রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদের 500 বছরের ইতিহাস

Spread the love

কার জমি ,কার অধিকার, 500 বছরের পুরনো মন্দির -মসজিদের বিতর্ক ঘিরে হত্যা হিংসা মামলা শেষ ! 2019 এ নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের রায় দান অবশ্যই ঐতিহাসিক রায় দেন ! কারণ 134 বছরে আইনি লড়াই সমাপ্ত ! বির্তকের অবসান তবে সত্যিই কি এই পথ বের করা সহজ ছিল ? তা কথায় উত্তর হবে না আর এর কারণ জানতে আমাদের জানতে হবে উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদের অজানা ইতিহাস !

সময়টা তখন 1527 খ্রিস্টাব্দ মুঘল সম্রাট বাবর অযোধ্যা আক্রমণ করে দখল নেয় ! সে জায়গার তারপর 1528 সালে গড়ে ওঠে বাবরি মসজিদ কিন্তু হিন্দু সংগঠন দাবি করতে শুরু করে সে জায়গায় মন্দির ভেঙে তৈরি হয়েছে মসজিদ !

সাল ১৮৫৩ অযোধ্যার বিতর্কিত এলাকায় প্রথম নথিবদ্ধ হিংসার ঘটনা শুরু !

তার ছয় বছর পর ১৮৫৯ব্রিটিশ সরকার একটি প্রাচীর দিয়ে দুই সম্প্রদায়ের উপাসনা প্রার্থনা জায়গা আলাদা করে দেয় !

সাল ১৮৮৫ বিতর্কিত জমির উপর চাঁদোয়া টাঙ্গাতে চেয়ে মহন্তর রঘুবীর দাস ফৈজাবাদের জেলা আদালতে মামলা করে ! তবে আর্জি খারিজ করে দেয় আদালত !

সাল ১৯৪৯ স্বাধীনতার দুই বছর পর 22 ডিসেম্বর রাতে মসজিদের ভিতরে রেখে আসা হয় রামলাল আর মূর্তি এবং মসজিদের বাইরে গম্বুজের স্থাপন করা হয় রামলাল আর মূর্তি ! ভগবান প্রকট হন হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে কিন্তু পরের বছর ১৯৫০ সালে ফৈজাবাদ জেলা আদালতের নির্দেশে মসজিদে তালা পড়ে বন্ধ হয়ে যায় মূর্তি দর্শন !

সাল ১৯৫৯ বিতর্কিত জমির মালিকানা চেয়ে মামলা করে নির্মোহী আখড়া ! তার দুই বছর পরেই আদালতে পাল্টা জমির মালিকানা দাবি করে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড !

১৯৮৬ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি বাবরি মসজিদে তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয় স্থানীয় আদালত ! শুরু হয় রামলালা দর্শন !শুরু হয় বাবরি মসজিদ একশন কমিটি ! ১৯৯০ এর ২৫ সেপ্টেম্বর রাম মন্দিরের দাবিতে সোমনাথ থেকে অযোধ্যা রথযাত্রা শুরু করেন লালকৃষ্ণ আদভানি তারপর !

১৯৯২এর 6 ডিসেম্বর করসেবকদের হাতেভাঙা হয় বাবরি মসজিদ ! তারপর অযোধ্যা জমি মামলার সঙ্গে যোগ করা হয় বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলা ! নিম্ন আদালতে ৬ডিসেম্বরে ঘটনার বিচার শুরু হয় !

সাল ১৯৯৩ বিতর্কিত জমি অধিগ্রহণ করতে কেন্দ্র পাস করল একিউ জেসান অফ সাটিন এরিয়া এক্ট ! অযোধ্যায় তারপরে বছরই সুপ্রিম কোর্ট জানায় ইসলাম ধর্মের অখন্ড অংশ নয় মসজিদ ! তারপর 2002 এর এপ্রিলে এলাহাবাদ হাইকোর্ট এ চলে যায় অযোধ্যা জমি মামলা !

2003 সালে 13 ই এপ্রিল আসলাম ওরফে ধুরের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় ! বিতর্কিত জমিতে কোন ধর্মীয় কার্যকলাপ করা যাবে না !

সাল 2010 এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানায় অযোধ্যার জমি রামলালা সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও নির্মহি আখড়ার মধ্যে তিন ভাগে ভাগ করে দেয়া হবে !

সাল 2011 এলাহাবাদ হাইকোর্টের রাইকে স্থগিত আদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট ! এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে 14 টি আজী জমা পড়ে !

সাল 2017 তৎকালীন প্রধান বিচারপতি জে এস কেহর আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে জমি বিতর্কে মীমাংসার কথা বললেও কোনো লাভ হয়নি ! ওই বছরই সুপ্রিমকোট তিন সদস্যের বেঞ্চ গঠন করল !

সাল 2018 শুরু হল ফৌজদারি শুনানি রায়দান স্থগিত রইলো নতুন করে শুনানির কথা জানালো সুপ্রিমকোর্ট !

2019 এর 4 জানুয়ারি থেকে শুনানির লক্ষ্যে আবেদন জমা নেয়া সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট !

2019 এর 29 শে জানুয়ারি বিতর্কিত জমির 67a কর মালিককে ফিরিয়ে দিতে সুপ্রিম কোর্টে গেল কেন্দ্র মধ্যস্থতায় !

রাজি হল সুপ্রিমকোর্ট কিন্তু একের পর এক জোটে মধ্যস্থতা থেকে সরে আসে ! তারপর 6 আগস্ট থেকে মামলার দৈনিক শুনানির সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট !

6 আগস্ট থেকে শুরু হলো শুনানি এবং শেষ হলো 16 ই অক্টোবর ! দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিল 17 ই নভেম্বর এর মধ্যে হবে রায়দান !

তারপর 9 নভেম্বর 2019 ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে 500 বছরের বিতর্কের ইতিহাস সমাপ্ত করল সুপ্রিম কোর্ট !

সর্বোচ্চ রায় বলা হল অযোধ্যার কোন ফাকা জায়গায় তৈরি হয়নি বাবরি মসজিদ ! ওই স্থান এর নিচে কোন প্রাচীন কাঠামো ছিল যেটা ইসলামিক স্থাপত্য নয় ! তাই বিতর্কিত জমির পুরোটাই রামলালার অংশ হিসাবে ! ওখানেই তৈরি হবে বহু প্রতীক্ষিত রাম মন্দির ! আর সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী অযোধ্যাতে অন্য কোন জায়গায় ওই বিতর্কিত জমির প্রায় দ্বিগুণ জমি কেন্দ্র থেকে দেয়া হবে মুসলিম সম্প্রদায়কে ! যার উপর তারা মসজিদ তৈরি করতে পারবে !


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *