টেশন আছে, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল আছে

আর কলকাতায় বসে বসে একচোখ বিহীন সবজান্তা ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীর দল বড় বড় লেকচার দিতে পারছেন।

কিভাবে ?

পিছিয়ে যাব অনেক গুলো বছর।
১৯৪৬ সাল। অবিভক্ত বাংলা,
দায়িত্ব পেয়েছে মুসলিম লিগ।
মুখ্যমন্ত্রীর নাম সুরাবর্দী।
তিনি জিন্নার “লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান“কে সাকসেস করার জন্য এক কঠিন ষড়যন্ত্র আঁটলেন।

ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে – ১৬ আগস্ট ভোরবেলা
মুসলমানেরা ধর্মতলা চৌরঙ্গীতে একত্রিত হলেন।
শুরু হল হিন্দু কাটা।
আল্লাহু আকবর শব্দে ভরে গেল চারিপাশ আর জ্বলতে থাকল হিন্দুদের সম্পত্তি।

রাজাবাজারে স্কুলের সামনে চারটি মেয়েকে রেপ করে মেরে উলঙ্গ করে লটকে দেয়া হয়েছিল।
সেই বিভৎসতা যে দেখেছে সেই জানে।
একই সাথে পূর্ববঙ্গের নোয়াখালিতে চলতে লাগল অত্যাচার,
মহিলাদের গনধর্ষন, শরীর থেকে মাংস খুবলে নেয়া।
সারা দিন ধরে অজস্র ঘটনার থানায় কমপ্লেন জমা পড়ল কিন্তু পুলিশ কোন স্টেপ নিল না।

এভাবে পার হয়ে গেল তিন তিনটে দিন…
পরিস্থিতি একই,
হিন্দুর লাশে গোটা কলকাতা ভরে গেল।

 

কংগ্রেসের তোষনের রাজনীতিই ছিল এর জন্য দায়ী।
আর এই ঘটনা যখন ঘটছে তখন গান্ধী আর জহরলাল চুপ করে বসে রইলেন।

তিন দিন হিন্দু হত্যার পর ক্ষেপে গেল গোপাল…
সে এমন এক অসম লড়াই লড়ল যে সুরাবর্দীর সমস্ত পরিকল্পনা বানচাল হয়ে গেল।
গোপাল আগে থেকেই অরবিন্দের ভাবশিষ্য ছিল।
সে ছিল নির্ভিক ডাকাবুকো।
একাই দশজনার সাথে লড়ার মত পেটানো শরীর ছিল তার।
৪২ এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে সে সামিল ছিল।
তার কাছে বেশ কিছু অস্ত্র ছিল।
কিছু পিস্তল, কিছু বোমা, কিছু সোর্ড।
কিন্তু কখনো তা কোন ক্রিমিনাল অ্যাকটিভিটিস এ ব্যবহার করে নি বা করতে দেয় নি গোপাল।

রডা কোম্পানীর বন্দুকের দোকান লুঠ করল গোপাল তার দলবলকে নিয়ে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এদেশে আসা আমেরিকান সৈনিকদের কাছ থেকে বোতল বোতল হুইস্কির বিনিময়ে আরো কিছু অস্ত্র জোগাড় করল গোপাল।
তার পর একত্রিত করল প্রায় হাজারখানেক হিন্দু ও শিখ ছেলেকে।

 

কিন্তু তাদের কয়েকটি কড়া নির্দেশ দিল….

 

প্রথমত,
অস্ত্রহীন মুসলমানকে মারবে না।
উলটে সে প্রোটেকশন চাইলে তাকে বা তার পরিবারকে প্রোটেকশন দেবে।

 

দ্বিতীয়ত মুসলিম মা বোনেদের দিকে মুখ তুলে তাকাবে না,
কিন্তু অস্ত্রধারী মুসলমানকে ছাড়া চলবে না,
ধড় থেকে তার মুন্ডু উপড়ানো চাই।

মাত্র দু তিন দিনে গোপালের বাহিনীর হাতে এত মুসলমান ঘাতক মরল যে সুরাবর্দীর দরবারে ত্রাহী ত্রাহী রব উঠে গেল।

হরেন ঘোষ নামে এক গানের শিক্ষক ছিলেন যিনি সুরাবর্দির বাহিনীর কলকাতার মেজর পয়েন্ট গুলো বোম চার্জ করে উড়িয়ে দেবার ষড়যন্ত্র ধরে ফেললেন।
সুরাবর্দীর মেয়েকে তিনি গান শেখাতেন,
সেখানে ছোট্ট মেয়েটি একটি কাগজ এনে হাজির করে।

উনি প্রথমে বাজে কাগজ বলে মুড়ে ফেলে দেন পরে সেটা নিয়ে চুপ করে গোপালের কাছে তার বৌবাজারের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
সেখানে হাওড়া ব্রিজ, টালার জল ট্যাঙ্ক, ভিক্টোরিয়া, শিয়ালদা স্টেশন কিভাবে বোম মেরে উড়িয়ে দেবে তার প্ল্যান করা ছিল।
গোপালের বাহিনী প্রতিটি জায়গা থেকে হামলাকারীদের হঠিয়ে দিল।
পুলিশ বেগতিক দেখে সেই জায়গাগুলোর দখল নিল।

সুরাবর্দীর সন্দেহ গিয়ে পড়ল হরেন বাবুর উপর…
এবং তার প্রান গেল মুসলিম গুন্ডাদের হাতে,
তার শরীর কেটে ছয় টুকড়ো করা হয়।

সবাই মিলে গোপালকে হাজির করল গান্ধীজীর সামনে।
গান্ধীজী বললেন গোপাল আমার কাছে তুমি অস্ত্র সমর্পন করো…
গোপাল বলল এতদিন এত হিন্দু মরছিল আপনি ঘুমাচ্ছিলেন ?
আমি আপনার কথা রাখতে পারব না।

অস্ত্র যদি জমা দিতে হয়, তবে
নেতাজী সুভাষ যদি ফিরে আসেন তার পায়ে দেব,
আপনার পায়ে নয়।
বেগতিক দেখে গান্ধী নোয়াখালী পালালো।

 

সুরাবর্দী তখন আপিলের নাটক শুরু করল যে,
দাঙ্গা বন্ধ কর সবাই ভাই ভাই।
প্রশাসন কড়া হল।
ধীরে ধীরে সব থামল।
বেঁচে গেল কলকাতা।
কিন্তু নোয়াখালী বাঁচল না,কারন…
সেখানে কোন গোপাল পাঁঠা ছিল না।

 

এই মানুষটি বেঁচে ছিলেন ২০০৫ সাল পর্যন্ত।
তাকে সমঝে চলতেন বিধান রায় সিদ্ধার্থ রায়ের মত লোকও…
একবার কলকাতা পুলিশ তাকে দুটো রুটের পারমিট দিতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, “গোপাল মুখার্জী ঘুষ নেয় না”।

 

দু-একজন সাহসী ব্যক্তি তাকে নিয়ে লিখতে চাইলেও সেটা কে ছাপতে দেয়া হয়নি।
তাকে নিয়ে বায়োপিক ও হবে না।
কিন্তু যতদিন হিন্দুস্তান থাকবে, শান্তিপ্রিয় বাঙালি আর কলকাতা থাকবে, ততদিন
একটা আত্মা এখানে চিরকাল বিরাজ করবে।

 

গোপাল মুখার্জী ওরফে গোপাল পাঁঠা।
এই লেখার মাধ্যমে আমার ছোট্ট শ্রদ্ধার্ঘ্য এই মহান ভারত সন্তানকে।
লেখক…
স্বামী আদিদেবানন্দ

👆
এই লেখা টি কোনো শ্রেণী, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের সমর্থনের উদ্দেশ্যে পোস্ট করা হয়নি,
শুধুমাত্র সত্যি ইতিহাস টা কেমন ছিলো সেটা জানাতেই এই পোস্টটি করা হয়েছে।
যে বাস্তব ঘটনাটা বিগত 72 বছরের কোন ইতিহাস টেক্সট বুকে পাবেন না।

 

আমার ব্যক্তিগত মতে
সবলের অত্যাচারের হাত থেকে দুর্বলদের বাঁচাতে,
গোপাল বাবুর দেখানো রাস্তা প্রয়োজনে অনুসরণ করা যেতেই পারে……

 

যে সকল ব্যক্তির মনে হবে যে এই ঘটনাটি কোন একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থনের জন্য গল্পটি বানানো হয়েছে,
তাদের জন্য নিচে কয়েকটি সূত্র দিয়ে দেয়া হোলো,
নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করে ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করে নিন…

সূত্র:-
1. Times of India. 25.10.2003.

2. The Hindu. 18.08.2014.

3. Khan, Yasmin (2007).
The Great Partition: The Making of India and Pakistan.
Yale University Press. p. 66. ISBN 0-300-120788.

4. Urban Roots of Indian Nationalism: Pressure Groups and Conflict of Interests in Calcutta City
Politics, 1857-1939
(Vikas Publishing House, 1979, Delhi), p. 3.

5. Suranjan Das.
Communal Riots in Bengal
(Oxford University Press, 1991), p. 22.

6. The British Library Archives, London.
See:- L/PJ/8/678.
🙏🇮🇳 Jai Hind


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *