পৃথিবীর ৭ টি অবিশ্বাস্য স্থান

Spread the love

7 incredible places in the world

আমাদের পৃথিবী খুবই বৈচিত্র্যময় বিচিত্র , এই পৃথিবীতে অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটে থাকে। পৃথিবীতে এমন কিছু স্থান আছে যার ব্যাখ্যা বিজ্ঞানরাও দিতে পারেনা। এইসব স্থান যতটাই অদ্ভুত ততটাই বিস্ময়কর।

The petrifying well
১.The petrifying well:-

ইংল্যান্ডে এমন একটি স্থান আছে যেখানে কোন বস্তুকে রাখলে সেটি পাথরে পরিণত হয়। এই স্থানটিতে পাথরের উপর থেকে জল ঝরে পড়ে এবং এই জলে রাখা যে কোন বস্তু পাঁচ মাসের মধ্যে পাথরে পরিণত হয়। অনেকেই এখানে বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র যেমন টেডি বিয়ার, খেলনা, পুতুল, সাইকেল ইত্যাদি রেখে যায়। কয়েক মাস পরে এসে জিনিসপত্র গুলিকে সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। সেখানে বাসিন্দাদের বিশ্বাস ছিল যে এই জল অভিশপ্ত বা কাস্ট। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন এই জলে মিনারেল এর পরিমাণ এত বেশি যেকোনো বস্তুকে এই জলে নিচে রাখলে মিনারেলের আস্তরন বা লেয়ার জমা হয়ে এই ধরনের রূপান্তর ঘটে।

The boiling river

২.The boiling river:-

আমাজনের গভীরে চার মাইল লম্বা একটি নদী রয়েছে সাইনি ডিমপ্লিকা নামে এই নদীতে জল এত গরম যে সেখানে কোন জীব জন্তু যদি এর মধ্যে পড়ে তাহলে তার সাথে সাথে মৃত্যু ঘটে। নদীটির জলের তাপমাত্রা ৯১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিজ্ঞানীরাও এ রকম ঘটনা ঘটার সঠিক কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেনি। সাধারণ জল তখনই এত গরম হয় যখন তার আশেপাশের কোন আগ্নেয়গিরি থাকে। বিজ্ঞানীর মতে নদীর তলদেশের ফাটল থেকে গরম জলের সংস্পর্শে এসে এই নদীর তাপমাত্রা এত বেশি হয়।

Never ending lighting storms

৩.Never ending lighting storms:-

ওয়েস্টার্ন ভেনেজুয়েলাতে অবস্থিত ক্যাটাটুঈ নদীর উপরে এমন একটি ঝড় এবং বজ্রবিদ্যুৎ হয় যা কখনোই বন্ধ হয় না। প্রতিদিন সন্ধ্যেবেলায় এই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়। এবং জলের মধ্যে বিদ্যুৎ আছরে পরে ।টানা ১০ ঘন্টা চলে এই ঝড় বৃষ্টি। বছরে ২৬০ দিন এই ঘটনা ঘটে থাকে। বিজ্ঞানীদের মতে এখানে থাকা ইউরেনিয়াম এটির কারণ। অনেক বিজ্ঞানী অনেক রকম ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কিন্তু কেউই এটির যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

The blue pond of hokkaido

৪.The blue pond of hokkaido:-

জাপানে হোকাইডো আইল্যান্ডের একটি অদ্ভুত লেক রয়েছে। এই লেকের বৈচিত্র ব্যাপার হল এই লেকের জলের রং। সাধারণত এই জলের রং লাল থাকে। কিন্তু বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে দেখলে এটি রং পরিবর্তন করে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে ও এই লেকের জলের রং এর পরিবর্তন ঘটে। অবাক করা বিষয় হলো যে এটি মানুষ সৃষ্ট একটি লেক। বিজ্ঞানীদের মতে এই জলে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্লোরাইড প্রটিকল থাকার ফলে এই ধরনের ঘটনা ঘটে। পৃথিবীর অন্য কোথাও এই ঘটনা দেখতে পাওয়া যায় না।

The ringing rocks

৫.The ringing rocks :-

পেনসিলভেনিয়ার পর্বত শিখরে বেশ কিছু অদ্ভুত পাথর রয়েছে। এই পাথর গুলির বিশেষ ব্যাপার হল যে এই পাথর গুলিতে আঘাত করলে বিভিন্ন ধরনের শব্দ শোনা যায়। এই পাথরগুলি কোথা থেকে এলো এবং কিভাবে এলো কেউ জানে না। যেকোনো একটি পাথরে আঘাত করলে কোন শব্দ উৎপন্ন হয় না এটি লো ফ্রিকুএন্সি সাউন্ড নির্গত হয়। যখন কয়েকটি পাথর কে একসাথে আঘাত করা হয় তখন এগুলো থেকে মিষ্টি আওয়াজ বের হয়।

Volcano with blue lava
৬.Volcano with blue lava:-

ইন্দোনেশিয়াতে একটি আগ্নেয়গিরি পাশেই একটি সালার মাউন্ড আছে। ওয়ার্কাররা যখন রাতে কাজ করতে আসে তখন তারা একটি অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পায় আগ্নেয়গিরির পাশ দিয়ে লাল রঙের উজ্জ্বল এক ধরনের তরল নির্গত হয়। অনেকেই এটিকে লাল লাভা মনে করত। কিন্তু পরবর্তীকালে জানা যায় এটি আসলে সালফার-ডাই-অক্সাইড গ্যাস যা প্রচণ্ড গরমে বাইরে বেরিয়ে আছে এবং জ্বলতে থাকে। এই গ্যাস লিকুইড সার্ভারে পরিণত হয় এবং আগ্নেয়গিরির গা বেয়ে নিচে বেরিয়ে আসে। এটি দেখে মনে হয় লাল রঙের লাভা বয়ে চলছে।

Underwater park

৭.Underwater park:-

অস্ট্রেলিয়াতে এমন একটি পার্ক আছে এটিকে দেখলে সাধারণ একটি পার্কের মতই লাগে। কিন্তু বছরে এক সময় এটি সম্পূর্ণভাবে ডুবে যায়। এবং আন্ডার ওয়াটার পার্কে সৃষ্টি করে। যা দেখে মনে হয় জলের নিচে কোন পার্ক।শীতকালে এই পার্ক এবং নিকটবর্তী হরস কোয়া পর্বত বরফে ঢেকে যায়। বসন্তকালে যখন বরফ গলে জলে পরিণত হয় হরসকোয়া পর্বত থেকে আশা গলা জল এই পার্কটিকে সম্পূর্ণভাবে ডুবিয়ে দেয়। এই সময় এই পার্কটিকে যেতে হলে আপনাকে ড্রাইভিং স্যুট পরে যেতে হবে। জলের তলায় এই পার্কে দেখতে অনেক মানুষ ছুটে আসে। গ্রীষ্মকালে এই জল ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায় এবং আগের অবস্থায় ফিরে যায়।


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *