বিশ্বের ৫ টি নিষিদ্ধ দ্বীপ

Spread the love

5 forbidden islands in the world

ছোটবেলা থেকেই আমরা অনেকেই পুরো পৃথিবী ভ্রমণ করার স্বপ্ন দেখে থাকি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত যাতায়াত করা এখন আর কোন একটি বড় বিষয় নয়। কিন্তু আমাদের পৃথিবীতে এমন কিছু জায়গা আছে যেসব জায়গা আপনি কখনোই নিজের চোখে দেখতে পারবেন না এবং যেতেও পারবেন না। এমনই কিছু নিষিদ্ধ দ্বীপ সম্পর্কে জানবো আজকে আমাদের এই আলোচনায়

 Kimada Grande Island
১. কিমাডা গ্রান্ডে দ্বীপ:-

ব্রাজিলের সাও পাওলো উপকূলের থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অপরূপ এ দ্বীপটি মূলত সাপের অভয় অরণ্য। সাড়ে চার বর্গকিলোমিটার আয়তন জুড়ে এই দ্বীপটি অবস্থিত। এই দ্বীপ টিতে প্রায় হাজার প্রজাতির সাপ রয়েছে। এ দ্বীপের আনাচে-কানাচে শুধু সাপ দেখতে পাওয়া যায়। এ দ্বীপের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সাপ হল গোল্ডেন ল্যান্সহেড। এ সাপের কামড়ের সাথে সাথে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। এর বিষ অন্যান্য বিষধর সাপের বিষ এর চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি শক্তিশালী।সাপের দ্বীপ হিসাবে পরিচিত কিমাডা গ্রান্ডে দ্বীপ এ প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ব্রাজিল সরকার।

Guinard Island
২. গুইনার্ড দ্বীপ:-

১৯৪২ সালে ব্রিটিশ সরকার জীবাণু অস্ত্র পরীক্ষার জন্য দ্বীপ টি স্কটল্যান্ড এর কাছ থেকে কিনে নেয়। সাইবেরিয়ান প্লেগ রোগের একটি পরীক্ষা চালানোর সময় দ্বীপ টিতে এক ধরনের অ্যানথ্রাক্স রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে ফলে দ্বীপের প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রাণী মারা যায়।১৯৮০ সাল পর্যন্ত গুইনাড দ্বীপ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এর মধ্যে শীর্ষে ছিল। ১৯৮৬ সাল থেকে বিজ্ঞানের দ্বীপটিকে জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। ১৯৯০ সালে দ্বীপ টিকে ব্রিটিশ সরকার নিরাপদ ঘোষণা করলেও এখনো পর্যন্ত কেউই এই দ্বীপটিতে ভ্রমণে যায়নি। গবেষকদের ধারণা এই দ্বীপে সাইবেরিয়ান প্লেগ রোগের জীবাণু এখনও ছড়িয়ে আছে।

Sergey Island
৩. সার্জি দ্বীপ:-

১৯৬৩ সালে নর্থ আটলান্টিক সাগরে আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এই দ্বীপটি তৈরি হয়েছে আইসল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত এই দ্বীপের ভূমি সবচে নবীনতম ভূমি হিসেবে পরিচিত। আইসল্যান্ড তার কঠোর পরিবেশ এর জন্য বিখ্যাত। নতুন এ দ্বীপটিরক্ষেত্রেও তার কোন ব্যতিক্রম হয়নি। এই দ্বীপের আয়তন মাত্র ১ বর্গ কিলোমিটার। নবগঠিত এই দ্বীপের জীব বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক বাসস্থান কোন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য দ্বীপটিতে সকলের এমনকি বিজ্ঞানীদেরও প্রবেশ নিষেধ।

Poveglia Island
৪. পোভেগলি দ্বীপ:-

ইতালির এ দ্বীপ টির পর্যটক এর জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ দ্বীপের ইতিহাস খুবই করুণ। ১৬ শতকের প্লেগ মহামারী সময় ভেনিসের অসংখ্য প্লেগ আক্রান্ত রোগীকে এ দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়। এবং এসব রোগীদের কে একসাথে করে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয় যাতে করে তাদের রোগ অন্য কারোর কাছে না ছড়িয়ে পড়ে। এ দ্বীপটি তখন থেকেই গেটস অফ হেল বা নরকের দরজা নামে পরিচিত। তখন থেকেই মূলত এ দ্বীপে কেউ যেতে চায় না। স্থানিয় জেলেরাও কখনোই দ্বীপে যেতে চায়না। এমনকি এ দ্বীপে যাওয়ার জন্য কোন কোন নৌকো পাওয়া যায় না।

North Sentinel Island
৫. উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপ:-

বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ এর অংশ উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপ এ দ্বীপ কাগজে-কলমে ভারত দেশের অন্তর্ভুক্ত। উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপের অধিবাসীরা বাইরের জগতের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায়না। বিজ্ঞানীদের মতে দ্বীপ টির বাসিন্দারা প্রায় ৬০ হাজার বছর ধরে অন্য সকল সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ দ্বীপে বাইরে কেউ প্রবেশ করলে সেন্টিনাল বাসী তীর বল্লম ছুড়ে মারে। ভারত সরকার এ দ্বীপে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

 


Spread the love

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *