এক দরিদ্র চাষী কাতর মিনতি

Spread the love

আমি গ্রামের এক অতি সাধারণ মানুষ। অল্প জমিতে ভাগচাষ করি, আবার দিন মজুরিও করি। কদিন আগে পাড়ার ক্লাবে টিভিতে দেখছিলাম, এক শহুরে বাবু বলছেন “লকডাউন হলে গ্রামের রোজ আনা রোজ খাওয়া মানুষগুলোর কি হবে”

আমি বলি বাবু গো আমাদের নিয়ে তোমাদের এতো চিন্তা করতে হবে না। দেশের যদি ভালো হয়, তো আমরা এইটুকু কষ্ট সহ্য করতে পারবো। আমরা দিনমজুর, বছরের সব দিন কাজ পাইনা, কত দিনই তো আমাদের বসে থাকতে হয় তবুও তো আমাদের চলে যায়। আমাদের বাড়িতে কিছু চাল আছে, কদিন আগে চাষিদের আলু কুড়োতে যাচ্ছিলাম, তারা বেতনের সঙ্গে কিছু আলুও দিতেন। বাড়িতে চার ছয় বস্তা আলুও মজুত আছে। বাড়ির উঠানে কুমড়ো গাছে কুমড়ো, লাউগাছে লাউ, কাঁঠাল গাছে এঁচোড় ধরে আছে। বাড়ির পাশের ডোবায় কলমীলতা, ডোবার ধারে নটেখেটে শাক আরো কতো কি। এসব দিয়ে আমাদের একুশ দিন কেনে তিনচার মাস দিব্যি চলে যাবে।

কিন্তু এখন দেখছি যারা আমাদের নিয়ে চিন্তা করছিল, তাদের একদিনও বাড়ি থেকে না বেরোলে চলছে না।

শহরের বাবুদের বাড়িতে দামি টিভি আছে, ঘর ঠান্ডা করা মেশিন আছে, ফ্রিজ আছে, ভরি ভরি গহনা আছে, পাঁচ আঙুলে পাঁচটা দামি পাথর বসানো আংটি আছে, দুটো দুচাকা, দুটো চারচাকা দামি গাড়ি আছে আরো কতো কি। কিন্তু বেঁচে থাকার আসল রসদ, খাবারটা যে তাদের নাই।

এরাই তো দেখি আসল “রোজ আনা রোজ খাওয়া” মানুষ।

তাইতো তারা লকডাউন ভেঙে দলে দলে বাইরে বেরোচ্ছে, আর দেশের অবস্থা ভয়ংকর হচ্ছে। এদের কাছে ধনদৌগগলত আছে শিক্ষা আছে তবুও এরা অবুঝ, দেশের দশের ভালো এরা কোনো দিনই বোঝেনি, এখন তো দেখছি নিজের ভালোও এরা বুঝতে চাইছে না। আমাদের বাড়ির ছেলেরা ভিন রাজ্য থেকে (মজদুরি করে) এসময়ে ফিরে এলে আমরা তাদের বাড়ি ডুকতে না দিয়ে গাছের ডালে মাচা করে রেখে দিতে পারি। আর উনারা আক্রান্ত হলে তা গোপন করে সমাজে মারন ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন। হায়রে শহুরে বাবু শত ধিক তোমাদের। শহরে এই মারন ভাইরাস প্রকোপ দেখালেও গ্রামে এখনো থাবা বসাতে পারেনি। হয়তো শহর থেকে গ্রামেও একদিন ছড়িয়ে যাবে এই মারন রোগ আর কোনো অপরাধ না করেও আমাদের জীবন যাবে।

তাই ঈশ্বরের কাছে আমাদের মিনতি, হে প্রভু শহুরে মানুষগুলোকে সুবুদ্ধি দাও আর রক্ষা কর এই পৃথিবীকে।


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *